ধরাধরপুরে পাপের ফসল নিয়ে চলছে লঙ্কাকাণ্ড

প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২০

ধরাধরপুরে পাপের ফসল নিয়ে চলছে লঙ্কাকাণ্ড

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনার বাসিন্দা আলীর পুত্র শহীদের সাথে কাজের বুয়ার অবৈধ সম্পর্কে নবজাতকের জন্ম হলে রাতের আঁধারে শিশুটিকে ফেলে দেয়া হয় ধরাধরপুর এলাকায়। ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে কয়েকবার দফা শালিস বৈঠক হয়। দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে সমাজপতিরা ম্যানেজ হওয়ায় অপরাধীরা রয়েছে অনেকটা নিরাপদে। পুলিশের সাথে সমাজপতিদের যোগসাজশে থানা পুলিশও রয়েছে রহস্যজনক অবস্থানে।

প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে সাথে কথাবলে জানা যায়, তেঁতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলীর বাড়িতে পাঁচ সন্তানের জননী হাজেরা নামের এক মহিলা বুয়ার কাজ করতেন। তিনি কিশোরগঞ্জের হাতারিয়া পাড়ার আতাউরের প্রথম স্ত্রী বলে জানান হাজেরা নিযে’ই। তার ঘরে রনি, নাজমিন, নাছিমা, ইমন, নাইমা নামে তার পাঁচ সন্তান রয়েছে।

দশ বছর ধরে স্ত্রী সন্তানদের সাথে স্বামী আতাউরের কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন হাজেরার বড় সন্তান চন্ডিপুল স্ট্যান্ডের কার চালক রনি। তারা ধরাধরপুর রোডের তেলিবাজারে অবস্থিত আলী মেম্বারের মালিকানাধীন কলোনীতে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছেন ও তার মা মেম্বারের বাড়ি কাজ করেন বলে জানায় রনি।

স্বামী পরিত্যক্তা হাজেরা আলী মেম্বারের বাড়িতে বুয়ার কাজ করার সুবাদে মেম্বারের ছেলে শহীদের সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। শহীদ সময় অসময় হাজেরার ঘরে যাওয়া আসা করতে দেখেছেন প্রতিবেশীরা। অবৈধ সম্পর্কে হাজেরার শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে অনেকের সাথে কলোনীর বাসিন্দা একাদিক মহিলা দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। এমনকি কলোনীর পাশের মুদির দোকানদার আমিনুল ইসলাম গেদাও দেখেছেন বলে জানান।

অবৈধ সম্পর্কে শিশুটির জন্ম হলে লোকলজ্জার ভয়ে পুরাতন কাপড়ে মোড়ে গত ১১ ডিসেম্বর ধরাধরপুর এলাকার হযরত আরকুম শাহ (রহ:) মাজার সংলগ্ন ক্ষেতের জমির ঝোপঝাড়ে ফেলে দেয়া হয়।

সকালে খেলতে যাওয়া শিশুরা নবজাতকের নড়াচড়া করতে দেখে অন্যদের দেখায়। তখন জানা জানি হলে জামাল মিয়ার কলোনীর ভাড়াটিয়া সিএনজিচালক সুহেল মিয়ার স্ত্রী রুবী বেগম নবজাতককে তার ঘরে নিয়ে লালনপালন করেন। অসুস্থ নবজাতককে চিকিৎসাও করান। তিনি তার নাম রাখেন মো: ইব্রাহিম আলী বাদশা। নবজাতককে যে কাপড়ে মুড়ে রাখা হয় সেই কাপড় হাজেরাকে পড়তে দেখেছেন কলোনীর বাসিন্দাসহ অনেকে। এক সপ্তাহ পর ১৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় রুবী বেগমের কাছ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে বাগবাড়ীর ছোটমনি নিবাসের তত্ত্বাবধানে রেখে আসে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। লিখিত অভিযোগ না পাওয়ার অজুহাতে পুলিশ ঘৃণ্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি ধরাধরপুর, বদিকোনাসহ সর্বত্র জানাজানি হলে হাজেরাকে সরিয়ে অন্যত্র ও নবজাতক জন্মদানে সহায়তাকারী দাই মহিলা আলীর কলোনীর বাসিন্দা আহাদের স্ত্রী শাফিয়া উরফে লালিকে ছাতকে রাখা হয়।

টাকা দিয়ে, সিলেট ছাঁড়া করার কথা বলে ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে লালি এবং হাজেরার পরিবারের মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে নবজাতককে আশ্রয়দাতা রুবী বেগন ও তার বাসার মালিককে।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ধরাধরপুরের জামালমিয়ার বাড়িতে দু’বার ও স্কুলে একবার শালিস বৈঠক হয়। তার আগে শহীদ পক্ষের লোকজনের সাথে সমাজপতিদের একজনের কয়েক দফা গোপন বৈঠক হয়। শালিসে কৌশলে অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে করা হয় নানা আলোচনা। সেজন্য দুই লক্ষ টাকায় রফাদফা হয়। নগদ এক লক্ষ টাকা নেয়া হয়। পত্রিকায় লেখালেখি বন্ধ লাখতে আরো নেয়া হয় বিশ হাজার টাকা। বাকি এক লক্ষ টাকা শালিসের রায়ের পর দেয়ার কথা হয়। লেনদেনের বিষয়টি অনেকে বুঝে ফেলায় ঘটনাটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। টাকা লেনদেন সত্যতা পাওয়া গেছে শহীদের বক্তব্যে।

এদিকে ঘটার প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখ, কান বন্ধ রাখতে দেখানো হচ্ছে ভয়ভীতি। পত্রিকার কাউকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে এবং কোনো সাংবাদিক ওইসব বিষয় নিয়ে লেখালেখি করলে তাকেও দেখে নেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে এলাকার কয়েকজনকে।

অভিযুক্ত হাজেরার সাথে তার বাসায় কথা হলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেম্বারের বাড়ি বুয়ার কাজ করছেন স্বীকার করে নানা অসংলগ্ন কথা বলে নবজাতকটি তার ঔরসজাত সন্তান নয় বলে জানান। তবে তার প্রতিবেশীরা বলেছেন তিনিই শিশুটির জন্মদাতা মা। তারা হাজেরার শারীরিক পরিবর্তন দেখেছেন। একই কথা বলেছেন দোকানদার গেদা।

অভিযুক্ত শহীদের ফোনে কল দিলে তিনি এ বিষয়ে এলাকার মুরব্বীদের সাথে কথা বলতে পরামর্শ দেন। তিনি কোনো বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

তেঁতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার, বদীকোনার বাসিন্দা আলীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করে সংবাদকর্মী পরিচয় বুঝতে পেরে কল কেটে দেন। বারবার কল দিলে পরে আর কল রিসিভ করেন নি।

এ বিয়ের সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল অবগত রয়েছেন। সমাজে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। সূত্র : বাংলার বারুদ

আরও পড়ুন : দক্ষিণ সুরমার ধরাধরপুরে পিতৃপরিচয়হীন নবজাতক উদ্ধার

আরও পড়ুন : তেঁতলী ইউপিতে কাজের বুয়ার সাথে অবৈধ সম্পর্কে জন্ম নিলো নবজাতক 

আরও পড়ুন : ধরাধরপুরে পাওয়া সেই নবজাতক এখন ছোটমনি নিবাসের বাসিন্দা

সিলেটপ্রেসডটকম/১৬ জানুয়ারি ২০২০/এফ কে 

Send this to a friend