এলাচ এখন ৬ হাজার টাকা কেজি

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

এলাচ এখন ৬ হাজার টাকা কেজি

 

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: মসলার রানী এলাচ। মসলার বাজার গরম করেছে এ পণ্যটি। দফায় দফায় বাড়ছে দাম। এক মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ এবং বছরের ব্যবধানে চারগুণ দাম বেড়েছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে কেজিতে বেড়েছে এক হাজার টাকার ওপরে। ভালো মানের এক কেজি এলাচ কিনতে এখন ছয় হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে।

সুগন্ধিযুক্ত মসলা এলাচ খাবারে স্বাদ বাড়ায়। এ ছাড়া ওষুধ তৈরিতে এর ব্যবহার রয়েছে। এ মসলার নানা গুণ থাকায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এর কদর বেড়েছে। কিন্তু এখন দাম বেড়ে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, ইচ্ছে থাকলেও সবাই কিনতে পারছেন না। এমনকি অনেক দোকানদার ১০ থেকে ২০ টাকায় এলাচ বিক্রি করতে চান না। খুচরা দোকানে ১২ থেকে ১৫টি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এতে একটি এলাচের দাম ২ টাকারও বেশি পড়ছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত বছরের জানুয়ারির শুরুতে এলাচের কেজি এক হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা ছিল। পরে একই মাসের মাঝামাঝি সময়ে কেজিতে দু-তিনশ’ টাকা দাম বেড়ে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকায় ওঠে। রমজান মাসের আগে মার্চে দাম আরও বেড়ে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা হয়। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দাম আরও বাড়তে থাকে। গত আগস্টে তিন হাজার টাকায় পৌঁছে। গত মাসে দাম বেড়ে সাড়ে চার হাজার টাকায় ওঠে। নতুন বছরের শুরু থেকে গত দু’সপ্তাহে কেজিতে দেড় হাজার টাকা বেড়েছে। এখন সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায় মানভেদে ছোট এলাচ পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ সমকালকে বলেন, দেশে এলাচের সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ববাজারে এলাচের দামে অস্থিরতা চলছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও দাম অস্বাভবিক বেড়েছে। এতে আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ছে। পাইকারিতে এখন এলাচের কেজি চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা। তিনি বলেন, গুয়েতেমালা ও ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি এলাচ আমদানি হয়। এই দেশ দুটি থেকে এখন নতুন করে আমদানি করা যাচ্ছে না। আগের এলসির কিছু এলাচ এখন আসছে।

এ ছাড়া দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে। তিন থেকে চার মাস পর ভারতের মৌসুম আসবে, তখন তুলনামূলকভাবে কম দামে আমদানির সুযোগ হতে পারে। তবে তা নিশ্চিত নয়। সবচেয়ে বেশি এলাচ উৎপাদনকারী দেশ গুয়েতেমালায় এখন মৌসুমের এলাচ ছিল। এর পরও দাম কমেনি। বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা না থাকায় দেশের বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দামি এই মসলা দেশে আবাদ করে ভালো লাভবান হয়েছেন যশোরের মো. শাহজাহান। তিনি সমকালকে বলেন, তিন বছর আগে বাগান করেছেন। এবার প্রথম ফলন হয়েছে। এতে মৌসুমে উৎপাদিত এলাচ তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে বিক্রি করেছেন। যশোরের এই চাষির মতো চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এ মসলার চাষ হচ্ছে। তবে এখনও চাহিদার তুলনায় দেশে উৎপাদন খুবই কম। বেশিরভাগ চাহিদা মিটছে আমদানিতে। আর যেসব দেশ থেকে আমদানি হয়, সেসব দেশে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে। ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়।

 

সিলেটপ্রেসডটকম/১৩ জানুয়ারি ২০২০/এফ কে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend