সিলেট আ’লীগে কোনো বলয় বা গ্রুপ থাকবে না : নাসির উদ্দিন

প্রকাশিত: ১:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

সিলেট আ’লীগে কোনো বলয় বা গ্রুপ থাকবে না : নাসির উদ্দিন

জাবেদ এমরান :: সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। কর্মীবান্ধব নেতার নেতৃত্বের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগকে আরো চাঙ্গা ও শক্তিশালী করতে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দায়িত্ব পান তিনি।

নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নেতাকর্মীসহ নানা সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করে যাচ্ছেন। সব সময় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী বেষ্টিত থাকা এ নেতা বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। দলনেত্রী শেখ হাসিনা আমার উপর ভরসা রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন। সিলেটে আওয়ামী লীগ অনেকটা সংগঠিত আছে। এখন আমার কাজ হচ্ছে তৃণমূল কর্মিদের প্রাধান্য দিয়ে সিলেটে একটি সুসংগঠিত আওয়ামী পরিবার গঠন করা। যা আগামীর রাজনীতিতে ইতিহাস হয়ে থাকবে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে গুনগত পরিবর্তন দরকার জানিয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, রাজনীতি মানেই শুধু মিছিল-মিটিং করা নয়, রাজনীতি চর্চার বিষয়ও বটে। মিছিল-মিটিংয়ের বাইরেও রাজনীতির অনেক দিক আছে। তৃণমুলের জন্য আমার সকল কাজের বাইরেও আলাদা করে সময় থাকবে। আমি মনে করি তৃণমুলের নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করা হলে রাজনীতি সুস্থ ধারায় পরিচালিত হবে।

কথায় নয়, আমি কাজে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে কাজের মাধ্যমে এই পর্যন্ত এসেছি। আমি জনগণের রাজনীতি করে এখন সাধারণ সম্পাদক। আমার দরজা নেতাকর্মীসহ সকলের জন্য খোলা। সবাইকে নিয়ে সাবার মতামতের ভিত্তিতেই কাজ করবো।

তিনি বলেন, আমি সিলেট চেম্বারের গত নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলাম। তখন আপনারা দেখেছেন, নানা চাপ সত্ত্বেও আমি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও একইরকম নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবো। আমি সিলেটের কয়েকটি উপজেলার গত কাউন্সিলের দায়িত্বে ছিলাম। কোথাও কিন্তু আমি কোনো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করিনি। সব নিরপেক্ষভাবে করেছি। আপনারা দেখবেন, কাজের মাধ্যমেই আমি তা প্রমাণ করবো।

সিলেটে আওয়ামী লীগ একটি পরিবার হয়ে থাকবে। গ্রুপিং রাজনীতির কোন স্থান সিলেটে হবেনা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বলয় থাকবে না, কোনো গ্রুপ থাকবে না। গ্রুপ হবে একটা, সেটা হবে শেখ হাসিনার গ্রুপ। বিগত দিনে আমার কোনো কর্মকাণ্ডে হয়তো কারো কারো ধারণা হতে পারে আমি একটি বলয় নিয়ন্ত্রণ করি। তবে আগামীতে কেউ এমন ধারণা করারও সুযোগ পাবেন না। এরকম ধারণা হতে পারে, এমন কার্যক্রম থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নেবো। কারণ আমার চেয়ারটা নিরপেক্ষ চেয়ার।

নাসির উদ্দিন জানান, আগামী বছরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালিত হবে। যা মুজিববর্ষ নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আর পরের বছর আমাদের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী। এই দুটি বিশেষ উপলক্ষ পুরো জেলায় ঝাঁকজমকভাবে পালন করাই আমাদের কমিটির বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করছি, এগুলো আমরা ভালোভাবে করতে পারবো।

সিলেট আওয়ামী লীগকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সামনেই আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন। ডিসেম্বর মাস এই সম্মেলন নিয়েই চলে যাবে। জানুয়ারির দিকে আমাদের সিলেটে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে। এরপর যেসব উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই সেসব জায়গায় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করবো। তৃণমূলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করতে কাজ করবো। সংগঠনের কিছুকিছু ক্ষেত্রে অগোছালো ভাব রয়েছে সেগুলো গুছিয়ে আনতে উদ্যোগ নেবো। এছাড়া সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করবো।

দলের স্থায়ী কার্যালয় না থাকা প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন খান বলেন, এ নিয়ে বারবার প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু এতোদিনে একটি স্থায়ী কার্যালয় না হওয়া অবশ্যই আগের কমিটিগুলোর ব্যর্থতা। এ নিয়ে আমার পরিকল্পনা রয়েছে। মহানগর কমিটির সাথে মিলে আমরা দ্রুত সিলেটে আওয়ামী লীগের স্থায়ী একটি কার্যালয় স্থাপনে করবো। দলকে নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা আছে। এজন্য সকলের সহযোগিতা দরকার। সিলেটে দলের সকল কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

তার বাবা আলাউদ্দিন খাঁনের মুজিব প্রেমের আসক্তি দেখেই মূলত ছাত্রলীগের রাজনীতির প্রতি ধাবিত হন নাসির। স্বাধীনতা পরবর্তী বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলাউদ্দিন খাঁন ছিলেন প্রখ্যাত শালিসি ব্যক্তিত্ব। সেই কঠিন সময়ে আলাপে আলোচনায় পিতার মুজিব বন্দনা দেখেই মূলত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পা রাখেন নাসির। চাচা শাহাদাত হোসেন খাঁন ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য। আর তাদের প্রেরণায় নাসির হয়ে উঠেন রাজনীতি সচেতন।

সামরিক জান্তার ভয়ে সহযোদ্ধারা যখন প্রেস রিলিজে দস্তখত করে ছাত্রলীগ ছাড়ছেন ঠিক সেই সময়ে শিক্ষা, শান্তি, আর প্রগতির পতাকাকে উড্ডীন করতে নাসির উদ্দিন খাঁন দায়িত্ব নেন তৎকালীন শহর ছাত্রলীগ আর আজকের মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়কের। জেল, জুলুম, আর হুলিয়া উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া নাসির যোগ্যতা বলেই জায়গা করে নেন পরবর্তী জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে। দৃঢ়তায় মুগ্ধ হয়েই তৎকালীন স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃত্ব তাকেই বেছে নিয়েছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রূপে। আস্থার প্রত্যাশিত জবাবও দিয়েছিলেন নাসির। তারই ফলস্বরূপ ছাত্রলীগের রাজনীতির ইতি ঘোষণার পরপরই জায়গা করে নেন জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক পদে।

সুদর্শন চেহারা আর প্রখর মেধাশক্তির সেই সময়ের তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন খান ১/১১ এর কঠিন সময়ে মাসের পর মাস কারাগারের অন্ধকার সেলে নিষ্ঠুর নির্যাতনের রাজসাক্ষী হয়েও জনককন্যার প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন। পরিবার, পরিজন, স্ত্রী, সন্তানের মোহ ত্যাগ করে পিতা মুজিবের প্রদর্শিত পথে অনিশ্চিত কারাজীবন কিংবা ফাঁসির দণ্ডরে ভয় তাকে লক্ষচ্যুত করেনি বলেই জনককন্যা ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া পরবর্তী জেলা সম্মেলনে তাকে দায়িত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের। যেকোনো দায়িত্বই দায়িত্ববানদের মতোই সম্পাদন করেন বলেই তার উপর আস্তা রেখে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেন দলের হাই-কমান্ড।

 

সিলেটপ্রেসডটকম /১০ ডিসেম্বর ২০১৯/রাকিব হাসান

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend