বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নই আমার জীবনের লক্ষ্য : জাকির হোসেন

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নই আমার জীবনের লক্ষ্য : জাকির হোসেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :: সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেছেন, আমি রাজনীতি করার মূল উদ্দেশ্য মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থাকতে চাই। রাজনীতি মানে উন্নয়ন, রাজনীতি মানে মানবসেবা, রাজনীতি মানে দেশের সেবা করা। আমি মানবতার তাগিদ নিয়ে মানবতার কাজ করার জন্যই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। অনেকেই নিজের ব্যবসাকে প্রসার করার জন্য রাজনীতি করেন। কিন্তু আমি মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করছি এবং সেটাই করে যেতে চাই।

পজাকির হোসেন বলেন, আমি ৪০ বছর যাবৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। আমার আদর্শ বঙ্গবন্ধু, নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে আমার বড় পরিচয় আর নেই। আমি কেবলমাত্র দায়িত্ব পেয়েছি। পুর্ণাঙ্গ কমিটি হলে সবার মতামতের ভিত্তিতে মহানগর আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাবো। নেতৃত্ব ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু আমাদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এক। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মানে এক হয়ে কাজ করবো। অতীতে মাঠ কাপানো তুখোড় ছাত্রনেতা জাকির হোসেন বলেন, জাতির জনকের আদর্শ বাস্তবায়নে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে একনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

পরিচন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাস করায় কর্মীরা তাকে সাধারণ সম্পাদকের পদ পেতে সহায়তা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর দলকে আরো শক্তিশালী করতে পরিকল্পনার কথা নেতাদের সাথে শেয়ার করছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চলবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শতভাগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা চেতনার এবং নেতৃত্বের শতভাগ অনুসরন করে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নই আমার জীবনের লক্ষ্য। তাঁর স্বপ্নের বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাব। এটাই আমাদের শপথ। আগামি মুুজিবর্ষকে সামনে রেখে মহানগর আওয়ামী লীগ আরো বেগবান হবে। নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সবার মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শতভাগ বাস্তবায়ন চাই।

আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান অধ্যাপক জাকিরের পিতা সিলেট আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে দলের সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত সুবর্ণ জয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে দলীয় একনিষ্ঠ ত্যাগী কর্মী হিসেবে অধ্যাপক জাকির হোসেনের পিতা মো. তাজিদ হোসেনকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অধ্যাপক জাকির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করে সিলেট শহরতলীতে অবস্থিত শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এখনো তিনি এই কলেজে অধ্যাপক হিসেবে রয়েছেন।

তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেণ, রাজনীতি মানে উন্নয়ন, রাজনীতি মানে মানবসেবা, রাজনীতি মানে দেশের সেবা করা। আর মানবতার তাগিদ নিয়ে কাজ করার জন্যই রাজনীতিতে তার যুক্ত হওয়া। বলেন, আমি রাজনীতি করার মূল উদ্দেশ্য সুখে দুঃখে মানুষের পাশে থাকতে চাই। অনেকেই নিজের ব্যবসাকে প্রসার করার জন্য রাজনীতি করেন। কিন্তু আমি মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করছি এবং সেটাই করে যেতে চাই। প্রতিটি মানুষের শিক্ষা নিশ্চিত করে অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই। এটাই আমার স্বপ্ন। আমি পজিটিভ বাংলাদেশ দেখতে চাই।

জাকির হোসেন আরো বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আজ এই অবস্থানে আসা। ১৯৭৫ সালের পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ পরিবারের একজন সন্তান হিসেবে জাকির হোসেন স্কুল জীবন থেকে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের পক্ষে রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭৯ সালে তিনি মদন মোহন কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়কালীন সময় মানবিক শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সাংগঠনিকভাবে রাজনীতি শুরু করেন। তখন থেকেই তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করেন। তিনি জিয়াউর রহমান সরকার ও এরশাদ সরকার পতন এবং সিমিটার গ্যাস কোম্পানী লিজবিরোধী আন্দোলনে সফল ভূমিকা রাখেন। ২০০৪ সালে নগরীর গুলশান সেন্টারে আওয়ামী লীগের সভায় জঙ্গীদের গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন অধ্যাপক জাকির হোসেন। তার পেটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বের করা হলে তিনি আরোগ্য লাভ করেন। সেসময় চোখ, মাথা, হাটুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জাকির হোসেন গ্রেনেডের স্প্লিন্টারবিদ্ধ হন।

অধ্যাপক জাকির হোসেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের টানা ৫টি কমিটিতে বিভিন্ন পদে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৮৩-৮৬ সাল এবং ১৯৮১-৮৩ সাল পর্যন্ত দুইবার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬-৮৭ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের ১১ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৮৭-৯১ পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৯১-৯৩ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদার যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষানুরাগী হিসেবে তিনি সিলেট নগরীর মিরাবাজার মডেল হাইস্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, হৃদয়ে ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। ২০১৭-১৮ সালে ঢাকায় একুশে বই মেলায় অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের সম্পাদনায়, দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বঙ্গবন্ধুর মেয়ে তুমি শেখ হাসিনা’, ‘শেখ হাসিনার উক্তি, বাঙালির শক্তি’ শিরোনামে দুটি গীতি কবিতার বই প্রকাশ পায়। এছাড়াও আরো একটি বই তার প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনীতি এ নেতা বই প্রেমিক ও একজন দক্ষ লেখক।

 

সিলেটপ্রেসডটকম /১২ ডিসেম্বর ২০১৯/এফ কে 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend