শাহপরান (রহ.) বিদ্যালয়ের দুর্নীতি বিষয়ে প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের অবহিতকরণ সভা

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

শাহপরান (রহ.) বিদ্যালয়ের দুর্নীতি বিষয়ে প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের অবহিতকরণ সভা

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগরের হযরত শাহপরান (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন এবং নানা বিষয়ে দুর্নীতি বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় খাদিমনগর বাইপাস রোডস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন ছাত্র পরিষদেও সভাপতি আতিকুর রহমান। ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন এবং নানা বিষয়ে দুর্নীতির বিষয়ে অবহিত করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খাইদমপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম ডালিম।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধন ২০১০) ০৬ (খ) ধারা লংঘনের অভিযোগে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মখলিছুর রহমানকে ২০১৭ সালের নভেম্বরে দুই লক্ষ টাকা অর্থদ- প্রদানের পর থেকে বোর্ড কর্তৃক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদকে সভাপতি করে এডহুক কমিটি গঠন করা হয়। প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ এডহুক কমিটির সভাপতির সাথে একাধিকবার সাক্ষাত করে লোহার গেইট বিদ্যায়ের প্রধান রাস্তার সামনে স্থাপন করার অনুরোধ করলেও অদৃশ্য কারনে তার করা হয়নি। বিগত ৩০ সেপ্টেম্বও ম্যানিজিং কমিটির নির্বাচনের তারিখ থাকলেও বিগত কমিটির সদস্যরা যোগসাজেশ করে তাদের নানা অপকর্ম জনসম্মুখে প্রকাশের ভয়ে আদালয়ে আবেদন করে নির্বাচনে স্থগিতাদেশ আনে।

লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ আরো বলেন, ২০১৭ সালে বিগত ম্যারেজিং কমিটি বিদ্যালয়ের প্রধান রাস্তার পাশে আহমদ আলী গংদের ১.৭৮০০ একর ভূমি ক্রয়ের জন্য এক কোটি ৪০ লক্ষ টাকা দাম সাব্যস্ত করে। তৎকালীন সময়ে বিদ্যায়ের গহবিলে এক কোটি একাত্তর লক্ষ টাকা ছিল, বর্তমানে যার পরিমাণ প্রায় দুই কোটি। বিগত ২০১৮ সালের ৮ জুলাই আহমদ আলী গং সম্পাদিত ৫৬৭৩/১৮ইং দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায় ঐ দলিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মখিলিছুর রহমানসহ অন্য সদস্যরা স্বাক্ষী ও পরিচয়কারী হিসেবে দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। দলিলে দাতারা বক্তব্যে বলেছেন বিদ্যালয়ের মালিকানসাধীন ভূমির উপরিস্ত রাস্তায় দাতাদের চলাচলের অধিকারসহ সর্বসাধারণের চলাচলের যে কথা বলা হয়েয়ে তা বেআইনী। অদৃশ্য কারনে উপরোক্ত ভূমি ক্রয় না করে বিগত কমিটির সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন। বিগত কমিটির দাতা ও অভিভাবক সদসরা স¦াক্ষী ও পরিচয়কারী হিসেবে ভূমিকা পালন কওে দীর্ঘ ৫০ বছরের স্বপ্ন বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা দীর্ঘ ৮ বছরে কোন সাধারণ সভা আয়োজন করেনি। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দূর্নীতি করেছেন। তাই আগামী ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করা প্রয়োজন।

লিখিত বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সুনাম ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহীনের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বি হাজি আব্দুল মালিক, আহমদুর রহমান চৌধুরী মিলু, আজমল আলী, ফারুক মিয়া, হাজি আলাউদ্দিন, কবির আহমদ মেম্বার, আব্দুল জলিল, সুহেল ইসলাম সাজু, পুতুল মিয়া, নজরুল ইসলাম, কলা মিয়া, ময়না মিয়া, নুরুজ্জামান চৌধুরী, সাদিক মিয়া, রফিকুল ইসলাম, ফখর মিয়া, প্রাক্তন ছাত্রপরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি হোসেন আহমদ চৌধুরী দুলাল, যুগ্ম সম্পাদক এস এম কাবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম দুলু, আব্দুল মুমিন, জবরুল হোসেন ও সেলিম আহমদ, সম্পাদকম-লীর সদস্য ইব্রাহিম আলী, সুব্রত চন্দ্র, হিমেল আহমদ, লাহিনুর রহমান লাহিন, ইকবাল আহমদ, ইকবাল হোসেন রনি, সুহেল আহমদ, শিপার আহমদ, আজাদুর রহমান আজাদ, মারুফুজ্জামান অসিন, হেলাল আহমদসহ এলাকাবাসী এবং অভিভাবকবৃন্দ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •