তোরণ ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে যাচ্ছে নগরী

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

তোরণ ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে যাচ্ছে নগরী

রেজওয়ান আহমদ :: আগামী ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে যাচ্ছে নগরী। নিজ দলের নেতাদের পক্ষ নিয়ে কর্মীরা প্রার্থীদের ছবি দিয়ে ব্যানার ফেস্টুন বানিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে লাগিয়ে দিচ্ছে। যার কারণে নতুন রূপে সাজছে নগরী। সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। প্রার্থী ও কর্মীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নগরী। ৫ ডিসেম্বর আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে নেতা-কর্মীদের। ওইদিন জানা যাবে, কারা আসছেন নতুন নেতৃত্বে। সম্মেলনকে সফল করে তুলতে ঘুম নেই নেতা-কর্মীদের মাঝে। সকাল থেকে গভীর রাত পযর্ন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
জেলা ও মহানগর কমিটিতে পদ পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন আলাপ-আলোচনা। কেন্দ্রীয় নেতারা যোগ্য নেতার হাতে তুলে দেবেন দলীয় পদ। যারা দলের জন্য কাজ করে যাবেন এবং কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে রাখবেন এমন নেতার কাছে দায়িত্ব তুলে দিবেন বলে আশা করছেন কর্মীরা।
২০১১ সালে নভেম্বরে কোনো সম্মেলন ছাড়াই করা হয়েছিল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি। এই কমিটি দিয়ে প্রায় তিনবছর দলীয় কার্যক্রম চালানো হয়। ২০১৪ সালের নভেম্বরে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। এর পর আর কমিটি গঠন না করে আগের কমিটি দিয়ে এতদিন ধরে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন নেতারা। দলকে আরো গতিশীল করতে পুরাতন কমিটি বাতিল করে সারাদেশে নতুন করে কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন প্রতিটি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন করতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দেন। এরপর গত ২ অক্টোবর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে উপজেলা, পৌর ও ওর্য়াডের সম্মেলন করে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা শুরু হয়েছে। কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছেÑ কারা আসছেন তাদের অভিভাবক হয়ে। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন-পুরাতন নেতাদের মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।
সম্মেলনকে ঘিরে মহানগর কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন নতুন ও পুরাতন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
এদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগামী ৫ ডিসেম্বর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ত্রি-বার্ষিক সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে যৌথ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই প্রস্তুতি সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেলা ১১টায় সমাবেশ উদ্বোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পৃথক পৃথক উপ কমিটি গঠন ও স্ব স্ব বিষয়ক আহŸায়কবৃন্দ সমন্বয় গঠন করবেন। নগরময় আলোকসজ্জা, পোস্টার, বিলবোর্ড গেইট বিভিন্ন প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভায় সামগ্রিক বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সহ সভাপতি এডভোকেট রাজ উদ্দিন আহমদ, সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ার, বিজিত চৌধুরী, অধ্যাপক জাকির হোসেন, নাসির উদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম কামাল, এডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী, মোহাম্মদ আলী দুলাল, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, দপ্তর সম্পাদক সায়ফুল আলম রুহেল, প্রচার সম্পাদক এডভোকেট মাহফুজুর রহমান, তপন মিত্র, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রনজিত সরকার, কবির উদ্দিন আহমদ, হাজী আহমদ, আজহার উদ্দিন জাহাঙ্গীর, প্রিন্স সদরুজ্জামান, আজাদুর রহমান আজাদ, জুবের খান, নুরুল আমিন, এডভোকেট বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, এডভোকেট আজমল আলী, আব্দুস সোবহান, আব্দুল গফফার খান প্রমুখ।

 

সিলেটপ্রেসডটকম /১৯ নভেম্বর ২০১৯/ রাকিব হাসান 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ