বন্দর বাজার করিম উল্লাহ মার্কেটে,সিলিন্ডার বিষ্ফোরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশিত: ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৯

বন্দর বাজার করিম উল্লাহ মার্কেটে,সিলিন্ডার বিষ্ফোরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার চেষ্টা

রাকিব হাসান :: সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ করিম উল্লাহ মার্কেটে সিলিন্ডার বিষ্ফোরণের মাধ্যমে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক ব্যবসায়ী। তবে মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ী এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ভেস্তে যায় তার পরিকল্পনা। সেই সাথে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে করিম উল্লাহ মার্কেট।

বৃহস্পতিবার রাতে মো. আব্দুল ছালিক সাদেক আলী (৫৮) নামের ওই ব্যবসায়ী নিজ দোকান ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণের মাধ্যমে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।  তিনি ওসমানীনগর উপজেলার হলিমপুর গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে।

মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, করিম উল্লাহ মার্কেটের তৃতীয় তলায় নাইম টেলিকমের দোকানের মালিক লিটন মিয়া। দোকানের ভাড়াটিয়া সাদেক আলীর সাথে ভাড়ার মেয়াদ নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই নিয়ে বৃহস্পতিবার দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। ভাড়াটিয়া সাদেক আলী প্রায় ৩ কোটি টাকার ঋণগ্রস্ত। দোকানঘর ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। নানা ধরণের মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন তিনি। তাই হয়তো আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান- বৃহস্পতিবার দিনের বেলা থেকেই সাদেক আলী প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আত্মহত্যার। তিনি আশপাশের ব্যবসায়ীদের দিনের বেলা বলছিলেন, আমি আজ একেবারে চলে যাব। আমাকে খাইয়ে দাইয়ে খুশি করে বিদায় কর। তবে এমন ঘটনা হবে কেউ বুঝতে পারেন নি।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সাদেক আলী একটি গ্যাস সিলিন্ডার এবং বোতলে করে ৫ লিটার কেরোসিন নিয়ে নিজের দোকানে ঢুকে ভেতর থেকে সাটার বন্ধ করে দেন। আশপাশের ব্যবসায়ীরা বারবার ডাকা স্বত্বেও তিনি সাটার খুলছিলেন না। অন্যদের ডাকাডাকির সময় তিনি গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট করে আত্মহত্যার হুমকি দেন। উপায়ান্তর না দেখে ব্যবসায়ীরা বিষয়টি মার্কেটের স্বত্বাধিকারী আতাউল্লাহ সাকেরকে জানান।

আতাউল্লাহ সাকের তাৎক্ষণিক বিষয়টি কোতেয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মো. সেলিম মিঞাকে জানালে তিনি দ্রুত বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁঞা ও এসআই আব্দুল মন্নানকে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠান। পুলিশ গিয়ে নাঈম টেলিকমের সাটার ভেঙ্গে সাদেক আলীকে বের করে আনে। এসময় সেখানে থাকা দিয়াশলাই, মুখ খোলা বোতলে ৫ লিটার কেরোসিন ও রেগুলেটর লাগানো গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার উদ্ধার করে।

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মার্কেটের মালিক আতাউল্লাহ সাকের ও সিসিকের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। এরপর মো. আব্দুল ছালিক সাদেক আলীকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

ঘটনা সম্পর্কে সাদেক আলী জানান, তিনি আত্মহত্যা করতে চাননি। তিনি তার মেয়ের সংসারের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার ও কেরোসিন কিনেছিলেন। মার্কেটের দোকানটি তিনি ভাড়া নেননি, ২০০৩ সালে কিনেছিলেন। কিন্তু মার্কেট কর্তৃপক্ষ তাকে জোরপূর্বক দোকান থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া বলেন, ‘পুলিশ ফোর্স সময়মতো না পৌছলে হয়তো গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়ে করিম উল্লাহ মার্কেটে বড় ধরণের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতো। আমরা সাদেক আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

সিলেটপ্রেসডটকম /২৯ নভেম্বর ২০১৯/ এফ কে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ