ঢাবি ছাত্রীর জবানবন্দি, জানা গেলো ধর্ষণের বিবরণ

প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২০

ঢাবি ছাত্রীর জবানবন্দি, জানা গেলো ধর্ষণের বিবরণ

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: ঢাবি ছাত্রীর জবানবন্দি, জানা গেলো ধর্ষণের বিবরণ রবিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা। কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নামার পর শেওড়ায় বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন। এমন সময় পেছন থেকে তার মুখ চেপে ধরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কাছে গলফ ক্লাব সীমানার শেষ প্রান্তে লতাগুল্ম ঘেরা একটি ঝোপের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ওই ছাত্রীকে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে মেয়েটির ঘড়ি, ইনহেলার, ক্লাসের নোটবুক, লেকচার শিট, চাবির রিং ও সালোয়ার কামিজ এবং এক জোড়া স্যান্ডেল, কালো রঙের একটি জিন্স প্যান্ট উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঘটনার পর কিছুদূর হেটে রিকশা কিংবা সিএনজি অটোরিকশা না পেয়ে রাস্তা পার হয়ে একা একাই রাত ১০টার দিকে বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে মেয়েটি। রাত সাড়ে ১২টার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, নিজেকে রক্ষা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে মেয়েটি। সোমবার রাতে মেয়েটির সঙ্গে হাসপাতালেই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। তার সঙ্গে কথা হয়েছে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর। কিভাবে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার ওপর ধর্ষণ-নির্যাতন চালানো হয়েছে তারই বিবরণ জানা গেছে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের কথায়।

ড. সাদেকা হালিম ও ভুক্তভোগী মেয়েটির সহপাঠীরা গণমাধ্যমকে জানান, ঠিক কতক্ষণ মেয়েটি অচেতন ছিল সে বলতে পারেনি। তবে জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর দেখে তখনও ওই ধর্ষক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

ভুক্তভোগী মেয়েটির বরাত দিয়ে ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘ওর সামনে পরীক্ষা। তাই কিছু বই, বাড়তি পোশাক ও কিছু নোটস নিয়ে সে বান্ধবীর বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। মেয়েটির বিবরণীতে ধর্ষক একজনই ছিল।’

ধর্ষকের চেহারা মনে আছে কি-না কিংবা দেখতে কেমন ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘ওর কাছে দেখে মনে হচ্ছিল সিরিয়াল কিলার। যে ঠান্ডা মাথায় একাধিকবার ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে। মেয়েটিকে জোর করে পোশাকও পরিবর্তন করিয়েছে, পরে আবার ধর্ষণ করেছে। ধর্ষক বারবার মেয়েটির পরিচয় জানতে চেয়েছে। মেয়েটি আন্দাজ করেছিল- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় পেলে তাকে মেরে ফেলতে পারে। তাই সে মুখ খোলেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমি তার (ভুক্তভোগী ছাত্রী) সঙ্গে কথা বলেছি। তার বিবরণ শুনছিলাম। তখন ভাবছিলাম- সে আমারই মেয়ে। কী প্রচণ্ড ব্যথা সহ্য করেছে সে!’

ড. সাদেকা হালিম ছাড়াও ওই ছাত্রীর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজনের কথা হয়েছে। তারা মেয়েটির বিবরণীর উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ধর্ষক বারবার আমার নাম জিজ্ঞেস করছিল। আমি ভাবছিলাম, আমি ঢাবি শিক্ষার্থী বললে আমাকে মেরে ফেলবে। আমার পরিচয় জানলে আমি বাঁচবো না। ওই লোক খুব দাম্ভিক ছিল। আমি তাকে প্রতিরোধ করতে পারিনি। ঘটনাস্থল এত অনিরাপদ হবে- না জানলে কেউ আন্দাজও করতে পারবে না।’

মেয়েটির সঙ্গে কথা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফারও। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,

‘অসম্ভব মানসিক শক্তি ছিল বলেই তিন ঘণ্টা পর সে পালিয়ে আসতে পেরেছে। ধর্ষকের চেহারার বিষয়ে পুলিশকে বিস্তারিত জানিয়েছে সে। ধর্ষক লোকটি দাম্ভিক ছিল বলেও জানিয়েছে। তাকে পেছন থেকে মুখ চাপা দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’

এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর আগামীকে সহজ করার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ড. সাদেকা হালিম। তিনি বলেছেন, ‘মেয়েটির এখন শুধু মানসিক সহযোগিতা দরকার। সবাই তার পাশে আছে। তার যথাযথ রেস্ট দরকার।’

সিলেটপ্রেসডটকম/০৭ জানুয়ারি ২০২০/এফ কে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend