সিলেটের ভিআইপি এলাকায় অপরাধীদের জংশন-নিশি কন্যার হাট

প্রকাশিত: ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০১৯

সিলেটের ভিআইপি এলাকায় অপরাধীদের জংশন-নিশি কন্যার হাট

সুলতান সুমন:: সিলেট নগরীর ভিআইপি এলাকা সার্কিট হাউস ও ক্বীন ব্রীজ সংলগ্ন আলী আমজদের ঘড়ির ঘর এবং কবিগুরুর ভাস্কর্য। কিন্তু ওই এলাকাতেই প্রতিদিন বসে নিশি কন্যার হাট ও অপরাধীদের ভাসমান আস্তানা। একদম প্রকাশ্যেই নিশি কন্যাদের সাথে ধরকষাকষি হয় খদ্দরের। আর আগত দর্শণার্থীদেরও পড়তে হয় হরেক রকম বিভ্রান্তিতে।

তৎকালিন আমলে স্থাপিত ক্বীন ব্রীজ। আর জমিদার আলী আমজদের আমলে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহি ঘড়ি। ওই দুটি স্থাপনা দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন দর্শণার্থীরা। আর সার্কিট হাউজে প্রতিনিয়তই থাকে ভিআইপিদের আনা-গোনা। এসব কিছুর পরও রয়েছে প্রশাসন নির্বিকার। মাঝে মধ্যে পুলিশের অভিযান হয়।

কিন্তু ওই এলাকায় থামেনি নিশি কন্যাদের বাণিজ্য ও অপরাধিদের অপরাধমূলক কার্যক্রম। এক কথায় বলা যায়, রাত হলেই অপরাধীদের দখলে চলে যায় ভিআইপি ওই এলাকা। ছিনতাই, মাদক কারবার ও অসামাজিক কার্যকলাপে মেতে ওঠে তারা। রাতে কোনো মানুষ ওই এলাকায় গেলেই খোয়াচ্ছে তাদের মূল্যবান জিনিস। আর নিশি কন্যাদের অসামাজিক কার্যকলাপে সম্মান হারানোর ভয়ে থাকতে হয় আগত দর্শণার্থীদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, জালালাবাদ পার্ক, ক্বীন ব্রীজের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের নীচ, সার্কিট হাউজের সামন ও ডানপাশ, সারদা হল সংলগ্ন এলাকা সন্ধ্যার পরে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের জন্য। আর এই অপরাধীদের সহায়তা করেন ওই সব প্রতিষ্টানে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও কিছু পুলিশ সদস্য। আগে ভাসমান পতিতা ও হিজড়াদের উৎপাত ছিল সেসব স্থানে এখন সমকামীরাও আস্তানা গেড়েছে।

আর অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি তারা মাদকের ব্যবসা এবং সুযোগ বুঝে ছিনতাই ও দস্যুতার ঘটনাও ঘটাচ্ছে। রাত ৮টার পর এরা কাউকেই তোয়াক্কা করে না। পার্কে হাঁটতে অথবা ঘুরতে আসা মানুষগুলো বেকায়দায় পড়ে তখন। কখনো কখনো তাদের প্রকাশ্যে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত দেখা যায়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষ সমকামীদের ব্যাপক উৎপাত। আগে সন্ধ্যার পর হিজড়াদের উৎপাত ছিল। তাদের কাছে আসত রিকশা ও সিএনজি চালক বেশি। তবে কমছে হিজড়াদের উৎপাত। বেড়েছে সমকামী, ভাসমান পতিতা ও অপরাধীদের আনা-গোনা।

সোমবার ক্বীন ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় ঘুরতে আসা দর্শণার্থী রাজিব জানান, তিনি সিলেটের ঐতিহ্য দেখতে তার পরিবারের লোকজন এসেছেন। রাত দশটায় তিনি গিয়েছেন সার্কিট হাউস, রবিন্দ্র ভাস্কর্য ও আলী আমজদের ঘড়ি দেখতে। কিন্তু ওই এলাকায় গিয়েই তিনি পড়েছেন বিভ্রান্তিতে। কয়েকজন পতিতা তাকে ঘিরে বলে ‘কাজ করবেন’ ব্রীজের নিচে আসেন, সমস্যা হবে না আমরা সব ম্যানেজ করেই চলি। তখন তিনি খানিকটা বিভ্রতকর অবস্থায় পড়ে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার চা দোকানি জানান, সন্ধ্যা হলেই এই এলাকায় অপরাধীদের উৎপাত বাড়তে থাকে। রাত ৯টার পরে কাউকে তোয়াক্কা না করে তারা অসামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যায়। বুধ ও বৃহস্পতিবার বেশি আনাগোনা থাকে তাদের।

সবুজ নামে এক ভবঘুরের সাথে কথা হয়। সে বলে অনেকদিন যাবৎ এ এলাকায় তার বসবাস। তাকেসহ কাউকে পার্কে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। যেখানে আগে ভেতরে থাকত তারা। এখন রাতে ঘুমায় রাস্তায়। তবে যারা অসামাজিক কার্যকলাপ করে তারা ঠিকই টাকার বিনিময়ে পার্কের ভেতরে ও ক্বীন ব্রীজের নিচে ঢুকছে, আর করছে দেহ ব্যবসা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ জানান, ক্বীন ব্রীজ ও সার্কিট হাউজ রয়েছে এসএমপি’র কোতয়ালি থানা এবং বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যখানে। দুরত্বও তেমন নেই। তাই ওই এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নজরধারী ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এসকল অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যাবে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, তিনি এসএমপি’র কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জকে বলে জালালাবাদ পার্ক, ক্বীন ব্রীজের নীচ, সার্কিট হাউজের সামন ও ডানপাশ, সারদা হল সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন। যাতে ওই এলাকায় নিরাপদে চলতে পারেন মানুষজন।

আরো পড়ুন : সিলেট ক্বীনব্রিজের ইতিহাস : বর্তমান প্রেক্ষাপট

সিলেটপ্রেসডটকম /০৪ ডিসেম্বর ২০১৯/ এফ কে 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend