নিত্যা প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগাম হীন,বাজারের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে

প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৯

নিত্যা প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগাম হীন,বাজারের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে

জুলহান চৌধুরী :: ক্রমেই বাড়ছে সকল ভোগ্য পণ্যের দাম। সপ্তাহ দশ দিনের ব্যাবধানে এক এক করে চাল, চিনি,ভোজ্যতেল সহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক বাজার বর্তমানে স্হিতিশীল থাকলেও দেশের বাজারে ভোগ্যপণ্যের চওড়া দাম উস্থান বাজারকে অস্তির করে তুলেছে। কয়েক মাস থেকে পেয়াঁজের পাগলা ঘোড়ার দৌড় দেখছে দেশের সাধারণ জনগণ সহ খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। পাগলা ঘোড়ার দৌড় থামার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই দামে
পেয়াঁজের স্বাদ ভুলে গেছেন অনেকে। আবার অনেকে পেয়াঁজ কেনা ও বন্ধ করে দিয়েছেন। তার পরও ছাড়া যায় না প্রয়োজনীয় জিনিস টি। কিন্তু এর লাগাম কেন টেনে ধরা হচ্ছে না তা বলতে পারছে না কেউ। কার হাতে এর নিয়ন্ত্রন তাও জানেন না। তার সাথে তাল মিলিয়ে বেড়ে চলছে অন্য সব জিনিস পত্রের দাম,
বর্তমানে আমন ধান কাটা চলছে বেশ কিছু দিন থেকে। নতুন চাল এখন বাজারে আসার কথা। সেই সাথে চালের দামও কমে যাওয়ার কথা, কিন্ত তা আর বিপরীত হয়ে উল্টো দাম বাড়ছে।
প্রতিটি চাল আকার বেদে ৫/৭ টাকা করে দাম বেড়েছে কেজি প্রতি দাম বাড়তি রসুনের । তবে আদা কমেছে কেজিতে ৩০/৪০ টাকা। বর্তমানে খুরচা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০টাকা। আদা ১৪০ টাকা। বাজারে শীতের সব্জির প্রচুর আমদানি থাকলেও দাম কমছে না কোন কিছুর। স্থানীয় বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১০০/৮০ টাকা,শিম ১২০ টাকা থেকে ৭০ টাকা করলা। ৮০ টাকা শষা ৭০ টাকা। গাজর ৬০ টাকা। ফুল কপি ৬০ টাকা। বাঁধা কপি ৪৫ টাকা। মূলা ৪০ টাকা। লাউ আকার বেধে ৮০থেকে ৬০ টাকা। পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে আলু ৩০ টাকা। কেজি যা আগে ছিল ২০ টাকা কেজি।
কম নেই শাকের দাম। আকার বেধে প্রতি আটি ১৫ থেকে ৪০ টাকা । বরবটি কেজি ৬০ টাকা। সব কিছুর দাম যেন আকাশ ছুঁই ছুই অবস্থা। কেন এমন অস্তির বাজার কেউ বলতে পারছেন না। আসলে হচ্ছে টা কি এ নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই কারোর। জনগণ নিরবে সব হজম করে যাচ্ছে, যা খাওয়ানো হচ্ছে তা খাচ্ছে। কারো যেন কোন দায়িত্ব নেই এসব দেখার।
শহর থেকে শুরু করে উপজেলার ছোট বড় সকল বাজারে শুধু পেঁয়াজে আর সবজি নিয়ে আলোচনা।পেয়াঁজের পাগলা ঘোড়া লাগামহীন হওয়ায় প্রভাব পড়েছে মুরগী ও মাংসের বাজারে।
দাম কমে গেছে বয়লার মুরগির, তবে গরুর মাংস কেউ খুব প্রয়োজন ছাড়া কিনতে রাজী নয়।বয়লার মুরগির
মেলা দিয়ে ক্রেতা পাচ্ছেন না অনেকে। কি দিয়ে কি করবে একজন দোকানীর কাছে হরেক রকম ক্রেতা থাকে
কেউ পণ্য কম কিনে কেউ বেশি কেনে। কিন্তু দাম বেড়ে গেলে তা সাধারণ ক্রেতার জন্য বোঝা হয়ে যায়। যখন হয় সব কি এক সাথো হয়।দাম যখন বাড়ছে একসাথে সব কিছু হুহু করে বাড়ছে। কেন এমন হচ্ছে তা প্রশ্ন অনেকের মনে। চাহিদা ও যোগানে ভারসাম্যহীনতা কেন, কেন বাজার বেসামাল হয়ে উঠে। বাজার অস্হির হওযার আরেকটি কারন হলো আন্তর্জাতিক বাজারে কোন পণ্যর দাম দ্রূত বেড়ে গেলে তার চাপ পড়ে অন্য দেশের বাজারে। কোন সময় প্রাকৃতিক দূর্যোগে শস্যর ক্ষতি হলে তার চাপ পড়ে বাজারে। কিন্তু আমাদের দেশের বাজারের পণ্যগুলো এসব ছাড়া ও হুহু করে বেড়ে যায় যে কোন সময়। যা বাড়ে তা যেন আর কমতে চায় না। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রন কার হাতে।

বাড়ছে যখন একসাথে তেল, চিনি সব কিছুর দাম বাড়ছে তেল লিটারে তিন থেকে চার টাকা বাড়তি । সব কিছুর পর পেয়াঁজ নিয়ে মানুষের যে দুশ্চিন্তা তা দুর করার কোন উপায় দেখছেন না স্হানীয়রা।
অর্থনীতি বিদগন মনে করেন বাংলাদেশের পণ্যর বাজার আমদানিকারক ও পাইকারী ব্যাবসায়ীরা গোপনে কলকাটি নাড়েন।কখনো তারা নিজেরা সিন্ডিকেট করেন।আবার কখনো রাষ্টের বিভিন্ন সংস্হার সুবিধা নিয়ে বাড়িয়ে দেন বিভিন্ন পণ্যর দাম। কিন্ত কথা হচ্ছে বাজার নিয়ন্ত্রনের জন্য তো আইন রয়েছে।সেই আইনে আছে কোন পণ্য কতদিন মজুদ করা যাবে।অন্য দেশে কোন পণ্যর দাম বেড়ে গেলে তাৎক্ষনিক বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অথচ আমাদের দেশে বলা নেই কওয়া নেই দাম বাড়ছে লাগামহীন ভাবে। তাথে নেই কোন প্রতিকার, তাই সাধারন মানুষের হজম করা ছ্ড়া কোন উপায় নেই।

আমাদের দেশের বাজার ব্যাবস্হা ও রয়েছে বেশ অপরিকল্পিত, এক এক জায়গা থেকে এক পণ্যর বাজার নিয়ন্ত্রন হয় এক এলাকা থেকে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রন হয় সাধারনত দেশের উওর অঞ্চল থেকে।সাধারনত দিনাজপুর, জয়পুরহাট, নওগা,কুষ্টিয়ার বড় বড় চাল মিলের মালিকরা। ভোজ্যতেলেরর বাজার নিয়ন্ত্রন করেন ঢাকা, চট্রগ্রাম, নারায়ণগঞ্জেরর পাচঁ, সাতটি পরিশোধন কারখ্নার মালিক। মসলা বাজার নিয়ন্ত্রনে ভুমিকা রাখেন চট্রগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমদানি কারক ব্যাবসায়ীরা। আর এ কারনেই ভোক্তভোগী গোটা দেশের ক্রেতাসাধারন।
বাজার নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে, এ আইনে উল্লেখ আছে তৃতীয় অধ্যায়ে পণ্য বা সেবা ক্রয়- বিক্রয় মুল্য অস্বাভাবিকভাবে নির্ধারন, উৎপাদন,সরবরাহ,বাজার সিমীত করলে তা প্রতিয়োগীতার পরিপন্থী বলে গন্য হবে।
ত্রতে জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু আমরা তা প্রয়োগ হতে দেখি না। পেয়াজ নিয়ে কয়েক মাস থেকে ব্যবসা নামক যে জুলুম করা হচ্ছে, সেই সব সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরোদ্ধে কোন ব্যবস্হা নিতে দেখি নি।
অথচ এরাই রাতের আধারে শত শত টন পচা পেয়াঁজ ময়লার বাগাড়ে ফেলে দিয়েছে কই এদের বিরোদ্ধে কোন ব্যবস্হা নেওয়া হয় না। আমরা সাধারন মানুষ চাই সরকার এই আইনের বাস্তব প্রয়োগ করে সিন্ডিকেট চক্রটিকে আইনের আওতায় নিয়ে কঠিন শাস্তির প্রদান করূক।আর জনগন যেন তার সুফল পায়, বাজার ব্যবস্হা যেন স্হিতিশীল থাকে। ক্ষয় ক্ষমতার ভিতর যেন থাকে নিত্যাপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। কথা হলো পণ্যমুল্য হঠাৎ বেড়ে গেলে এর যে প্রভাব পড়ে তা সুদূর প্রসারি। যারা দৈনিক খেটে খাওয়া মানুষ তারা সবচেয়ে বেশি ভোক্তভোগী হোন। এতে করে সরকারের ভালো অর্জন গুলো নষ্ট হয়ে যায়। সরকার শক্ত হাতে দ্রূত পরিস্হিতি মোকাবেলা করূক। আর ছাড় দিলে পরিস্হিতি ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে তাই আর দেরি না করে এখনই ব্যবস্হা জরূরি বলে মনে করি। নয়তো বাজার ব্যবস্হা আর ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে। আর যদি দাম বাড়াতেই হয় তবে সরকারের নিদিষ্ট ধরে বিক্রি করা হোক। পণ্য মুল্যর যৌক্তিক দাম যেন সরকার ন যেন ধার্য করে দেয় এই প্রত্যাশা রহিল। কারন দীর্ঘ দিনের পরিস্হিতির পরিসমাপ্তি ঘটুক, মানুষ যেন স্বল্প মূল্যে নিত্যাপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ক্রয় করতে পারে এই চাওয়া সবার মতো আমার। বাজারে ফিরে আসুক স্হীতিশীলতা এটাই সবার চাওয়া।

আরো পড়ুন  : জেনে নিন সিলেটের আজকের বাজার দর

লেখক :
সাংবাদিক / কলামিস্ট

সিলেটপ্রেসডটকম /০১ ডিসেম্বর ২০১৯/ এফ কে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ