ভুলে আটকে আছে সিলেট বিএনপি

প্রকাশিত: ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯

ভুলে আটকে আছে সিলেট বিএনপি

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: অনেক ভুলে আটকে আছে সিলেট বিএনপি। প্রয়োজন ছিল না, তবুও ভেঙে দেয়া জেলা আহ্বায়ক কমিটি সর্বজনীন হয়নি। ১৯ বছর পর ঘোষিত হলো যুবদলের জেলা ও মহানগর আহ্বায়ক কমিটি। এতদিন যারা যুবদলকে আঁকড়ে ধরে সিলেটে রাজনীতি করছিলো তাদের নাম এলো না কমিটিতে। ফলে বিএনপি ও যুবদলের কমিটি নিয়ে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটে গেছে সিলেটে। পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন সিলেটের মেয়র ও সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী সহ চার কেন্দ্রীয় নেতা। এখনো আছে গণ-পদত্যাগের হুমকি। দুই মাসের অধিক সময় পেরিয়ে গেলো এখনো জেলা বিএনপি দৃশ্যমান কার্যক্রম উপস্থাপন করতে পারেনি।

এতে করে নানা জটিলতায় আটকে আছে সিলেট বিএনপি। বোধোদয় হয়েছে সবার। এখন খোঁজা হচ্ছে সমাধানের পথ। সেই সমাধানে এসে সম্পৃক্ত হচ্ছেন মেয়র আরিফ সহ ৪ নেতা।

লন্ডনেও তাদের যোগাযোগ বেড়েছে। এক কেন্দ্রীয় নেতা গতকাল বিকেলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- জেলা ও মহানগর যুবদলের বাদ পড়াদের নিয়ে আরেকটি কমিটির তালিকা লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। হয়তো সার্বজনীন হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক সময় বলা হতো সিলেট বিএনপির একটি উপ-গ্রুপই প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের জন্য হুমকি। পুরো বিএনপির শক্তি ক্ষয় লাগবে না। কিন্তু বিএনপির আগের সেই শক্তি নেই সিলেটে। শ’শ মামলার জালে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে অনেক নেতাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কেউ কেউ দেশে থাকলেও নীরব হয়ে গেছেন। থানা, পুলিশ, আদালত, কারাগারে দৌড়াতে দৌড়াতে তারা ক্লান্ত। এরপরও গণতান্ত্রিক পথে কাউন্সিলের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া পরিচ্ছন্ন, ত্যাগী কিছু নেতা সিলেট বিএনপির সাংগঠনিক গতিকে স্বাভাবিক রাখতে দলের হাল ধরে ছিলেন। এখনও আছেন। তাদের নেতৃত্বেই সিলেট বিএনপি গত সংসদসহ কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

সিলেট বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন- সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বয়স খুব বেশি দিনের হয়নি। বড় জোর আড়াই-তিন বছর হবে। এর মধ্যে হঠাৎ করেই ভেঙে দেয়া হয়েছে সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি। ভেঙে দেয়ার পূর্বে ওই কমিটি সিলেটে গতি নিয়েই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলো। প্রয়োজন না থাকলেও হঠাৎ করে কমিটি ভেঙে দেয়ায় নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়নি। হতাশ হয়েছে যখন আহবায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই সিলেট বিএনপিতে তোলপাড় শুরু হয়। কারণ- এমনিতেই দলের নেতারা মামলার পর মামলায় বিপর্যস্ত। মাথা সোজা করে দাঁড়াতে পারছেন না। এর উপর যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেটিকেও সার্বজনীন করা হয়নি। অনেক যোগ্য নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি আহবায়ক কমিটিতে। এতে করে সরব হয়ে উঠে সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরীর ড্রয়িং রুম। ক্ষুব্ধ থাকা নেতারা মেয়র আরিফের কাছে গিয়ে বিচার প্রার্থী হন। কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী এতে অন্তর্ভুক্ত করেন কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান, সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরীকে।

তারা পরিস্থিতি জটিল দেখে এ নিয়ে আলোচনা করেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ হক, তাহসিনা রুশদীর লুনা সহ সিলেটে অবস্থান করা কেন্দ্রীয় নেতাদের। পরে তাদের হস্তক্ষেপে ক্ষোভ প্রশমিত হয় এবং পুর্নাঙ্গ কমিটিতে সবার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে দেন। জেলা বিএনপির এই ক্ষোভ কমতে না কমতে ঘোষণা করা হয় জেলা ও মহানগরের যুবদলের আহবায়ক কমিটি। এই কমিটি ঘোষণার পর সিলেট বিএনপির নেতারা আরো বেশি হতাশ হন। কারণ- ঘোষিত কমিটিতে যুবদলের অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত মুখের জায়গা হয়নি। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দিলে হস্তক্ষেপ করেন আরিফ সহ চার নেতা। তারা ক্ষুব্ধ নেতাদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেরাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পদত্যাগপত্রে সই করে তারা নিয়েও গিয়েছিলেন ঢাকায়। তবে- দলের মহাসচিব তাদের আশ্বাস দিয়ে বিদায় দেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি তিনি। এরপর থেকে সিলেট বিএনপিতে ভেতরে ভেতরে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিলো। গণপদত্যাগের হুমকি দিয়ে রেখেছেন বিএনপিসহ যুবদলের একাংশের নেতারা। সিলেটের নেতারা জানিয়েছেন- এই অবস্থায় দলের হাইকমান্ড সিলেটের পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেছেন। কয়েক দিন আগে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ঢাকা গিয়ে স্কাইপির মাধ্যমে সিলেটের পরিস্থিতি জানিয়েও এসেছেন। এরপর হাইকমান্ডের নির্দেশে সিলেটের চার নেতা জেলা ও মহানগর যুবদলের আরেকটি শর্টলিস্ট পাঠিয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন‘আমাদের সবার দল তো একটাই। এ কারনে আমরা যতই ক্ষুব্ধ হই, সমাধানের পথ তো আমাদেরই খুজে বের করতে হবে।

আমরা এখন সমাধান খোজার চেষ্টায় রয়েছি। আশা করি খুব শিগগিরই সেই পথও খুুঁজে পাওয়া যাবে।’ তিনি বলেন- ‘সিলেটের মেয়র আরিফ সহ আমরা হাইকমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে এভাবে সিলেট বিএনপি চলতে থাকলে আমাদের পদের দরকার নেই। এজন্য আমরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখনো প্রস্তুত আছি।’ এদিকে- সিলেট জেলা বিএনপি গঠন করা হয়েছিলো অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে। এই কমিটি ইতিমধ্যে কয়েকটি বৈঠক করলেও এখনো উপজেলা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের প্রথম ধাপও পাড়ি দিতে পারেনি। ১৬ই নভেম্বর সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সভায় ১৭টি ইউনিটের আহবায়কদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিলো। সেটি প্রকাশ না করে পরবর্তীতে সিদ্বান্ত হয় তারা এক সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করবে। সেই তালিকা চূড়ান্ত করার দাবি উঠেছে উপজেলায় গিয়ে বৈঠক করে সেটি প্রকাশের। ফলে ১৭ ইউনিটে গিয়ে বৈঠক করে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে কী না- এ নিয়ে কোনো সিদ্বান্তে পৌছতে পারে জেলা বিএনপি। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার জানিয়েছেন- ‘এ ব্যাপারে আমরা কেন্দ্রের পরামর্শ চেয়েছি। কেন্দ্র থেকে কোনো দিক নির্দেশনা আসেনি।’ তিনি জানান- কেন্দ্র যেভাবে মতামত দেবে আমরা সেভাবেই করবো। প্রয়োজনে ৩-৪টি ইউনিট করে একেক দিন ভিজিট করে কমিটি ঘোষনা দিয়ে দেবো। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জায়গীরদার।

আরো পড়ুন : বিএনপি সর্বকালের একটি ব্যর্থ দল : কাদের

সিলেটপ্রেসডটকম/০৮ ডিসেম্বর ২০১৯/ এফ কে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend