এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়

প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে চলছে হরিলুট। সংশ্লিষ্ট স্কুলের পরীক্ষার্থী ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ফি আদায়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না বলে জানা গেছে। ফলে অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র এবং বোর্ড ফি মিলিয়ে এসএসসির ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে বোর্ড ফি ১৫০৫ টাকা ও কেন্দ্র ফি ৪৬৫ টাকা মোট ১৯৭০ টাকা, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বোর্ড ফি ১৪১৫ টাকা, কেন্দ্র ফি ৪৩৫ টাকা মোট ১৮৫০ টাকা এবং মানবিক বিভাগে বোর্ড ফি ১৪ ১৫ টাকা ও কেন্দ্র ফি ৪ ৩৫ টাকা মোট ১৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২০ সালে নবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৩৩টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করবে। এর মধ্যে ১৮টি স্কুল ও মাদ্রাসা ১৫টি রয়েছে। এ সব প্রায় প্রতিষ্ঠানে আগামী ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের নামে কোচিংসহ নানা খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দ আজিজ হাবীব উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রতি জনের কাছ থেকে ৪ হাজার ১০০ টাকা, পানিউমদার রাগিব রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজে ৪ হাজার টাকা, ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকা, আউশকান্দি র.প স্কুল এন্ড কলেজে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, হাজী আঞ্জব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ হাজার, বাগাউরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকা, নহরপুর শাহজালাল (রাঃ) দাখিল মাদ্রাসায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা ফি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে নবীগঞ্জ শহরতলীর জে.কে মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ও হীরা মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ফরম পূরণের সময় ২ হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং কোচিংয়ের জন্য পরবর্তীতে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। অতিরিক্ত ফি দিতে হিমশীম খাচ্ছেন অনেক অভিভাবকরা।

আবার অনেকেই তাদের ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনের কথা চিন্তা করে ধার-দেনা করে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকরা টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেননা। অভিভাবক সেজে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা উল্লেখিত টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।
এ বিষয়ে পানিউমদার রাগিব রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফি কত টাকা তিনি জানেন না বলে কল কেটে দেন। সাংবাদিক পরিচয়ে সরেজমিনে গেলে ফি আদায়কারী শিক্ষকরা জানান, ম্যানিজিং কমিটির সিদ্ধান্তে তারা পরীক্ষার ফি বাবদ ২ হাজার ১০০ টাকা ও কোচিং ফি বাবদ ২ হাজার টাকা নিচ্ছেন।

অভিভাবক সেজে সৈয়দ আজিজ হাবীব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সূকা বৈদ্ধের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফরম ফি বাবদ ২ হাজার ৩০ টাকা ও কোচিং বাবত ২ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য বলেন।

নহরপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফরম পূরণের ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা। কোচিং এর টাকা আলাদা তা সরাসরি গিয়ে জানার জন্য বলেন।

ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন, ৩ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে আসেন। আউশকান্দি র.প স্কুলের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফি কত জানেন না বলে ফোন রেখে দেন।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছাদেক হোসেন বলেন, কেন্দ্র এবং বোর্ড ফি মিলিয়ে এসএসসির ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার টাকা, মানবিক ও অন্যান্য বিভাগে ১৯শত টাকা নির্ধারিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কোন অভিযোগ তাদের কাছে নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিলেটপ্রেসডটকম /১৪ নভেম্বর ২০১৯/ এফ কে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ