বাউল গানের শব্দ দুষণে অতিষ্ঠ খোজারখলাবাসী : চাপা ক্ষোভ, সংঘর্ষের আশংকা!

প্রকাশিত: ৯:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯

বাউল গানের শব্দ দুষণে অতিষ্ঠ খোজারখলাবাসী : চাপা ক্ষোভ, সংঘর্ষের আশংকা!

দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার খোজারখলায় বাউল গানের নামে অবাধে চলছে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে গান। যা সহনীয় মাত্রায় থাকে না। ফলে শব্দ দুষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী।

আশপাশের মাদরাসা, স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি মসজিদ মসল্লিগণ নামাজ আদায়ে মনোযোগী হতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে বাউল গানের আয়োজকদের গান বন্ধ করার জন্য বার বার বলা হলেও কোন কর্ণপাত করেনি তারা। সময়, অসময় মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে নারী-পুরুষ সম্মিলিত ভাবে গান পরিবেশন করে আসছে। এতে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোন সময় সংঘর্ষের মত ঘটনা ঘটতে পারে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুরমার ২৫নং ওয়ার্ডের বঙ্গবীর রোডের দক্ষিণ খোজারখলায় অবস্থিত চেরাগ আলীর স’মিলে দীর্ঘ ৭/৮ বছর যাবৎ ৩৬০ আউলিয়া বাউল সংগঠনের নামে সপ্তাহে প্রতি বুধবার দিন ও রাতব্যাপী মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম দিয়ে নারী-পুরুষ সম্মিলিত ভাবে গান পরিবেশ করে যাচ্ছে।

এতে দক্ষিণ খোজারখলা, কাইস্থরাইল, দক্ষিণ ভার্থখলা, উমরকবুল, লাউয়াই এলাকার মানুষজন বিব্রত বোধ ও অতিষ্ঠ হচ্ছেন। গানের উচ্চ শব্দে রাতে ঘুমাতে পারছেন না এলাকার জনগণ।

এছাড়াও বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ, খোজারখলা মার্কাজ জামে মসজিদ, সিলেট রেলওয়ে জামে মসজিদ, মোহাম্মদিয়া জামে মসজিদ সহ আশপাশের মসজিদের মুসল্লিগণ মনোযোগ সহকারে নামাজ পড়তে পারছেন না।

মুসল্লিগণ ক্ষোভের সাথে জানান, ফজরের জামাত চলাকালীন সময় ৩৬০ আউলিয়া বাউল সংগঠন মাইকে গান পরিবেশন করে। এতে আমাদের নামাজে বিঘ্ন ঘটছে। অচিরে গান গাওয়া বন্ধ না করলে এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে মুসল্লিগণ গান বন্ধ করতে বাধ্য হবে।

সচেতন মহল বলেন, গানের নামে সময় অসময় সর্বমহলকে বিব্রত করা হচ্ছে। বিষয়টি আয়োজকদের বলার পরও তারা কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। বরং দিন দিন তারা আরো বেপরোয়া ভাবে গান বাজাচ্ছে।

তারা বলেন, এলাকায় খোজারখলা আদর্শ সমাজ কল্যাণ সংঘ সহ কয়েকটি সুপরিচিত ক্লাব রয়েছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে সহজে গান বন্ধ হবে। এলাকার শান্তিশৃংখরা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত সময়ে গান বন্ধ করে এলাকার সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল।

আলাপকালে দক্ষিণ সুরমার থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল ফজল বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •