সিলেট জেলা আ’লীগকে আরো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে চাই : লুৎফুর রহমান

প্রকাশিত: ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

সিলেট জেলা আ’লীগকে আরো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে চাই : লুৎফুর রহমান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :: সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পর পূর্ণ সভাপতির দায়িত্ব পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আগামী তিনবছরের জন্য তাকে দায়িত্ব দেয়ার নাম ঘোষণা করেণ দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালনকারী বয়োজ্যেষ্ঠ এই নেতা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আর দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমাকে ২০১৫ সালে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেকটা সুসংগঠিত ও শক্তিশালী অবস্থানে আছে।

পূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর সিলেটের আওয়ামী লীগকে আরও সুংগঠিত করে একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চাই। আগামী মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে অনেক চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা আছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি কর্মিদের নিয়ে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই। প্রতিটি উপজেলার আওয়ামী লীগকে গ্রুপিং রাজনীতি থেকে বের করে আনাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। লুৎফুর রহমান বঙ্গবন্ধুর জমানায় দাঁপিয়ে বেড়ানো রাজনীতিবিদ। ছিলেন গণপরিষদ সদস্যও। তিনি বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি লবিং-গ্রুপিং রাজনীতির বাইরের একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা।

অ্যাডভোকেট মো. লুৎফুর রহমান ১৯৪০ সালের ৮’ই ডিসেম্বর তৎকালীন সিলেট জেলাধীন বালাগঞ্জ উপজেলার বড় হাজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছৈদ উল্লাহ এবং মাতা সমিতা ভানু। ছাত্রজীবনে ১৯৬২ সালে তৎকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার মাধমে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। বাঙালী জাতির মুক্তি সংগ্রামের জন্য ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন, ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মাত্র ২৯ বছর বয়সে ‘বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ’ আসন থেকে সদস্য নির্বাচিত হন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণসহ মুক্তিযুদ্ধের একজন সফল সংঘটক ছিলেন। ১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্য হিসেবে হাতেলেখা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে স্বাক্ষর প্রদানকারীদের একজন। সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসাবে সততা এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে সবসময় সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ নেতাদের পদচারণা ছিলো। তাঁর আগে এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন অ্যাডভোকেট আবু নসর, প্রয়াত নেতা আ.ন.ম শফিকুল হক ও আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান। তারাও ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা। তাদের রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা দর্শন সবই ছিল শিক্ষণীয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সদালাপী, অমায়িক এই প্রবীণ ব্যক্তির হাতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দিলেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগকে আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে সামনে এগিয়ে নিবেন এমন প্রত্যাশা কেন্দ্রীয় নেতাদের।

 

সিলেটপ্রেসডটকম /১০ ডিসেম্বর ২০১৯/রাকিব হাসান 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend