কমলগঞ্জে দাফনের ৫ মাস পর তরুণীর লাশ উত্তোলন

প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

কমলগঞ্জে দাফনের ৫ মাস পর তরুণীর লাশ উত্তোলন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: সড়ক দুর্ঘটনা নয়, মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে -মায়ের এমন অভিযোগে আদালতের নির্দেশে লাশ দাফনের প্রায় ৫ মাস পর ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার আদমপুরস্থ গুড নেইবারস বাংলাদেশ মৌলভীবাজার সিডিপির এসএস সার্পোটার স্বেচ্ছাসেবী কর্মী লিজা আক্তারের (২২) লাশ রোববার সকালে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।
সকাল সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরীন চৌধুরী, শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসি (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরী, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার নাহিমা আক্তার ও কমলগঞ্জ থানার এসআই ফরিদ মিয়ার উপস্থিতিতে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পুর্ব আদকানী পারিবারিক কবরস্থান থেকে লিজার লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।
জানা যায়, ২১ জুলাই বিকেলে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর-কোনাগাঁও সড়কে দ্রুতগতির চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুত্বর আহত হন লিজা আক্তার। হাসপাতাল নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই তখন দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তুএ নজিও কর্মী লিজার মা আলেমা বেগম বাদি হয়ে ২৪ আগস্ট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমল আদালত, মৌলভীবাজার -এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সেদিন বিকেল ৩টায় অফিসের কাজে লিজা পূর্ব কোনাগাঁও যায়। রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশাযোগে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রজেক্ট ম্যানেজার জন বৃগেন মল্লিক (৪০) ও প্রোগ্রাম ইনচার্জ জীবন্ত হাগিদ জোরপূর্বক লিজাকে মোটরসাইকেলে যেতে বাধ্য করেন। পরে ফখরুল ইসলাম শাকিল মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে চালালে লিজা গতি কমানোর জন্য বলে। কিন্তু ফখরুল এ কথা না শুনে গতি আরো বাড়াতে থাকে। একপর্যায়ে লিজ মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।
লিজার মা আলেমা বেগম বলেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে জন ব্রিগেন মল্লিক ও জীবন্ত হাগিদক হত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দুর্ঘটনা বলে ভূল বুঝিয়ে লাশের ময়না তদন্ত ছাড়া তড়িঘড়ি করে আমাকে দিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। তিনি বলেন, মেয়ের দাফনের কয়েকদিন পর অফিসে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা তিনি জানতে পারেন। তখন ঢাকায় সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইনুদ্দিন মাইনুল হেড অফিসে খবর দিয়ে নেন এবং তিনি এ হত্যাকান্ড নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কোনো প্রকারের অভিযোগ না করতে হুমকি দেন। তাই বাধ্য হয়ে ২৪ অক্টোবর আদালতে মামলা করা হয়। আলেমা বেগম এ ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তার ও পুলিশের উপস্থিতিতে কবর থেকে লিজার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে লাশ প্রেরণ করা হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরীন চৌধুরী বলেন, ময়না তদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশে তরুণীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

 

সিলেটপ্রেসডটকম /০৯ ডিসেম্বর ২০১৯/এফ কে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend