জৈন্তাপুর সীমান্তের অরক্ষিত ভারতে পাচার হচ্ছে মটরশুটি মশুর ডাল

প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

জৈন্তাপুর সীমান্তের অরক্ষিত ভারতে পাচার হচ্ছে মটরশুটি মশুর ডাল

নাজমুল ইসলাম,জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :: মেঘালয়-জৈন্তাপুর সীমান্ত এখন অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন রাতে অবৈধ পথে ভারতে পাচার করা হচ্ছে বাংলাদেশী মটরশুটি সহ নানা ধরনের পণ্য। জৈন্তাপুর সীমান্ত এখন পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন চোরাই পথ প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষ সহ নানা অবৈধ পন্য। প্রশাসনের সামনে চলছে অবৈধ ভারতীয় পশুরহাট। সেংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ স্থানীয় প্রশাসন অনেকটা নিরব ভূমিকায় রয়েছে।
শ্রীপুর, মিনাটিলা, ডিবির হাওড়, জৈন্তাপুর, লালাখাল ও সুরাইঘাট সীমান্ত ফাঁড়ীর বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় চোরাই পথে আসা গরু সহ অবৈধ পণ্য আটক করার কথা জানান। বিএসএফ’র সদস্য কর্তৃক মাঝে মধ্যে বাংলাদেশী মটরশুটি বুঝাই নৌকা আটক করার খবর জানা যায়। শ্রীপুর, মিনাটিলা, ডিবির হাওড়, জৈন্তাপুর, লালাখাল ও সুরাইঘাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় গরু মহিষ সহ অবৈধ মালামাল প্রবেশ এবং বাংলাদেশী মটরশুটি অবাধে ভারতে পাচার করা হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা রাতে উপজেলা সদরের বাস ষ্টেশন হতে লেগুনা, পিকআপ ও টমটম গাড়ী বুঝাই করে মটরশুটি আলুবাগান, শ্রীপুর, মোকামপুঞ্জি, মিনাটিলা, কাঠালবাড়ী, কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওর, ডিবির হাওর (আসামপাড়া), টিপরাখলা, কমলাবাড়ী, গুয়াবাড়ী, হর্নি, লালাখাল, বাঘছড়া, তুমইর সীমান্ত দিয়ে ওপারে সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে লালাখাল সীমান্তের সারী নদী হতে নৌকা দিয়ে মটরশুটি, মশুরে ডাল, চানা ডাল ভারতে পাঁচার করা হচ্ছে। চোরাকারবারীরা জৈন্তাপুর সীমান্তের বিভিন্ন চোরাই পথ ব্যবহার করে থাকে। সরকারী রাজস্ব আয় ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতে পাঁচার করা হচ্ছে বাংলদেশী মটরশুটি সহ নানান ধরনের পন্য সামগ্রী। ভারত হতে অবৈধ পথে গরু মহিষ সহ মোবাইল, হরলিক্স,ঔষধ এবং উন্নত মানের মদ, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, কসমেট্রিক্স, নাছির বিড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
সম্প্রতি ভারতীয় বিএসএফ ডিবির হাওর (আসামপাড়া) এলাকার ১২৮৬ রিভার্স পিলার এলাকা দিয়ে ১০টি নৌকা ভর্তি মটরশুটি আটক করে বলে জানা যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক অনেক নেতাকর্মী অধিক মুনাফার লোভে এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। অবাধে চোরাকারবার বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী গ্রাম গুলিতে নানা অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে। ভারতের মেঘালয়-বাংলাদেশের জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ ও বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি’র নজরদারি এড়িয়ে চোরাকারবার ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনরত বিএসএফ ও বিজিবি‘র সদস্যদের প্রত্যক্ষ মদদেই সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবার কার্যক্রম সংগঠিত হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানায়।
জৈন্তাপুর উপজেলা সদরে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করা পশুরহাট পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন? প্রতিদিন জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের পূর্ব বাজার, দরবস্ত বাজার এবং হরিপুর বাজারে অবৈধ পশুরহাট পরিচালনা করা হচ্ছে। উপজেলা সদরে ভারতীয় অবৈধ গরুরহাট উপজেলা প্রশাসন হতে মাত্র ১শত গজ দুরে অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদেই অবৈধ ভারতীয় পশুরহাট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করে। সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারীদের একটি প্রভাবশালী নেটওর্য়াক রয়েছে। এই ব্যবসায় সক্রিয় ভাবে রাজনৈতিক দলের অনেকের সংশ্লিষ্টতা থাকায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাগণ প্রাণের ভয়ে প্রতিবাদ করে না। উপজেলা সদরের জৈন্তাপুর বাজারে প্রতিদিন ভারতীয় অবৈধ পশুর হাট পরিচালনা করে বাজারের মুল অবকাঠামো পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করার পরও অবৈধ ভারতীয় পশুর হাট বন্ধ করতে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিগত ২১নভেম্বর উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত মহান বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভায় উপজেলা যুবলীগ নেতা প্রশাসনের সামনে মাত্র ১শত গজ অভ্যন্তরে ভারতীয় অবৈধ পশুরহাট পরিচালনা করা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে জানিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় ছাড়া জবাব দিয়ে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় দিয়ে অবাধে অবৈধ ভাবে গরু-মহিষ প্রবেশ করার কথা স্বীকার করেন। ভারতীয় গরু ব্যবসায় রাজনৈতিক সক্রিয় নেতাকর্মী এবং জনপ্রতিনিধি জড়ীত হয়ে একটি শক্তিশালী চোরাকারবারী নেটওর্য়াক গড়ে তুলা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকার সন্ধ্যা রাত হতে ভোররাত পর্যন্ত জৈন্তাপুর উপজেলার আলুবাগান, শ্রীপুর, মোকামপুঞ্জি, মিনাটিলা, কাঠালবাড়ী, কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওড়, ডিবির হাওড় (আসামপাড়া), টিপরাখলা, কমলাবাড়ী, গুয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, লালাখাল, বাঘছড়া, তুমইর, বাঘছড়া, অফিফা নগর, সুরাইঘাট ইত্যাদি এলাকা দিয়ে মটরশুটি ভারতে পাচার করা হচ্ছে। ভারত হতে অবৈধ পথে আসা গরু-মহিষ কানাইঘাট উপজেলার চতুল বাজার এবং উপজেলা সদরের পূর্ব বাজার হয়ে সিলেট তামাবিল হাইওয়ে রাস্তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গরু মহিষ পাচার করা হচ্ছে। চলবেে,,,,,,

আরো পড়ুন : চোরই পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষ

সিলেটপ্রেসডটকম /১০ ডিসেম্বর ২০১৯/এফ কে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend