সড়ক আইন প্রয়োগ বাস্তায়ন ও পচার প্রচারনা জনসচেতনতার মাধ্যমে রোধ করা যেতে পারে মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৯

সড়ক আইন প্রয়োগ  বাস্তায়ন  ও পচার প্রচারনা  জনসচেতনতার মাধ্যমে রোধ করা যেতে পারে মৃত্যুর মিছিল

জুলহান চৌধুরী :: চোখ খুললে প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক- দুর্ঘটনা ও প্রানহানীর খবর দেখেতে পাই। দিন দিন যেন এর মাত্রা বেড়েই চলেছে। সংবাদ পত্র ও গন মাধ্যমে যে সমস্ত খবর প্রচার হয়ে থাকে তার বাহিরে ও ঘটে থাকে অনকে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে সমস্ত দুর্গটনা ঘটে থাকে তার সব কটির সংবাদ সংগ্রহ করা বা ছাপানো সম্ভব হয় না। রাজধানী ঢাকা সহ হাইওয়ে, দুরপাল্লার সড়ক গুলোতে যে সমস্ত দুর্ঘটনা সংগঠনটিত হয় তার সংবাদ ও বিভিন্ন সংবাদ পত্রে টেলিভিশনে ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম গুলোতে প্রচার হয়ে থাকে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছোট বড় সড়ক গুলোতে দুর্গটনা ঘটে থাকে এতে যেমন জানমালের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি ক্ষতি হচ্ছে সম্পদের। শুধু দুর পাল্লার হাই ওয়েতে নয় রাজধানীতে ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত। শুধু রাজধানী ঢাকা বিমানবন্দর সড়ক বা রাজধানীর বহিরে ঘটছে দুর্ঘটনা তাথে নিহত বা আহত হচ্ছেন প্রতিদিন। দেশের পরিসংখ্যান জরিপ করলে দেখা যাবে নানা কারনে সংগঠনটিত সড়ক দুর্গটনার সংখ্যা যেমন বিশাল তেমনি নিহত,আহত পঙ্গুত্বের সংখ্যা কয়েক হাজারেরর বেশি।
গত ২২ অক্টোবর দৈনিক সিলেট মিরর পত্রিকার লিড নিউজ ছিল “চার বছরে ২৯ হাজার ৩ শ ১৫ জনের মৃত্যু”সংবাদে প্রকাশ দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার মানুষের প্রানহানী ঘটেছে।পঙ্গুত্ব হয়ে জীবন পার করছেন ৬৯ হাজার ৪২৮ জন যাদের বাকী জীবন এভাবেই কাটাতে হবে। মারা যাওয়া পরিবারের সদস্যরা খুব কমই ক্ষতিপুরন পান। আর চালক বা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যাক্তিদের সাজা ও কম হয়। এমন ই যখন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতে চলেছে ঠিক সেই মুহুর্তে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করতে হয়েছে সরকারকে। যা ১ পহেলা নভেম্বর ২০১৯ থেকে কার্যকর হলো। বর্তমান আইনে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। যা চালু থাকলে হয়তো দুর্ঘটনার মৃত্যুর মিছিল কিছুটা হলে ও লাগব হবে। এ আইনে বেশ কিছু ফিটনেস বিহিন গাড়ী সড়ক
থেকে বাদ পড়বে। আর এজন্য এটাই খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোন কারনে কোন অসৎ ব্যাক্তি বা প্রতিষ্টানের দ্বারা যেন মানহীন গাড়ী গুলোকে যে মানসম্পন্ন করে না তুলে। কারন দুষ্ট লোকের তো আর আমাদের দেশে অভাব নেই তাই। যদি আইন যেভাবে হয়েছে ঠিক সেভাবে সচল থাকে তবে অযোগ্য ড্রাইভারের হাতে আর কেউ গাড়ী তুলে দেবে না। প্রকৃত ড্রাইভার যে তাকে মালিক গাড়ী চালাতে দিলে সেও বুঝে নেবে গাড়ীর ফিটনেস ঠিক আছে কি না,কাগজ সঠিক কিনা।গাড়ীর মালিক কে আবার দেখতে হবে যে ড্রাইভার সে অভিঞ্জ কি না সে এর আগে কি করেছে, কোথায় গাড়ী চালিয়েছে। কেন সেখান থেকে সে বের হয়ে এলো কোন দুর্ঘটনার জন্য নয়তো।
এগুলো খেয়াল রাখতে হবে কারন একটি দুর্ঘটনার পেছনে যথেষ্ট কারন রয়েছে যেমন সড়ক পথের অপ্রশস্ততা ও সংকীর্ণতা, উচু,নিচু অস্হান,দুরবস্থা,ভাংচুর দশা, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রূটি, বিচ্যুতি, গোলযোগ, যানবাহনের ত্রুটি,ড্রাইভারের অদক্ষতা, অনভিজ্ঞতা, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রবনতা, ওভারটেক করার প্রবনতা অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, পথচারীদের অসাবধানতা ইত্যাদি নানা কারনে সড়ক দুর্ঘটনা সংগতিপন্ন হয়ে থাকে। যথই দেখছি সে থেকে অনুমেয় অধিকাংশ যানবাহন চালকের যথেষ্ট অনভিজ্ঞতা, অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতা রয়েছে। একশ্রেণীর ড্রাইভার রাজপথে ও দুরপাল্লার পথে এবং হাইওয়েতে যানবাহন চালাতে গিয়ে বেপরোয়া ও উদ্দাম হয়ে উঠে।
তারা ট্রাফিক আইনের প্রতি বিন্দুমাত্র ভূক্ষেপ করে না তারা বেমালুম ভুলে যায় দুর্ঘটনা আশংকার কথা।
দুর পাল্লার গাড়ি গুলোতে পয়েন্টে চেকিং ব্যাবস্হা কম থাকায় ড্রাইভারদের বেপরোয়া করে তোলে। যে কোন ধরনের বড় দুর্গটনার পর পর সংবাদ পত্র গুলো লেখা লেখি হয়ে থাকে অদক্ষ চলকের হাতে গাড়ী দেওয়া, যানবাহনের ফিটনেস আছে কিনা তা পরিক্ষা করা হয় না।ড্রাইভারের লাইসেন্স পরিক্ষা করা ইন্স্যুরেন্স সার্টিফিকেট পরিক্ষা করা, সহ বিভিন্ন বিষয়ে কড়াকড়ি ভাবে ব্যবস্হ্ গ্রহনের দাবী জানানো হয়।

কিছু কিছু জায়গায় এসব ব্যবস্হা গ্রহনের পর ড্রাইভারদের দায়াত্বহীনতা চরম বিপর্যয় ডেকে আনছে।
এসব সমস্যার কারনে যে সড়ক দুর্ঘটনা চরম আকার ধারন করছে তা রোধ করতে সরকার গেল পহেলা নভেম্বর থেকে সড়ক সংশোধনে নতুন আইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। যা গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়েছে আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন। এগুলো যারা অমান্য করবে তাদের জন্য শাস্তির পরিমান ও জরিমান বাড়ানো হয়েছে।
আর এজন্য আইনে আনা হয়েছে কিছু সংশোধনী এর মধ্যে রয়েছে – লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালানো,ভুয়া লাইসেন্সে গাড়ী চালানো,রেজিষ্টেশন বিহীন গাড়ী চালানো,ফিটনেস বিহীন গাড়ী চালানো,ট্রাফিক সংকেত অমান্য করে গাড়ী চালানো,অতিরিক্ত গতিতে গাড়ী চালানো,অবৈধ পার্কিং করা,উল্টো পথে চালানো,হেলমেট ছাড়া গাড়ী চালানো,যথতথ রাস্তা পারাপার,সিটবেল্ট না বাধা,গাড়ী চালানো অবস্হায় ফোনে কথা বলা। এই দশটি পয়েন্টের উপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করা হয়েছে।
তবে আইন আছে তার পর ও অনেকে অনেক কিছু মানে না। তার জন্য প্রয়োজন প্রচার কাজ, যথ বেশি প্রচার কাজ চলবে তথ জনগন সচেতন হবে। আর এ এখন কাজটি এখন করা বেশি জরুরী। তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে আইনের সঠিক প্রয়োগ ও তার পাশা বাস্তবায়নেরর সাথে প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে জনগনকে সচেনতাই পারে সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানো। যথ বেশি প্রচার তথ জনগন সচেতন হবে। কমবে অকাল মৃত্যু,পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে বাচতে হবে না আর কাউকে। কারো কাধের বোঝা হতে হবে না কাউকে তাই আসুন নিজে আইন মানি তারপর অন্যকে আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করি। রোধ হোক মৃত্যুর মিছিল নিরাপদ হোক সবার জীবন।

সিলেটপ্রেসডটকম/০৬ নভেম্বর ২০১৯/ রাকিব হাসান

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ