সিলেট জেলা-মহানগর আ.মীলীগ পদপ্রত্যাশী নেতাদের ঘুম হারাম

প্রকাশিত: ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০১৯

সিলেট জেলা-মহানগর আ.মীলীগ পদপ্রত্যাশী নেতাদের ঘুম হারাম

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: দীর্ঘ ১৪ বছর পর সম্মেলন আর ৮ বছর পর হবে নতুন কমিটি। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে এখন তাই উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে পদপ্রত্যাশী নেতাদের এখন ঘুম হারাম হওয়ার অবস্থা। জেলা ও মহানগর শাখায় শীর্ষ দুটি পদ পেতে দুই ডজনেরও বেশি নেতা এখন দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত। পদপ্রত্যাশী এসব নেতারা একদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন, অন্যদিকে কাউন্সিলরদের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সিলেট আওয়ামী লীগে সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৫ সালে। এরপর এবার হচ্ছে সম্মেলন। মধ্যখানে ২০১১ সালে সম্মেলন ছাড়াই উভয় শাখায় কমিটি গঠিত হয়। তিন বছরের ওই কমিটি দিয়ে পার হয়েছে আট বছর। সম্প্রতি কেন্দ্রের নির্দেশে প্রতীক্ষিত সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৫ নেতা আগ্রহী। সভাপতি পদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান, বর্তমান সহসভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, সহসভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ ও যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবীরের নাম আলোচিত হচ্ছে। তন্মধ্যে লুৎফুর, শফিক, ইমরান ও সামাদ আছেন মূল আলোচনায়।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সহসভাপতি এডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন ও অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, কোষাধ্যক্ষ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী ও মোহাম্মদ আলী দুলাল, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রণজিৎ সরকার, উপ-দফতর সম্পাদক জগলু চৌধুরীকে নেতাকর্মীদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে। তবে নাসির, সুজাত, নিজাম ও তৌফিকের নাম ঘিরে আছে জোর গুঞ্জন।

এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে দেখতে আগ্রহী, কাউন্সিলররা আমার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন। তবে নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

এ শাখার সহসভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বলেন, ‘নেত্রী যদি আমাকে দায়িত্ব দেন, আমি অবশ্যই তা যথাযথভাবে পালন করবো।’

কোষাধ্যক্ষ তৌফিক রহমান চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, ‘আমি ১৭ বছর ধরে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছি। বরাবরই বঙ্গবন্ধুকন্যার সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল। নেত্রী আমাকে যে পদে দায়িত্ব দেবেন, আমি সে পদেই নিষ্ঠা ও সততার সাথে দলের জন্য কাজ করে যাবো।’

এদিকে, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সহসভাপতি এডভোকেট মফুর আলী, এডভোকেট রাজ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক এবং যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ারের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে কামরানকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের ধারণা, আসাদের কাঁধেই যেতে পারে মহানগর সভাপতির দায়িত্ব।

মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও বিজিত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাক শফিউল আলম নাদেল ও এটিএম হাসান জেবুল, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, বন ও পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী এবং সদস্য কাউন্সিলার সালেহ আহমদ সেলিম আলোচনায় আছেন। তবে নেতাকর্মীদের মধ্যে জাকির, বিজিত, নাদেল ও আজাদের নামই আলোচিত হচ্ছে বেশি।

এ প্রসঙ্গে মহানগর শাখার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি হচ্ছে গণমানুষের জন্য। এখানে পদপদবী মুখ্য নয়। তারপরও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে দেখতে চাইছেন। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই সবাইকে মানতে হবে।’

এ শাখার যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, ‘আমি সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী। যদি নেত্রী দেন, তবে আমি দায়িত্ব নেব। সম্মেলনে ভোটগ্রহণ হলেও আমি প্রার্থী হবো।’

শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ সিলেটভিউকে বলেন, ‘সিলেটে দলকে সুসংগঠিত করতে নেতাকর্মীরা আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে চাইছেন। তবে দল আমাকে যেখানে মূল্যায়ন করবে, আমি সেখানেই দায়িত্ব নেব।’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পদপ্রত্যাশী এসব নেতারা বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ছুটছেন। বিশেষ করে দলের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের কাছে ধরনা দিচ্ছেন তারা। বিগত দিনে কে দলের জন্য কী করেছেন, বিভিন্ন নির্বাচনে কার কী ভূমিকা ছিল, এসব কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তুলে ধরছেন তারা। এছাড়া সিলেটে দলের সকল শাখার কাউন্সিলরদের সাথেও পদপ্রত্যাশীরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। অনেকেই মনে করছেন, সম্মেলনে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্ব আসতে পারে। সেজন্য কাউন্সিলরদের ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে কৌশলী ভূমিকা নিচ্ছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা।

আরো পড়ুন  : সিলেট জেলা আ’লীগের সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন মন্ত্রী

সিলেটপ্রেসডটকম/০২ ডিসেম্বর ২০১৯/ রাকিব হাসান 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ