৭৫-এর নভেম্বর: রক্তাক্ত ও উত্তাল কয়েকটি দিন

প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

৭৫-এর নভেম্বর: রক্তাক্ত ও উত্তাল কয়েকটি দিন

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: স্বাধীনতার মাত্র চার বছর পর ১৯৭৫ সালের আগস্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় তারই চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের সূচনা

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর এর সাথে যুক্ত মেজরদের সাথে নিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমেদ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তবে খন্দকার মোশতাক সামনে থাকলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সেনা কর্মকর্তারা ছিলেন প্রবল ক্ষমতাশালী।

সেসময় বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করা হলেও শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সাথে জড়িত কয়েকজন মেজর বঙ্গভবন থেকে সেনাবাহিনীর অনেককিছুই নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।

এর তিন মাস পরেই নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যে অভ্যুত্থান এবং পাল্টা অভ্যুত্থানটি হতে যাচ্ছিল তার প্রেক্ষাপটটি তৈরি হয়েছিল ক্ষমতার এই রক্তাক্ত পালাবদলের মধ্য দিয়ে।

অভ্যুত্থানের কারণ নিয়ে বেশ কিছু ব্যাখ্যা থাকলেও সেনাবাহিনীর তৎকালীন অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর থেকেই সেনাবাহিনীতে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তারই ফলাফল হলো নভেম্বরের অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান।

জুনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন সেনাবাহিনীর মধ্যে অনেকেই গ্রহণ করতে পারেননি। এর বাইরে আরেকটি দ্বন্দ্বও ছিল, যার সূচনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই।

সেনাবাহিনীর ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্ব

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিনজন অফিসার ব্যাপক পরিচিতি পান। যুদ্ধের পর থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে এই তিনজন অফিসারের তিনটি প্রভাব বলয় তৈরি হয়েছিল। তারা হলেন জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশারফ এবং কে এম শফিউল্লাহ। দ্বন্দ্বটা আগেও ছিল, কিন্তু সেটা প্রকট হলো কলঙ্কিত হত্যাকাণ্ডের পর। ১৫ আগস্টের দিন দশেক পর সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহকে। এরপর থেকে তিনি আর দৃশ্যপটে ছিলেন না এবং অনেকটা গৃহবন্দী হিসেবেই ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন জেনারেল জিয়া। এদিকে জিয়াউর রহমানের উত্থানকে মেনে নিতে পারলেন না ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ। দুজনের দ্বন্দ্বটা আরো বাড়লো।

ওইসময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত অফিসারদের মতে, নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ খালেদ মোশারফ এবং জিয়াউর রহমানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের একটি ফলাফল।খালেদ মোশারফ নিজের উত্থানে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে জিয়াকে চিহ্নিত করে তাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে নিজের অধীনস্থ বাহিনী নিয়ে জিয়াকে আটক করে গৃহবন্দি করেন এবং নিজেকে চিফ অব আর্মি হিসেবে ঘোষণা করেন। সেনাবাহিনীতে জাসদের একটি প্রভাবশালী গোপনবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন কর্নেল তাহের। কট্টর মুজিববাদি খালেদ মোশারফের সেনাপ্রধানে পদ দখল করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র মতবাদে বিশ্বাসী কর্নেল তাহেরের গণবাহিনী। ৭ নভেম্বর এই বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা অভ্যুত্থান করে জিয়াকে মুক্ত করে। ঘটনা পরম্পরায় লাইম লাইটে চলে আসেন জিয়াউর রহমান, আড়ালে চলে যান তাহের।

অভ্যুত্থান এবং ৩ নভেম্বর জেল হত্যাকাণ্ড

নভেম্বরের ৩ তারিখের প্রথম কয়েকটি প্রহরে বাংলাদেশের ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে দেয়ার মতো দুটি ঘটনা ঘটে- একটি অভ্যুত্থান এবং ঢাকা কারাগারে একটি হত্যাকাণ্ড। মধ্যরাত পার হবার পরই খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হয়। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বঙ্গভবন ঘেরাও করার জন্য যায় একটি ইনফ্রেন্টি ইউনিট, রেডিও স্টেশন দখল করে নেয় আরেকটি সেনাদল।

সেনাবাহিনীতে কর্মরত তৎকালীন অফিসাররা জানান, বঙ্গভবন ঘিরে তখন এত বেশি সেনা সমাবেশ হয়েছিল যে ভেতরে থাকা মেজর ডালিম এবং মেজর নুরসহ সেনা কর্মকর্তারা আর পাল্টা কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আর এরই মধ্যে আকাশে যুদ্ধবিমানও উড়তে দেখা যায় বঙ্গভবনে অবস্থান নেওয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত অফিসারদের আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেদিন সকাল থেকেই একটি সমঝোতার চেষ্টা চলছিল। মেজর ডালিম এবং মেজর নুর বেশ কয়েকবার ক্যান্টনমেন্টে এসে খালেদ মোশারফের সাথে দেখা করেন। দিনভর নানা দেন-দরবারের পর সন্ধ্যায় ঠিক হলো তাদেরকে দেশ থেকে চলে যেতে দেয়া হবে।

ওইদিন রাতেই একটি এয়ারক্রাফ্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সাথে জড়িত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাদের একটি বিমানে থাইল্যান্ডে চলে যেতে দেয়া হয়।

এদিকে সেই রাতেই কেন্দ্রীয় কারাগারে চলে জঘন্য হত্যাকাণ্ড। কয়েকজন সেনাসদস্যের হাতে খুন হন ১৯৭১ সালের প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, তৎকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন জেলার আমিনুর রহমান বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, রাত একটা থেকে দেড়টার দিকে একটি পিকআপে করে কিছু সেনাসদস্য জেলগেটে উপস্থিত হন। এ সময় আইজি প্রিজনের ফোন পেয়ে তিনিও সেখানে যান। এর কিছুক্ষণ পর তার কার্যালয়ের টেলিফোনটি বেজে ওঠে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রপতির পদ দখল করা মোশতাক আহমেদ আইজিকে আদেশ দেন, আর্মি অফিসাররা যা চায় সেটা তোমরা করো।

গভীর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজির হওয়া সেনাসদস্যরা কারা মহাপরিদর্শকের হাতে চারজনের নাম লেখা একটি চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে বলেন, এদেরকে এক জায়গায় করো। সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দীন সাহেব ছিলেন এক রুমে আর ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান ছিলেন অন্য রুমে। মুক্তিযুদ্ধের চারনেতাকে এককক্ষে জড়ো করা মাত্রই ব্রাশফায়ারে তাদের হত্যা করা হয়। জেলহত্যার ওই ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে জানাজানি হয়নি। ঘটনাটি সেনা অফিসারদের কাছে পৌঁছে ৪ নভেম্বর সকালের দিকে।

সক্রিয় হয়ে ওঠে জাসদের গণবাহিনী

৩ নভেম্বরের পরের কয়েকটি দিন কার্যকর দেখা যায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জাসদের গণবাহিনীকে। কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বাধীন এই গণবাহিনী পরবর্তী অভ্যুত্থানে একটি মূল ভূমিকা পালন করে। জিয়াউর রহমান বন্দি হওয়ার আগে ফোন করে কর্নেল তাহেরকে জানান, খালেদ মোশারফ তার বাহিনী নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে।জিয়া আরও জানান, তার জীবন বিপন্ন। খালেদ মোশারফের তাকে হত্যা করতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধে একটি পা হারানোয় পঙ্গু হয়ে যাওয়া কর্নেল তাহের সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নেন ১৯৭২ সালে। এরপর থেকে তিনি সরাসরি জাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। এরই মধ্যে গঠিত হয় সেনাসদস্যদের নিয়ে সৈনিক সংস্থা এবং গণবাহিনী, যদিও বিষয়গুলো তখনো প্রকাশ্য ছিল না।

ওই সময় সেনাবাহিনীতে থাকা সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, নভেম্বরের ৩ তারিখেই কর্নেল তাহের নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন এবং এরপর থেকেই সৈনিক সংস্থার সদস্যরাসহ সেনাসদস্যরা তার সাথে দেখা করতে শুরু করেন।

খালেদ মোশারফ ক্ষমতা হাতে নিলেও দ্রুতগতিতে কোন সরকার গঠন করতে পারেননি। এর মধ্যেই অনেকটা অগোচরে ঘটে যায় জেল হত্যাকাণ্ড। এসব মিলিয়ে অনেকটা ‘সরকারহীন’ অবস্থার মধ্যে ছিল কয়েকটি দিন।

এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরের ৫ এবং ৬ তারিখে গণবাহিনী আরো সক্রিয় এবং সংগঠিত হয়ে উঠতে শুরু করে। কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা চলতে থাকে। গণবাহিনী যে একটি কিছু করতে যাচ্ছে সেটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে ৬ নভেম্বর বিকেলে ক্যান্টনম্যান্টের ভেতরে গণবাহিনীর নামে একটি লিফলেট ছড়ানোর পর। ওই লিফলেটে খালেদ মোশারফ, শাফায়াত জামিল এবং কর্নেল হুদাকে ‘ভারতীয় চর’ বলে প্রচার করা হয়।

এরই মধ্যে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে প্রেসিডেন্ট হিসেব শপথ পরানো হয়। কিন্তু প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীতে ঠিক কী হচ্ছে তা নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল। এই বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে যখন ৬ তারিখ রাতে এই লিফলেট জওয়ানদের মধ্যে ছড়ানো হলো তখনি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেলো যে গণবাহিনী নামে একটি ফোর্স ক্যান্টনমেন্টের ভেতর কাজ করছে।

গণবাহিনীর বিদ্রোহের মূল পরিকল্পনাটি হয় ৬ তারিখ সন্ধ্যায়। একটি হলরুমের মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রায় ৬০-৭০ জন সদস্যকে নিয়ে করনীয় ঠিক করেন কর্নেল তাহের। সেখানেই প্রত্যেকের কাজ ভাগ করে দেয়া হয়। দলীয়ভাবে জাসদের সিদ্ধান্ত ছিল প্রস্তুতি নিয়ে ৯ নভেম্বর অভ্যুত্থান হবে। কিন্তু ক্যান্টনমেন্টের পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সেই রাতেই বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

৭ নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থান

৭ নভেম্বর দিবাগত রাতেই শুরু হয়ে যায় পাল্টা অভ্যুত্থান। যার পুরোভাগে ছিল সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। সৈনিকদের মধ্যে স্লোগান উঠছিল ‘সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, জেসিও ছাড়া র‍্যাংক নাই’।

স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীর পরিবর্তে রক্ষীবাহিনীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সাধারণ সিপাহীদের মধ্যে একটা হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল। তারা ভাবছিল অফিসাররা তাদের ব্যবহার করে উচ্চপদে উঠছে কিন্তু তাদের কথা কেউ চিন্তা করে না। তাই গণবাহিনীর বিদ্রোহকে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই মনে করে দলে দলে তাতে যোগ দেয়। সিপাহীদের হাতে নিহত হন মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফ, এ টি এম হায়দার, নাজমুল হুদা।

৭ নভেম্বর রাতে তারা মুক্ত করে আনে জিয়াউর রহমানকে।যদিও পরে দাবি করা হয়, জিয়াকে গণবাহিনী মুক্ত করতে পারেনি, তাকে বন্দিদশা থেকে বের করে আনে ফোর বেঙ্গল আর টু ফিল্ড রেজিমেন্ট।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জিয়া-তাহের দ্বন্দ্ব

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ওই সময় সেনাবাহিনীতে মেজর পদে কর্মরত ছিলেন। ৭ নভেম্বরের পরবর্তী ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানান,পরদিন সকালেই গণবাহিনীর সদস্য এবং কিছু সেনাসদস্যসহ সেনানিবাসের আর্মি হেডকোয়ার্টারে কর্নেল তাহের আসেন এবং জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন । এরপর জিয়াউর রহমানের সাথে কথা বলার সময় একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কিছু উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়।

ওই সময় সেখানে অবস্থান করা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত জানান, তাহের চাচ্ছিলেন জিয়াউর রহমান রেডিওতে গিয়ে গণবাহিনীর ১৩ দফা ঘোষণা করবেন এবং বলবেন যে তিনি এসব দাবি মেনে নিয়েছেন। এরপর সিপাহী-জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে সেই দাবি মেনে নেয়ার কথা জানাবেন। কিন্তু জিয়া শোনেননি তাহেরের কথা। ঘটনা পরম্পরায় লাইম লাইটে ওঠে আসে জিয়াউর রহমান আগেই তার ভাষণ রেকর্ড করে রেডিওতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।যেখানে গণবাহিনীর বিষয়টি একদমই ছিল।এখান থেকেই তাহের আর জিয়ার মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

ওই সময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত একাধিক অফিসার জানান, ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের সময় জওয়ানদের সাথে অনেককে অস্ত্রসহ বেসামরিক পোশাকেও অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। তবে ঐ অভ্যুত্থানে জাসদের গণবাহিনী তাদের বেসামরিক সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। তাছাড়া পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি গণবাহিনী। কথা ছিল সৈনিকরা জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এলিফেন্ট রোডে নিয়ে আসবে। সেখানেই একটি বাসায় কর্নেল তাহেরসহ জাসদের নেতারা অবস্থান করছিলেন। কিন্তু গণবাহিনী সেটা করতে পারেনি। বরং বিভিন্ন ফ্রন্টের সাধারণ সৈন্যরা ঘটনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

৭ নভেম্বর অভ্যুত্থানে রংপুর থেকে ঢাকায় আসা কর্নেল কে এন হুদার নেতৃত্বে ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা হত্যা করে খালেদ মোশাররফ, কর্নেল কে এন হুদা এবং ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল এ টি এম হায়দারকে। খালেদ মোশারফকে কার নির্দেশে এবং কেন হত্যা করা হয়েছিল তার কোন সুনির্দিষ্ট তদন্ত হয়নি এবং সেই হত্যার কোন বিচারও এখনো পর্যন্ত হয়নি।

ক্ষমতার কেন্দ্রে জিয়াউর রহমান

৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমানের রেডিও ভাষণে গণবাহিনীর কথা উল্লেখ না থাকায় জাসদ তথা গণবাহিনীতে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। অভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকা চাপা পড়ে যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা জন্মে যে, এটি পুরোপুরিই জিয়াউর রহমানের একক অভ্যুত্থান। ফলে মতার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়া।

এর কিছুদিন পর ২৪ নভেম্বর সেনাবাহিনীতে গোপন সংগঠন গড়ে তোলার দায়ে কর্নেল তাহেরকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে সামরিক আদালতে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। জিয়াউর রহমানে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার পথটি হয়ে ওঠে নিষ্কণ্টক।

সিলেটপ্রেসডটকম /০৭ নভেম্বর ২০১৯/ কামরুজ্জামান 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •