নাহিদ শূন্য সিলেট নগরী!

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০১৯

নাহিদ শূন্য সিলেট নগরী!

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: নুরুল ইসলাম নাহিদ। সিলেট-৬ আসন থেকে চার বারের সংসদ সদস্য তিনি। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদ, এরআগেও ১৯৯৬ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল। টানা এক দশক ছিলেন মন্ত্রীত্বের চেয়ারে।

বিগত দিনে সিলেট থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক স্পীকার প্রয়াত হুমায়ন রশিদ চৌধুরী, সুরঞ্জিত সেন, দেওয়ান ফরিদ গাজীসহ স্বনামধন্য রাজনীতিবিদরা। তাঁদের ছাপিয়ে ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে জায়গা করে নেন দলটির সাবেক শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাহিদ।

গত নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে পাশ কাটিয়ে বিজয়ী হলেও মন্ত্রীত্বের চেয়ারে বসতে পারেননি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরামের এই সদস্য।

সিলেট থেকে কেন্দ্রের নেতৃত্বে থাকা সেই নুরুল ইসলাম নাহিদ স্থানীয় পর্যায়েও যেনো একেবারে অবমূল্যায়িত! বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সিলেট জেলা ওমহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল।  সম্মেলনকে সামনে রেখে সাজ সাজ রব সিলেটে। প্রচার প্রচারণায় নগরীর আনাচে-কানাচে শোভা পাচ্ছে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, তোরণ।

হাজার, হাজার ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে শোভা পাচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজিব ওয়াজেদ জয়, ওয়াবদুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের ছবি যুক্ত করেছেন নেতাকর্মীরা।
তাদের সাটনো, নির্মিত ব্যানার, ফেস্টুন আর তোরণে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিত, দলের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও কেন্দ্রীয় সদস্য, সিলেট মহানগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ছবিও শোভা পাচ্ছে। কিন্তু এসবের কোথাও নেই সিলেট থেকে দলের প্রেসিডিয়ামে ঠাঁই পাওয়া এই নেতার ছবি। এমনকি, বিগত দিনে মন্ত্রীত্ব থাকাকালে যেসব নেতারা সুবিধা নিয়েছেন, তাদের ব্যানারেও জায়গা হয়নি নাহিদের ছবি।

অথচ স্থানীয় জেলা ও মহানগর এবং কেন্দ্রের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের ছবি গুরুত্বের সঙ্গে হাজার হাজার ডিজিটাল ফেস্টুন, ব্যানার, পোস্টার ও তোরণে ব্যবহার হয়েছে।

সম্মেলনকে ঘিরে সাবেক এই মন্ত্রীর প্রতি অবজ্ঞার বিষয়টি এখন সিলেটে সাধারণ মানুষের মুখে আলোচনায়। যেমনটি বিগত দিনে মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বেলায় দেখা গেছে। মন্ত্রীত্ব ছাড়ার পর প্রথম নিজ ভূমি সিলেট সফরে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের যেতে দেখা যায়নি।

তবে আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবি কতিপয় নেতার কারণে নুরুল ইসলাম নাহিদ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। এমনকি নিজ নির্বাচনী এলাকা গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের নেতাকর্মীর ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছেও গুরুত্বহীন সাবেক এই শিক্ষামন্ত্রী।

নেতাককর্মীরা জানান, তার নির্বাচনী এলাকা গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে কমিটি নিয়েও তার হস্তক্ষেপে নেতাকর্মীরা নাহিদের উপর ক্ষুব্দ। গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগের কমিটিতেও হস্তক্ষেপ করে কাউন্সিলে কমিটি হতে দেননি তিনি। নিজের বলয়ের চার খলিফাকে নিয়েই ছিল তার পথ চলা।

তারা হলেন-কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য পরিচয়ধারী অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন, সমালোচিত সিকৃবি’র রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েব, বিয়ানীবাজার আওয়ামী লীগের নব গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক (সাবেক এসপিএস) দেওয়ান মকসুদুল ইসলাম আউয়াল ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী মিছবাহ উদ্দিন।  বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ইতোপূর্বে এই চার খলিফার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ ওঠেছে। এসব নেতাদের অনিয়মের কারণে নিজ ঘরেই কোনঠাসা নাহিদ।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন,  শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে নুরুল ইসলাম নাহিদকে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের কাছে ভিড়তে দেননি এই চার নেতা। যারাই মন্ত্রীর কাছে আসার চেষ্টা করেছেন, তাদের লাথি দিয়েছেন।  নেতাকর্মীর আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নের ধারে কাছেও ছিলেন না তারা।

নাম প্রকাশে অচ্ছুক সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ সারির কয়েক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পদ অনেক বড় একটি পদ। আর সিলেটের একমাত্র নেতা নুরুল ইসলাম নাহিদ এই পদে আছেন। নিশ্চই বিগত দিনে নেতাকর্মীদের আশা-আকাঙ্খা পূরণ হয়নি, তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে দূরন্ত ছিল। যে কারণে নেতাকর্মীরা তার ছবিও ব্যবহার করেননি।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সাবেক এই মন্ত্রীর উপর ক্ষুব্দ। নয়তো ব্যানার-পোস্টারে তাঁর (নাহিদের) ছবি থাকারতো কথা। নেতাকর্মীর ক্ষোভের প্রতিফলন এটি।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী থাকাবস্থায় অতীতে জননেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত আবদুস সামাদ আজাদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কিংবা হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী সুযোগ পেলেই সিলেটের দলীয় নেতাকর্মীদের খোজ খবর নিতেই।
সিলেট সফরকালে তাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন নেতাকর্মীরা।  কিন্তু নুরুল ইসলাম নাহিদের ক্ষেত্রে তা দেখা যাচ্ছে না।

নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা পয়েন্টের চার পাশে বিশালাকারের বিল বোর্ড আর ফেস্টুনে হারিয়ে গেছে আশপাশের প্রকৃতিও। অন্তত কোটি টাকা ব্যয় করে বিশালাকারের ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টারে জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ছবি দিয়ে প্রচারণা চালালেও কোথাও নেই নুরুল ইসলাম নাহিদের ছবি।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদও উপস্থিত থাকবেন।

আরো পড়ুন : সিলেট আওয়ামী লীগে প্রবীণ-নবীনে লড়াই

সিলেটপ্রেসডটকম /০৪ ডিসেম্বর ২০১৯/ রাকিব হাসান

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend