কোম্পানীগঞ্জ-সালুটিকর রোড
দিনভর দুর্ভোগের পর অটোরিক্সা ধর্মঘট স্থগিত

প্রকাশিত: ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>কোম্পানীগঞ্জ-সালুটিকর রোড</span> <br/> দিনভর দুর্ভোগের পর অটোরিক্সা ধর্মঘট স্থগিত

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক :: সিলেটের সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ রোডে সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে পিইসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন অভিভাবকরা। নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে তাদের দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে অথবা অন্য কারো সহায়তা নিতে হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ৪ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকে কোম্পানীগঞ্জ-সালুটিকর রোডের সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক সংগঠন। যদিও রাতে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বৈঠকে পিইসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ধর্মঘট স্থগিত করেন। তবে বাস ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধন করা, সিএনজি অটোরিক্সার রেজিস্ট্রেশন প্রদান, বিআরটিসির লাইসেন্স প্রদানে হয়রানি বন্ধ করে কম খরচে নির্দিষ্ট সময়ে লাইসেন্স প্রদান এবং কোম্পানীগঞ্জ। ভোলাগঞ্জ সড়কে বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ করার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি ডাকেন আম্বরখানা-সালুটিকর শাখা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন। ফলে নগরীর আম্বরখানা থেকে বিমানবন্দর, কোম্পানীগঞ্জ, সাহেববাজার, গোয়াইনঘাট ও সালুটিকর রোডে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ থাকে। এর আগের দিন গত সোমবার থেকেই কোম্পানীগঞ্জ সড়কে চলছে বাস চালকদের ধর্মঘট। ফলে গতকাল মঙ্গলবার সকালে মানুষ কাজে যাওয়ার জন্য বের হয়ে কোন যানবাহন পায়নি। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সাধারণ মানুষকে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বিভিন্ন স্ট্যান্ড ও পয়েন্টে গাড়ির জন্য শত শত মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকেন। বৃদ্ধ ও নারীদের অবস্থা ছিল বেশি শোচনীয়। তাদের ক্লান্ত হয়ে অসহায় ভাবে বসে থাকতে দেখা যায়। অনেকে গন্তব্যে না গিয়ে ফিরে যান। এদিকে, ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন পিইসি পরীক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকরা। আগে থেকেই বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এবং গতকাল থেকে সিএনজি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সড়কে এসে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েও কোন যানবাহন পাননি তারা। পরে পাঁয়ে হেঁটে অথবা অন্য কারো সহায়তায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান তারা। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, কাজে যাওয়ার সময় দুই পিইসি পরীক্ষার্থীকে পায়ে হেঁটে কেন্দ্রে যেতে দেখে তিনি তার মোটরসাইকেল দিয়ে পৌছে দেন।
এদিকে, দিনভর ভোগান্তির শেষে রাতে জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের সাথে সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বৈঠকে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়। গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ ও কোম্পানীগগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সভায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানান সিএনজি নেতৃবৃন্দ। সভায় আম্বরখানা-সালুটিকর শাখা সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি নাসির উদ্দিন নৌসাদ, সহ সম্পাদক মোস্তাক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক এম নুরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে আম্বরখানা-সালুটিকর সিএনজি অটোরিক্সা শাখা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেন খান বলেন, কোম্পানীগঞ্জ সড়ক যখন যান চলাচলের অনুপযোগী ছিল তখন তারা কষ্ট করে গাড়ি চালিয়েছেন। এখন সড়ক ভালো হতেই বিআরটিসির বাস চালু করা হয়েছে-যা গ্রহণযোগ্য নয়। এই সড়কে বিআরটিসি বাস বন্ধ করতে হবে। এছাড়া, নতুন সড়ক পরিবহন আইনে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী ধারাগুলো পরিবর্তন করতে হবে। যেসব সিএনজি অটোরিক্সা ইতিমধ্যে ক্রয় করা হয়েছে সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন প্রদান এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে বিআরটিসির হয়রানি বন্ধ করে কম খরচে নির্দিষ্ট সময়ে লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে, সিলেট-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ-গোয়াইনঘাট বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. রিমাদ আহমদ রুবেল জানান, কোম্পানীগঞ্জ সড়ক যখন বেহাল ছিল-তখন তারা ক্ষতি স্বীকার করেও সেবা দিয়ে গেছেন। এখন নীতিমালা না মেনেই বিআরটিসির বাস চালু করা হয়েছে। বিআরসিটির বাস বন্ধ না করলে ধর্মঘট চলবে। তবে বিআরটিসি সিলেটের সহকারী পরিচালক সানাউল হক বলেন, বিআরটিসির বাস যেকোনো রুটে, যেকোন সময়, যে কোন স্থান থেকে চলতে পারে।

সিলেটপ্রেসডটকম /২০ নভেম্বর ২০১৯/ এফ কে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ