হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলা: ৭ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড, খালাস ১

প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলা: ৭ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড, খালাস ১

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মামলার আরেক আসামি নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ২০১৬ সালের ১ জুলাই ওই জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সবাই এসময় উপস্থিত ছিলেন।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশিদ ও শরিফুল ইসলাম।বিচারক রায় ঘোষণার সময় বলেন, আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই হামলা চালানো হয়েছিল। এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তামিম। এই রায়ে ন্যায় বিচারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।তিন বছরের বেশি সময় ধরে ৫২ কার্য দিবসে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা, রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক, পক্ষ-বিপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ১৭ নভেম্বর আদালত জানান, ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করা হবে।২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে নয়টার দিকে রাজধানীর গুলশানের দুই নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কের পাঁচ নম্বর বাড়ির হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় জঙ্গিরা। এই ঘটনায় পরের দিন সন্ত্রাস দমন আইনে, গুলশান থানায় মামলা করেন গুলশান থানার এসআই রিপন কুমার দাস। মামলার তদন্ত করেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির।হামলাকারী হিসেবে অংশ নেন মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ওরফে মামুন, নিবরাজ ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। (সবাই অভিযানে নিহত)।হামলায় বিদেশিদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয় নিহত হন। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন ইশরাত আকন্দ, ফারাজ আইয়াজ হোসেন ও অবিন্তা কবীর নিহত হন। নিহত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার ওসি মো. সালাহউদ্দিন খান। এই ঘটনায় ভোরে কমান্ডো অভিযান শেষে জীবিত উদ্ধার করা হয় নারী-শিশুসহ ১৩ জনকে।২০১৮ সালের ২৩ জুলাই এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। হামলায় জড়িত মোট ২১ জনকে চিহ্নিত করা হলেও জীবিত আটজনকেই কেবল আসামি করা হয়।এই হামলায় জড়িত, অভিযানে নিহত হন তামিম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, সরোয়ার জাহান, তানভীর কাদেরী, বাশারুজ্জামান চকলেট, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ছোট মিজান ও রায়হানুল কবির রায়হান। আদালতে ৬ আসামি দিয়েছেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। জবানবন্দি দেননি শরিফুল ও মামুনুর।২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় একই বছরের ৩ ডিসেম্বর। প্রথম সাক্ষ্য দেন বাদী এসআই রিপন; মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর।

সিলেটপ্রেসডটকম /২৭ নভেম্বর ২০১৯/ এফ কে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •