লন্ডনে সিলেটি কন্যার নতুন ইতিহাস

প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

লন্ডনে সিলেটি কন্যার নতুন ইতিহাস

লন্ডন প্রতিনিধি :: ব্রিটেনে নতুন নতুন ইতহাস রচনা করে চলেছেন বাংলাদেশের মেয়ে রুশনারা আলী। আদর করে যাকে ‘সিলেটি কইন্যা’বলেও ডাকেন অনেকে। কেবল রুশনারাই নন, যুক্তরাজ্যে এবারের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন আরো তিন বাঙালি নারী। তারা হলেন-বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক, রূপাহক ও আফসানা বেগম।

পূর্ব লন্ডনের‘বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো’ আসনে লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী এবারও বিপুল ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৪৪ হাজার ৫২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির নিকোলাস স্টোভোল্ট পেয়েছেন মাত্র ৬ হাজার ৫২৮ ভোট। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হয়ে লন্ডনের মাটিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন সিলেটি কন্যা রুশনারা।

এর আগে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে টানা তিনবার এমপি পদে জয়ী হয়েছেন তিনি। রুশনারাই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রুশনারা আলীর বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ভুরকি গ্রামে। ১৯৭৫ সালের ১৪ মার্চ সিলেট জেলার বিশ্বনাথে জন্ম নেওয়া রুশনারা মাত্র সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানেই বেড়ে উঠা ও পড়াশোনা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জনস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পড়াশুনা করেছেন। পরে লেবার দলের রাজনীতির সাথে জড়িত জড়িত হন।

২০১০ সালের নির্বাচনে রুশনারা আলী প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ এমপি নির্বাচিত হন। তার ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বাংলাদেশিদের অভিষেক ঘটে। তিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই ১১ হাজার ৫৭৪টি ভোট বেশি পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। তার এ বিজয় ব্রিটেনের প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলেছিল

এরপর ২০১৫ সালে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ২০১৭ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ প্রার্থীকে ৩৫ হাজার ৩৯৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪২ হাজার ৯৬৯। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অ্যালেক ভোট পান ৭ হাজার ৫৭৬।

বেশ সুনামের সঙ্গেই কাজ করে চলেছেন লেবার দলের এই নারী সাংসদ। ব্রিটেনের রেমিট্যান্স-বিষয়ক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি সংসদে লেবার পার্টির ছায়া শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম ব্রিটিশ এমপি যিনি ব্রিটেনের হাউস অব কমন্সের এনার্জি ও ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন। এর আগে তিনি ট্রেজারি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সিলেটপ্রেসডটকম /১৩ ডিসেম্বর ২০১৯/এফ কে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend