জগন্নাথপুরে ‘পানিতে ডুবে’ শিশুর মৃত্যু ৩ মাস পর আদালতে হত্যা মামলা

প্রকাশিত: ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

জগন্নাথপুরে ‘পানিতে ডুবে’ শিশুর মৃত্যু ৩ মাস পর আদালতে হত্যা মামলা

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া,অতিথি প্রতিবেদক :: সিলেটের জগন্নাথপুরে পানিতে ডুবে শিশু সোহাগের মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে এখন ধ্রুর্মজালের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তিন মাস পর আদালতে দায়ের করা হয়েছে হত্যা মামলা। এ ঘটনায় প্রথম দফার থানা পুলিশকে থানায় কোনো মামলা আছে কি না জানতে চেয়েছেন আদালত। তবে এখন দায়ের করা এজহারের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জগন্নাথপুর থানা পুলিশকে।
মামলার নয় মাস আগে প্রবাসে থাকা রনি নামে এক ব্যক্তিকে ও করা হয়েছে এ মামলার এজহারভুক্ত ২নং আসামী। অথচ এজাহারে বলা হয়েছে, তিনি একটি শিশুকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছেন। তাও ঘটনার তিন মাস পর সেই এজাহার দাখিল করা হয়েছে আদালতে। এতে স্থানীয় জগন্নাথপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দীপক কুমার ঘোষকে স্বাক্ষী করা হলেও, তিনিও নিজেকে স্বাক্ষী করা হয়েছে সম্পর্কে জানেন না কিছুই। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর পৌর এলাকায়। এর আগে পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশকে না জানিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়েছে পরিবারের স্বদ্দ্যোগে। ঘটনার তিন মাস পর স্থানীয় এলাকার কিছু ব্যক্তির সাথে জগন্নাথপুর বাজারে নিহত শিশুর পিতা আমিরের ঝগড়া-ঝাঁটি হলে এরই সূত্র পাত ধরে দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। যেটি বাদী পক্ষের লোকজনও স্বীকার করেছেন মিডিয়া কর্মীদের কাছে।
ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে।
পশ্চিম ভবানীপুর এলাকার মো: আমির খানের স্ত্রী মোছাঃ সুজিয়া বেগম বাদী হয়ে সম্প্রতি আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট আদালত জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ-এ একটি সিআর মামলা দায়ের করেন যাহার মামলা (নং-১০৯)। এ মামলায় ১৩ ব্যক্তিকে আসামী ও ৬ ব্যক্তিকে করা হয়েছে স্বাক্ষী। দায়ের করা অভিযোগের ২ নং আসামী রনি ঘটনার আগে থেকেই আছেন বিদেশে ও স্বাক্ষীদের মধ্যে স্থানীয় কাউন্সিলর দীপক কুমার ঘোষ নিজেও জানেন না কিছুই। আদালত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য জগন্নাথপুর থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, চলতি বছরের ১ জুন সুজিয়া বেগমের ছেলে সোহাগ মিয়া ইফতারের জন্য মসজিদে গিয়ে বাড়ি ফিরে আসেনি। পরে জানতে পারেন রনি মিয়া তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে ডোবা থেকে লাশ উদ্ধি করা হয়। নিহতের ভাই বাড়ির পাশের একটি ডোবায় তাকে দেখে খবর দিলে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ, এমনটাই জানিয়েছেন বাদি পরিবার। নিহতের মা সুজিয়া বেগমের ধারণা, রনির যোগসাজশে আসামীরা তার ছেলেকে হত্যা করে। তবে বর্তমানে প্রবাসী রনির বিষয়ে নিহতের পরিবারই বলছেন মামলায় ভুলে নাম দেওয়া হয়েছে। এতেই কি প্রমাণ হয় না পানিতে পড়ে মৃত শিশুকে ব্যবহার করে তিন মাস পর কারোনাকারো ইন্দনে দায়ের করা হয়েছে হত্যা মামলা। এমন প্রশ্ন করছেন স্থানীয় সচেতন জনতা। সরজমিনে জগন্নাথপুর গেলে, স্থানীয় পশ্চিম ভবানীপুর এলাকা জন প্রতিনিধি, মুরব্বি ও এলাকার লোকজন এরকম অনেক প্রশ্নের উত্তর চান মিডিয়া কর্মীদের কাছে।

এদিকে এ ঘটনা সম্পর্কে পাশ্চিম ভবানীপুরে গেলে সুজিয়া বেগম ও তার পরিবারের লোকজন ছাড়া এলাকার অন্য কোনো লোকজন এমন কোনো ঘটনার সাথে আসামীদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করতে রাজি হননি মিডিয়া কর্মীদের কাছে। কাউন্সিলর দীপক কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমাকে এ মামলার স্বাক্ষী করা হয়েছে, অথচ আমি এর কিছুই জানি না।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন নিহতের পরিবারের সবাই বলেছে, সোহাগ পানিতে ডুবে মারা গিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে তারা না বলেছে। অথচ ঘটনার প্রায় তিন মাস পর আদালতে হত্যা মামলা করেছে। এখন তদন্তেই সব বেরিয়ে আসবে।’
সাবেক কাউন্সিলর মইন উদ্দিন বলেন, ‘এ মামলা দায়ের যে পরিকল্পিত তা স্পষ্ট। কারণ, যাকে দুই নম্বর আসামী করা হয়েছে সেই রনি মিয়া মামলার নয় মাস আগে থেকেই বিদেশে। অথচ এজাহারে বলা হয়েছে, তিনি সোহাগকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছেন।

এলাকার মুরুব্বী আব্দুল মতিন বলেন, ‘শিশুটি মারা যাওয়ার পর আমরা বলেছিলাম পুলিশকে জানানোর জন্য। কিন্তু পরিবারের লোকজন তা করেনি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর ‘নিহতের পরিবারের কেউ থানায় আসেনি। আদালতে অভিযোগ দাখিলের পর আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়েছিল কি-না। আমরা এর প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। পরে আরেকটি আদেশে আদালত বাদীর অভিযোগটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে তা তদন্তাধীন আছে।’

 

সিলেটপ্রেসডটকম /১৩ নভেম্বর ২০১৯/এফ কে 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ