ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ না করে সংস্কারক করা যেতে পারে

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

ছাত্ররাজনীতি  নিষিদ্ধ না করে সংস্কারক  করা যেতে পারে

জুলহান চৌধুরী :: ছাত্ররাজনীতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। যার রয়েছে অতিত গৌরবময় ইতিহাস। অনেক আন্দোলেনের সফলতা এসেছিল সেই সংগঠনের নেতৃত্বে। যার ফলে মানুষের একটি আস্হার জায়গা করেনিয়েছিল সংগঠনটি। তখনকার সময় বেশিরভাগই ছাত্র ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং সমর্থন ও করতেন। পাশাপাশি অনান্য সংগঠন ও ছিল। তখকার ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের কল্যানে কাজ করতো।
কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রসংগঠন সবারই ছিল একটাই উদেশ্য ছাত্রদের কল্যানে কাজ করা। বর্তামানে এর চিত্র উল্টো,এখনকার ছাত্র সংগঠন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে বেশি। আগের যে কোন নায্য দাবির আন্দোলনে নেতারা সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রশাসন বা সরকার তাদের যে দাবি আলোচনা করে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। বেশ কয়েক বছর থেকে ছাত্র রাজনীতি চিত্র ভিন্নরূপ ধারন করেছে এখন আর আগের মতো ছাত্র রাজনীতির চর্চা হয় না হতে দেখি এর পেছনে কি কারন লোকায়িত রয়েছে তা খোজি না আমরা। যথ দোস নন্দ ঘোসের আড়ালে থেকে কাজ করে পেশি শক্তি যার ফলে ছাত্ররা এখন রাজনীতি চর্চা বাদ দিয়ে পেশি শক্তি ও প্রভাব প্রতিপতি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আড়ালের নেতার হুকুম তালিম করে, নেতা যা বলে তা করে চলে। আবার কখনো নেতার ভরসায় অপরাধ মুলক কাজ ও করে ফেলে, তখন পড়ে যায় বেকায়দায়। অনেক সময় নেতার দোহাই কাজে লাগে না,যার ফলে নিজেকে ভোক্তভোগী হতে হয়। কিন্তু কেন বিপথগামী হবে একটি ছাত্র, কেন বা সুনাম নষ্ট হবে একটি সংগঠনের। এমনটা আশা করে না যেমন তার পরিবার তেমন তেমনি তার সংগঠন। তবে কেন এমন হচ্ছে এই প্রশ্ন এখন হতেই পারে। বলছি গত ৫ অক্টোবর ঘটে যাওয়া বাংলাদেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তার কথা। কেন এমন বর্বর ঘটনা ঘটল এমন একটি স্হানে যা দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা যেখানে লেখা পড়া করার জন্য আসে। যেখানে পড়ার সূযোগ পেলে বাবা মা গর্ব করে বলেন তার সন্তান দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েটে পড়ছে। যে প্রতিষ্টান গৌরব সুনাম যুগ যুগের, সেই প্রতিষ্টানে যদি এ ধরেনর ঘটনা ঘটে তবে দেশ জাতি তা সহজে মানতে কষ্ট হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান অন্নেষনের জায়গা এখানে লেখা পড়ার প্রতিযোগিতা হবে, হবে জ্ঞানের প্রতিযোগিতা। এখান থেকে যারা বের হবে তারা কেউ সাধারন লোক নয়। আবার কেউ এখানকার পাট চুকিয়ে উচ্চতর ড্রিগ্রির জন্য যাবে দেশের বাহিরে নামি দামি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে আসবে নাম করা ইন্জিনিয়ার হয়ে। সেদিনের ঘটনা আজ জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের, দেখা দিয়েছে উদ্রেগ আর হতাশা। যারা শিক্ষার্থী রয়েছেন তাদের বাবা মা কে এখন সব সময় থাকতে হবে দুশ্চিন্তার মধ্যে। কিন্তু বাবা,মা ছেলে মেয়েকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায় পড়ালেখা শেষ করে মানুষের মতো মানুষ হবে। দেশের সম্পদ হবে বাবা, মার মুখ উজ্জল করবে। দেশের মুখ উজ্জল করবে। আলোকিত মানুষ হয়ে আলোর পথ দেখাবে। কেন বাবা, মায়ের স্বপ্ন অন্ধাকারে হারিয়ে যাবে। এমন আশা তো কেউ করে নি। এমনটাতো হওয়ার কথা ছিল না। তবে কেন এমন হলো বা এমন হচ্ছে তা কারন খতিয়ে দেখতে হবে। ছাত্ররাজনীতি দেশের মুল চালিকা শক্তি হিসেবে দেশের যে কোন আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন ৫২ ভাষা আন্দোলন,৬৯ গন অভ্যুস্হান,৭১ স্বাধীনতা ৯০ সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে মুল ভূমিকা রেখেছে ছ্রাত্ররা। গেল কিছু দিন আগে ও ছাত্রদের আন্দোলনের সফলতা দেখেছেন দেশের তথা বিশ্বের মানুষ। তাদের প্রতিটি দাবী যৌক্তিক ছিল। তাদের ধারাবাহিক আন্দোলনে এসেছে সফলাতা। যে কোন কিছু করতে গেলে একটি ভিতি গড়তে হয় এবং সেই প্লাটফর্ম থেকেই আন্দোলন ও দাবী দাওয়ার জন্য মাঠে কাজ করতে হয়। তার জন্য প্রয়োজন ছাত্র নেতৃত্ব, মাঠের কাজ কেবল তারাই পারে। এবং তারা তা দেখিয়ে দিয়েছে। কিভাবে আণ্দলন করে দাবী আদায় করতে হয়। নিরাপদ সড়ক,কোটা বিরোধী, আন্দোলনে। যে মুহুর্তে যে সকল আন্দোলনের ডাক এসেছে সেথানে ছাত্রদের সংগঠন অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে এবং সফলতা এসেছে। নেতা হতে হলে নেতৃত্বের গুনাবলী থাকা চাই। চারিত্রিক গুনাবলি, নিয়মাবর্তিতা, মেধা মননে অনন্য, পর পরোপকারী ও ধৈর্যশীল হতে হবে।তাই বলে বুয়েটের মতো প্রতিষ্টানে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সহ সভাপতি, সাধারন সম্পাদক সহ ২০ জনের বেশি বুয়েট ছাত্রকে আবরার হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। যেখানে প্রাধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিতে ব্যাপৃত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে আবরারের মৃত্যু যেন অশনিসংকেত। মাথায় ব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেলতে নেই, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করে রোগ নির্নয় করতে হবে।তাই এ ঘটনার জন্য বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বাদ দিয়ে দিতে হবে তা কেমন কথা। রোগ হয়েছে চিকিৎসা দরকার। আর তাই কি কারনে আবরার হত্যা কারীরা বুয়েট প্রশাসনের প্রায় নাকের ডগায় দিয়ে এ ধরনের বর্বর একটি ঘটনা ঘটাল, এ কারন খুজে বের করতে পারলে তার অনেকটই সমাধান পাওয়া যাবে। তাই এটা নিয়ে ছাত্র রাজনিতী বন্ধের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। বরং তা না করে কিভাবে ছাত্রলীগ সহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকে আদর্শিক রাজনিতী করতে হয় তা প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে এখন আদর্শ বড় বিষয় নয় বড় বিষয় হচ্ছে তেলবাজি পেশিশক্তি ব্যবহার ও টাকার বিনিময়ে পদ পদবি পওয়ায় নেতৃত্বের গুনাবলীর বিচার হয় না। সঠিক নেতা বাচাই হয় না, যার ফলে কে নেতা কে কর্মি তার কোন বাদ বিচার নেই। নেতা কর্মির যেমন খোজ করে না তেমনি কর্মি ও নেতাকে মূল্যায়ন করে না।যার ফলে পাওয়া যাচ্ছে না যোগ্য নেতা যোগ্য নেতৃত্ব। যার দরূন বুয়েটে এমন নির্মম জগন্য ঘটনার জন্ম দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতারা। এই কলঙ্কেরর দাগ মুছবেনা কোন দিন কোন কালে থেকে যাবে ইতিহাস হয়ে। তাই এখনই শুধরাতে হবে ছাত্রলীগ কে সহ সকল ছাত্র সংগঠনকে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে চলতে হবে আগামীর পথ।

আর তা এখনই সময়। তার জন্য মনে হয় আর একবার ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। কারন সভ্য পৃথিবীর বড় চালিকাশক্তি হলো রাজনিতী। রাজনিতী শূন্য সমাজ বর্বরতার জন্ম দেয়। রাজনিতী যেখানে আছে সেখানে ষড়যন্ত্র আছে। ষড়যন্ত্রকারীরা চিরকাল সমাজ রাষ্টকে বিরাজনীতি করনের দিকে ঠেলে দেয়।যার প্রমান ও ওয়ান ইলিভেনর সময় দেখেছেন। তাই বলি ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নাকরে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা দরকার। আর ছাত্র সংগঠনের নেতাদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি রাজনীতি – রাজনৈতিক ইতিহাস ও মানবিকগুন গুলো প্রতি গুরত্ব দেওয়াা প্রয়োজন। প্রতিদিনই কাজগুলো ভাগ করে নেয়া দরকার। তার মধ্যে তাদের ক্লাস, আহার, নিদ্রা, নিয়ম মেনে চলা। তার পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের বাহিরে ইতিহাস- মানবিক বিষয়, সহ খেলাধুলা, পাটচক্র,বিতর্ক প্রতিযোগিতা থাকা উচিত।ছাত্রজীনেই রাষ্টের ভবিষ্যত কর্নধাররা রাজনীতির আদর্শ ধারন করবে। আর এসবের সঙ্গে অবশ্যই সুবচন – সুভাষণ ও সম্প্রিতির চর্চা থাকা চাই। অন্য সংগঠনের সঙ্গে তাদের বিরোধ থাকবে আদর্শিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক। কোন ভাবেই যেন তা সাংঘর্ষিক রূপ যেন না নেয়। আর এগুলো দেখতে হবে সংগঠনের কেন্দ্রিয় ছাত্রবিষক সম্পাদককে।সংগঠনের শীর্ষ নেতা হতে অস্ত্রচালান, টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি মানুষ খুন করে পারদর্শীর প্রয়োজন নয়,মূল্যায়ন করতে হবে রাজনীতি – ও মানবিক বিষয়ে কতটা ঋদ্ধ। তাছাড়া পাশাপাশি ছাত্রদের নিয়মিত কাউন্সিল প্রয়োজন। কাউন্সিলে যো্গ্যদের বাচাই করে আনতে হবে দেখতে তাদের অতিত সাংগঠনিক কর্মকান্ড।যাদের মধ্যে নেতৃত্বেরর গুনাবলি, ও ছাত্রদের, জনগনের ভাষা বোজার মনমানসিকতা, রাজনৈতিক ইতিহাসচেতা, মুক্তিযেদ্ধের আদর্শ ধারন লালন দেশ প্রেম ও রাষ্টপরিচালনা সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে। ছাত্র নেতা হলে এই গুন গুলো থাকা চাই।

আর এ গুন থাকা ছাত্রদের রাজনীতির বাহিরে রেখে যদি রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয় তাহলে এক সময় দেশ মেধাবী নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দেবে। দেশকে বিরাজনীতি করণের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।তাই এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আর ছাত্রলীগকে সংশোধ করার।

রাজনীতির কাজ রাজনীতিবিদের করতে হবে একথা মনে রাখতে হবে। তার জন্য জনকল্যাণকামী – গনমুখী রাজনীতি চর্চা দরকার। আর এজন্য ছাত্রজীবন হলো জনমুখী – কল্যাণকামী রাজনীতি চর্চার আদর্শ সময়। তাই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ না করে পদ্ধতি ও গুনগত সংস্কার প্রয়োজন।আর এই কাজটি করার সময় এখনই। তার আর দেরি নয়, সময়ের কাজ সময়ে করলেই মঙ্গল হবে।

লেখক : সাংবাদিক/ কলাম লেখক

সিলেটপ্রেস/১৮ অক্টোবর ২০১৯/ রাকিব হাসান

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ