ঈদে খাদিমনগর উদ্যান ট্যুরিস্টদের পদচারণায় মুখরিত

প্রকাশিত: ১১:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৯

ঈদে খাদিমনগর উদ্যান ট্যুরিস্টদের পদচারণায় মুখরিত

জাবেদ এমরান :: সিলেট শহরতলির খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান এখন এ্যডভেঞ্চারপ্রিয় ট্যুরিস্টদের পদচারণায় মুখরিত। দুঃসাহসিক রাইডার আর প্রকৃতি প্রেমীদের বিশাল উদ্যানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে রয়েছে প্রশিক্ষিত গাইড।

আর এই গাইডদের সহায়তায় ঈদে ও সরকারি ছুটিতে দল বেঁধে এ্যডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকরা জিপ লাইন রাইড, ট্রি এ্যাকটিভিটিজসহ পাশাপাশি ঘুরে দেখছেন ৬৭৮.৮০ হেক্টর আয়তনের বিশাল উদ্যানের প্রায় ২১৭ প্রজাতির উদ্ভিদ ও ৮৩ প্রজাতির বন্যপ্রাণী।

উদ্যান কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জানিয়েছেন বৃহদাকার উদ্যান এলাকা ঘুরে দেখাতে স্থানীয় বেকার দশ যুবককে গাইডের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হয়। একজন পর্যটক প্রতি ঘন্টায় ৩শ’ টাকা, ২ ঘন্টার জন্য ৪শ’ ও সারাদিনের জন্য এক হাজার টাকার বিনিময়ে গাইড সাথে রাখতে পারেন।

উদ্যানে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঘুরে দেখতে ২৩ টাকা মূল্যে প্রবেশ টিকিট কেটে পর্যটকরা দেখতে পারবেন ৬টি নয়নাভিরাম চা বাগান, ডজন খানিক প্রাকৃতিক ছড়া, বোমা ঘর (কথিত আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সে ঘরে সমরাস্ত্র রাখা হতো), সারি সারি নানা প্রজাতির বাঁশ বাগান ও বিট অফিস। ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে রেস্টিং সেডে কিছু সময় রেস্ট নিতেও পারবেন। আরো রয়েছে পিকনিক স্পট, ইকো কটেজ, রেস্টিং বেঞ্চ, পার্কিং স্থান ও ওয়াশ রুম। ১শ’ টাকায় টিকিটে জিপ লাইন রাইডে চড়ে এক অন্যরকম অভিজ্ঞার স্বাদ নিতে পারবেন। তবে যারা গহীন ঘন জঙ্গলে যাত্রি যাপন করতে পছন্দ করেণ তাদের জন্য তাবুতে রাত্রী যাপনের রয়েছে সু-ব্যবস্থা।

গাইড সাথে না নিয়েও নিরাপত্তার জন্য দল বেঁধে স্তব্ধ জঙ্গলে চলাচল করা যায়। জীবজন্তু আক্রমণ কিংবা দুষ্টলোকের এড়িয়ে চলতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও সর্বক্ষণ সতর্ক থাকতে হবে।

দর্শনার্থী ইউসুফ খাঁন, পাভেল, জাহাঙ্গীর, লায়েক ও রুবেলের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সিলেট বিভাগে নিরিবিলি ও বনজসম্পদে ভরপুর এমন উদ্যান আমাদের মুগ্ধ করেছে। শহরতলীর কাছে এমন উদ্যান আছে আগে তা জানতাম না। ইট-কংক্রিটের যান্ত্রিক সভ্যতার বাহিরে এসে নয়নাভিরাম প্রকৃতি প্রেমে পড়েগেছি। সময় পেলে আবারও ঘুরতে আসবো। খাবারের দোকান ও নিরাপত্তার বিষয়ে অভিযোগ তোলে তারা আরো বলেন, সাথে পানি ও খাবার না থাকলে সমস্যায় পরতে হবে। সারাদিনে কোনো নিরাপত্তা কর্মীদের দেখা মেলে নি। পাশাপাশি উদ্যানের রাস্তার বেহাল দশা। জরুরী ভিত্তিতে রাস্তা সংস্কার করা দাবি জানান তারা।

কথা হয় খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রশাসনিক সহকারী আব্দুল কাদেরের সাথে। তিনি বলেন, আগের চেয়ে এ্যডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। দুঃসাহসিক ও রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকরা মূলত জীববৈচিত্র ভরপুর উদ্যান দেখতে আসছেন। উদ্যানের সড়কে নতুন কালভার্ড স্থাপনের কাজ প্রায় শেষের পথে। কালভার্ড তৈরি হলে যাতায়াতের আর সমস্যা থাকবে না বলে জানান। নিরাপত্তার ব্যাপারে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অঘটন ঘটেনি তারপরও ট্যুরিস্ট পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প শীঘ্রই স্থাপন করা হবে।

এয়ারপোর্ট থানার অন্তর্গত কালাগুল পুলিশ ক্যাম্প এর ইনচার্জ এসআই মো: আব্দুল আজিজের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সার্বক্ষণিক উদ্যানের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। উদ্যানের কাছাকাছি পুলিশ ক্যাম্প থাকায় যে কোনো প্রয়োজনে ডেকে পাঠালে ৫/৭ মিনিটের মধ্যে পুলিশ উদ্যানে ছুটে যায়। কোনো পর্যটক নিরাপত্তাবোধ বা অঘটনের সম্মুখীন হলে তাদের সাহায্য নিতে অনুরোধ জানান ক্যাম্প ইনচার্জ।

যাতায়াত : সিলেট শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সিলেট সদর উপজেলা অবস্থিত। জেলা সদর থেকে সিলেট-তামাবিল সড়কে সিএনজি, অটোরিকশা, বাস অথবা প্রাইভেট গাড়িযোগে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে হযরত শাহ্পরাণ (র.) এর মাজারের পার্শ্ববর্তী খাদিম চৌমুহনী হতে সোজা উত্তরে ৫ কিলোমিটার সড়ক পথে খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে যাওয়া যায়। এছাড়া, এয়ারপোর্ট-ধোপাগুল-সাহেববাজার-কালাগুল হয়েও যাওয়ার সড়ক রয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Send this to a friend