শিক্ষা ভাবনা
সৌরভ ছড়াবে আল- আক্বসা মাদ্রাসা/ ভালো লাগার কিছু সময়

প্রকাশিত: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৯

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>শিক্ষা ভাবনা</span> <br/> সৌরভ ছড়াবে আল- আক্বসা মাদ্রাসা/ ভালো লাগার কিছু সময়

জুলহান চৌধুরী :: কোরআনের বুলবুলিদের বাগানে একদিন বেলা পোনে দুটোয় হাজির হলাম আল – আক্বসা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায়। এই কুরআনের বাগানের আবস্হান ঐতিহ্যবাহী বর্তমান দক্ষিণ সুরমা উপজেলার দাউপুর ইউনিয়নের সুনামধন্য তুড়ুকখলা গ্রামে। ঐতিহ্যবাহী তুড়ুকখলা গ্রামের সম্ভ্রান্ত একটি পরিবার এই বাগানের পরিচর্জা ও দেখাশুনা করেন। যখন মাদ্রাসায় হাজির হই তখন ছাত্ররা জোহরের নাময শেষ করে দুপুরের খাবারের জন্য তৈরি হচ্ছিল। আমি মাদ্রসার সম্মুখে এসে গাড়িটা রেখে এক মিনিট শুধু বাহির পানে তাকিয়ে দেখলাম নতুন একটি মাদ্রাসা যা ২০১৩ সালে প্রতিষ্টিত হয়েছে। যা সচক্ষে দেখলে যে কারো মনকে আকৃষ্ট
হবে। এক অসাধারন ভালো লাগা কাছে টানবে। এতো রূচিশীল ও আকর্ষণীয় করে মাদ্রাসার সামন টা সাজানো
সুন্দর করে সারি দিয়ে ফুলের রকমারি গাছ লাগানো। লাল হয়ে ফুল গুলো ফুটে রয়েছে গাছ গু্লোতে। মাঝ খানে রাস্তা মাদ্রাসায় প্রবেশের। আর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ, রয়েছে সব্জির বাগান। চার পাশে সোনালী রঙ্গের ধানের ক্ষেত ধোল খাচ্ছে মিষ্টি রেদে।যা যে কোন পর্যটকে পাগল করে কাছে টানবে। মাদ্রসার উঠানের ঠিক এক পাশে সুন্দর সুরভিত ভাবে আকা্শে উড়ছে বাংলাদেশের জাতিয় পতাকা।এক মিনিট তা দেখছিলাম আর চিন্তা করছিলাম এতো সুন্দর করে যারা একটি মাদ্রাসা সাজিয়ে রেখেছেন তাদের মন আর কত সুন্দর। এই ভাবতে ভাবতে মাদ্রসা গেইটের সামনে হাজির হলাম। ভিতর থেকে মেইন গেট বন্ধ কোন সাড়া শব্দ নেই। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে গেইটে নক করলাম ভিতর থেকে একটি ছেলে বেরিয়ে এলো। সালাম দিয়ে জিঞ্জেস করল কার কা্ছে এসেছেন। আমি জানতে চাইলাম মাদ্রাসার সুপার আছেন বল্ল হুজুর নামাযে বুজতে পারলাম সেও নামাযে ছিল।গেইট খুলে আমাকে সুপারের রুমে বসাল,সে চলে গে্ল ভিতরে, আমি দেখছিলাম এতো গুলো ছেলে এখানে লেখা পড়া করে, যাদের প্রত্যেকের বয়স বারো থেকে তের এর মধ্যে কিন্তু কি শান্ত কি সুশৃঙ্খল কোন শব্দ নেই হৈ হুল্লুড় নেই শোন শান নিবরতা কেউ বুজতেই পারবে না এতো গুলো ছাত্র এখানে রয়েছে। যে ছেলেটি আমায় বসাল তার নাম আবু সুফিয়ান, গোলাপগঞ্জের কায়াটিকর তার বাড়ি।কিছুক্ষণের মধ্যে মাদ্রাসার সুপার হাফিজ মখলিছুর রহমান এলেন তার কক্ষে। সাথে সেই ছেলেটি, পরিচয় দিলেন আমি পরিচয় দিলাম তার অফিসে বসালেন। সেই ছেলেটাকে ইশারায় বল্লেন আমার জন্য মেহমানদারির ব্যবস্হা করতে। এর ছেলেটি ভিতরে গিয়ে খেজুর আর পানি নিয়ে হাজির হলো। মিজানুর রহমান করে অন্য একটি ছেলে এলো বাড়ি কোথায়া জানতে চাইলে বল্ল তার বাড়ি চিছরা কান্দি দক্ষিণ সুরমা থানায়। এখানে দুই বছর হলো সে এসেছে কুরআান হিফজ চলছে তার, বল্ল শেষ হতে আর বছর দুয়েক লেগে যেতে পারে।আমাদের কথা বলার পর্বের ছবি গুলো সেই তুলে দেয়। আমি তার কাছে এখানে থাকা বা খাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে সে জানালো কোন সমস্যা নেই খুব ভাল আছি কোন অসুবিধা হয় না।আমরা সহপাঠীরা বন্ধুর মতো একে অন্যের সাথে আচরন করি। হুজুররা ও আমাদের কে সন্তানের মতো ভালো বাসেন। মাদ্রাসার সুপারেন্টেন্ড হাফিজ মখলিছুর রহমান বলেন আমার মাদ্রাসার ছাত্ররা যেন সুশিক্ষিত ও মানুষের মতো মানুষ হয় আমরা তাদেরকে সেভাবে গড়ে তুলছি। আমার কাছে ও তাদের দেখে বেশ ভালো মনে হলো। খুবই নম্র ভদ্র সবাই, দেখলে মনে হয় কেউ যেন ফুলের বাগান করে রেখেছে।মাদ্রাসার প্রিন্সপাল বলেন কুরআান শিক্ষার পাশাপাশি আমরা তাদের একাডেমি( জেনারেল) শিক্ষা প্রদান করছি তার জন্য আলাদা করে শিক্ষক রাখা হয়েছে।তিনি তাদের সেসব বিষয়ে পাটদান করেন। আমি যখন প্রিন্সিপালেরর সাথে কথা বলছিলাম তখন তিনি হঠাৎ ফোন কল করে দেন সেই শিক্ষক বিজিত চক্রবর্তীর সাথে। নিজে কথা বলে আমাকে ধরিয়েন দেন কথা বলতে আমি কথা বল্লাম উনি আমার পরিচয় জানতে চাইলেন আমি পরিচয় দিলাম। তিনি খুব খুশি হলেন আমার পরিচয় জেনে।আমি বল্লাম যে আমি আমার সাধ্য মতো লেখার চেষ্টা করব। তিনি আমায় আবার আসার আমন্ত্রন জানিয়ে বিদায় নিলেন। মাদ্রাসার প্রায় ছাত্রের সাথে কথা হয় প্রত্যেকই বল্ল কোন সমস্যা নেই তারা বেশ ভালে আছে।আসলে ও ভালো থাকার কথা কারন বিশাল বড় একটা
মাদ্রাসা এতে রয়েছে বাইশা টা শিট মাত্র।পুরো মাদ্রাসা খালি পড়ে রয়েছে।মাদ্রাসা সুপার বলেন সিটের কোন সমস্যা নেই যথ ছাত্র বাড়বে তথ সিট করে দেওয়া হবে।বিশাল মাদ্রাসায় একটি ভবন পড়ে আছে ব্যবহার না হয়ে এমনি পড়ে আছে।মাদ্রসা সুপার বল্লেন ছাত্র বাড়লে এই ভবন ব্যাবহার করা হবে। এখন বর্তমানে বাইশ জন ছাত্র থাকা খাওয়া সব কিছু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান। ২০১৩ সালে প্রতিষ্টিত এই মাদ্রাসা থেকে হাফিজ হয়ে প্রথম বের হন ষোল সালে ১ জন হাফিজ, সতের সালে ৩ জন আঠার সালে ৪ জন এবং চলতি বছর ও প্রায় ৪ জন হাফিজ হয়ে বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ভাল হফিজ গন ও প্রাতষ্টিনিক শিক্ষাতে ভালো গুনি শিক্ষক দ্বারা পাঠদানে প্রতি বছর বাড়ছে মাত্রাসার ছাত্র। আর এ ধারাবাহিতা অব্যাহত রাখতে হলে সেই এলাকার জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু একটি পরিবারের উপর ছেড়ে দিলে চলবে না, ভালো কাজে সবার সহযোগিতাই একটি প্রতিষ্টান টিকে থাকে। যে মানের লেখা পড়া একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে হওয়া দরকার সেই মান রয়েছে আল – আক্বসা মাদ্রাসায়। তার ও ধারাবাহিতা বজায় রাখতে হবে এবং সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোন কারনে কোন ভুল না হয়। যথ টুকু দেখেছি প্রিন্সিপাল হাফিজ মখলিছুর রহমান কে একজন যোগ্য ব্যাক্তি বলে মনে হয়েছে। আশা রাখি তার যোগ্য পরিচালনায় কোন ভুল হবে না তার পর ও সবার খেয়াল থাকলে সম্ভাবনা কম থাকে। আল – আক্বসা মাদ্রসার সুন্দর পরিবেশ যে কাউকে মুগ্ধ করবে নিসন্দেহে বলা যায়। প্রায় দুই ঘন্টা অবস্হান করে বেশ ভালো লেগেছে মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম। সুন্দর মনোরম পরিবেশে লেখা পড়া করছে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বেশ কিছু সময় তাদের ক্লাস পর্যবেক্ষণ করলাম। ঘুরে ঘুরে দেখালেন পুরো মাদ্রসা এলাকা দেখালেন প্রিন্সিপাল নিজে। বেশ বড় এরিয়া জুড়ে অবস্হান এই মাদ্রাসার, ডানে বামে ও রয়েছে জায়গা। সুন্দর থাকার জায়গা, খাবার জন্য রয়েছে সুন্দর ড্রাইনিং টেবিল বিশাল বড় খেলার মাঠ রয়েছে ভিতরে। একটি মান সম্মত মাদ্রাসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যা দরকার তার কোন কমতি নেই এখানে। এখানে তিনজন হাফেজ রয়েছেন কুরআন শিক্ষা দানের জন্য। তারা সহি শুদ্ধভাবে কুরআান শিক্ষা দিয়ে থাকেন। মাদ্রাসার ছাত্ররা খোলা মেলা নির্মল পরিবেশে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে দিন রাত। আর তাদের সেবায় সার্বক্ষণিক দ্বায়িত্বে আছেন তারা। সবশেষে খারাবের জন্য টেবিল রেডি করা হলো, প্রিন্সিপাল বল্লেন আজ আমাদের ভাগ্য ভালো আমরা মেহমানদের নিয়ে খাব। তিনি আমায় হাত মুখ ধোয়ে নিতে বল্লেন। আমি বল্লাম আপনার আথিয়েতায় আমি মুগ্ধ ,আজ আমার অন্য জায়গায় প্রোগ্রাম তাই আপনার এখানে আজ কথা রাখতে পারলাম না। বিদায় নিতে যাব যখন তিনি বল্লেন স্মৃতি হিসেবে কয়েকটি ছবি তুলে নিতে। তাই হলো সবাই মিলে ছবি তুলা হলো। এবার বিদায়ের পালা প্রিন্সিপাল সহ সকল শিক্ষক ছাত্র মিলে বিদায় জানালো
আমার বিশ্বাস এই মাদ্রসা একদিন আলোর দূতি ছড়াবে। সৌরভ ছড়াবে পুরো এলাকা,মুগ্ধতায় তৃপ্ত হবে গোটা জাতি।কুরআনের আলোয় আলোকিত হবে এই উপজেলা এই আমার বিশ্বাস। আর তা ধরে রাখতে সবার সহযোগিতা একান্ত কাম্য। মুগ্ধতায় সৌরভ ছড়িয়ে যাক দেশ থেকে দেশান্তরে। এই কামনায়।

 

লেখক: সাংবাদিক / কলামিস্ট

 

সিলেটপ্রেসডটকম / ২২নভেম্বর ২০১৯/ এফ কে 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ