সিলেট আওয়ামী রাজনীতিতে ‘অলরাউণ্ডার’ কামরান

প্রকাশিত: ১:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০১৯

সিলেট আওয়ামী রাজনীতিতে ‘অলরাউণ্ডার’ কামরান

সিলেটপ্রেস :: সিলেট আওয়ামী রাজনীতির অলরাউণ্ডার তিনি। সিটি করপোরেশনের ইতিহাসের সঙ্গেও নাম জড়িয়ে আছে প্রথম মেয়র হিসেবে। রাজনীতিতে দুর্দান্ত পারফর্মন্সে সিলেট আওয়ামী লীগের ‘নিওক্লিয়াস’ বা ‘প্রাণ ভোমরা’ খ্যাত নাম বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

রাজনীতিতে তাঁর বিচরণ সেই ছাত্রবস্থায়। এক সময় শহরের কালিঘাট আঞ্চলিক শাখা ছাত্রলীগ পরবর্তীতে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেই কামরান মহানগর আ’লীগের শীর্ষ পদ সামলে আছেন কেন্দ্রের দায়িত্বেও।

টেবিল টক, বক্তৃতা বা সমাজ হিতৈষি হিসেবে যশখ্যাতি ছড়িয়ে থাকা কামরান কেবল রাজনীতির মাঠের পাঁকা খেলোয়াড় নন। সঙ্গীত ও খেলার জগতে তার মুন্সিয়ানা ক’জনইবা জানেন, দেখেছেন।

রাজনীতির মঞ্চে দরাজ কন্ঠে যেমন বক্তৃতা, তেমনী তাঁর সুরেলা কন্ঠে গান শুনে মুগ্ধ হয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। আর সেই কামরান আরেকবার ঝিলিক দেখালেন ব্যাট হাতে বলকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সকালে নগরের আলীয়া মাঠে শিশুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় খানিক ক্ষণের জন্য শৈশবের সেই কামরানকে ব্যাট হাতে দেখা যায়। তাঁর ধরার স্টাইল বলে দেয়- ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নতুন নয়। তা পরখ করেছেন উপস্থিত সকলেও।

বিগত দিনে আর্জেন্টিনার বর্ষিয়ান খেলোয়াড় লিওনেল মেসির জার্সি গায়েও ফুটবল মাঠে দেখা গেছে তাঁকে। ফলে সিলেটে আওয়ামী রাজনীতির ‘মেসি’ নামেও তাঁকে আখ্যায়িত করেন ভক্তরা।

ক্রিকেট, ফুটবল খেলার ন্যায় নাটাই হাতে ঘুড়ি উড়ানোর প্রতি প্রবল আকর্ষণের বিষয়টি জানিয়েছেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান নিজেও। তাঁর মতে, বয়স কোনো কিছুকে দমিয়ে রাখতে পারে না। শুক্রবার মাদরাসা মাঠে গিয়ে শিশুদের খেলা দেখে নিজেকে সামলে নিতে পারেননি, তাই ব্যাট হাতে নেন।

তিনি বলেন, ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা ও ঘুড়ি উড়ানোর প্রতি তাঁর দুর্বলতা সেই ছোট বেলা থেকে। এই বয়সেও শরীর সুস্থ থাকলে খেলা থেকে বয়স দমিয়ে রাখতে পারে না। খেলোধুলার মাধ্যমে এখনো অতীতের দিনগুলোতে ফিরে যাই।

নিজের আবেগ অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে সাবেক এই সিটি মেয়র বলেন, ‘রাজনীতি এমন একটি বিষয়, মানুষ চাইলে সব কাজেই রাজনীতিকে রাখতে পারে। একজন ভাল খেলোয়াড় হলেও রাজনীতিতে আসা যায়- মাসরাফি বিন মর্তুজা এর উদাহরণ। খেলার জগৎ থেকে তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। এভাবে উপ মহাদেশে অনেক বড় বড় ফিল্মস্টার রাজনীতিতে এসেছেন। তাই রাজনীতির স্পর্শ সব সেক্টরে থাকা দরকার।

কামরান বলেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখঁড়ি তাঁর। ওই সময় সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় পাকিস্তান সরকার একটি বই ছাপা করে ‘পাকিস্তান দেশ অব হিস্ট্রি’। সে সময় এই বইয়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন স্কুল কলেজ মিলে প্রতিবাদ মুখর হন তারা। আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকারও বইটি বাতিল করতে বাধ্য হয়। সে সময় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, সদরউদ্দিন, দেওয়ান গৌস সুলতান, সৈয়দ আশরাফ আলী, টিলাগড়ের শফিকুর রহমানসহ অনেকে পেছন থেকে আন্দোলন বেগবানে উৎসাহ যোগিয়েছিলেন।

১৯৭২ সালে ছড়ারপাড় ও কালিঘাট নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক শাখার সভাপতি ছিলেন মো.মতছিন, সাধারণ সম্পদকের দায়িত্বে ছিলেন কামরান নিজে। এরপর সদর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন গিয়াস উদ্দিন দেশি এবং তিনি ছিলেন সেক্রেটারি। পরে শহর যুবলীগের নেতৃত্ব দেন।

বদর উদ্দিন কামরান আরো জানান, ১৯৭৩ সালে তিনি পৌর কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে মহানগরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্য নিবার্হী কমিটির সদস্য তিনি।

সিলেটে আওয়ামী রাজনীতির প্রাণ পুরুষ বা নিউক্লিয়াস হিসেবে নেতাকর্মীর দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি একটি আদর্শে বিশ্বাস করে রাজনীতি করি। সেই আদর্শটাকে সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করি। তাই রাজনীতিতে কোনো কাজেই গাফিলতি থাকা ঠিক নয়। তাই রাজনীতিতে সব কাজ আন্তরিকভাবে করার চেষ্টা করি। সেই সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করি। তাঁর এসব কৃর্তি তাকে জনপ্রিয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌছে দিয়েছে।

জনশ্রুতি রয়েছে, জনপ্রিয়তার র্শীষে থাকা বদর উদ্দিন কামরান গত দুই বারের নির্বাচনে দলের কতিপয় নেতার বিরোধীতার কারণে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে ধরাশায়ী হন।

২০১৩ সালে ৩৫ হাজার ১শ’ ভোটের ব্যবধানে আরিফুল হক চৌধুরিীর কাছে পরাজিত হন। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সিটি নির্বাচনে ফের আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে ৫৫ হাজার ১০০ ভোটে পরাজিত হন তিনি। অথচ ২০০৩ সালের জুন মাসে প্রথম সিটি নির্বাচনে প্রায় ৮৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন তিনি। এরআগে ২০০১ সালে ২৬ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হলে প্রথম মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান তৎকালীন পৌরসভার কমিশনার থেকে চেয়ারম্যান হওয়া কামরান।

৫ ডিসেম্বর নগরীর আলীয়া মাদরাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনে এবারো মহানগর আওয়ামী লীগের হাল ধরতে সভাপতি পদপ্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

সিলেটপ্রেসডটকম /৩০ নভেম্বর ২০১৯/ এফ কে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ