গোটা যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়: উত্তর কোরিয়া

 
 

uttorআন্তর্জাতিক ডেস্ক: : আন্তঃমহাদেশীয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাত্র তিন সপ্তাহ পর আবার একই ধরনের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং তাদের আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফলতাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি ‘কঠোর সতর্কবার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির নেতা কিম জং উন বলেন, এই পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে পুরো যুক্তরাষ্ট্র এখন উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানা যায়।

জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকে জানায়, শুক্রবার রাতে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার কিলোমিটার উঁচুতে উঠেছিল। এটি নিক্ষেপের স্থান থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে জাপান সাগরে গিয়ে পড়েছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবারি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ জেফরি লুইস জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাবে মনে হচ্ছে পিয়ংইয়ংয়ের এই ক্ষেপণাস্ত্র দশ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ উত্তর কোরিয়া চাইলে এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল, এমনকি আরো গভীর অভ্যন্তরে আঘাত হানতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার শহর এবং সম্ভবত শিকাগো শহরও এখন উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে এসেছে। অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশ এখন উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক এই পরীক্ষা “শুধুমাত্র উত্তর কোরিয়ার শাসকদের একটি বেপরোয়া এবং বিপদজনক কর্মকাণ্ড”।

উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয় তাদের আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম ৪৭ মিনিট আকাশে ওড়ে এবং তিন হাজার ৭২৪ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি প্রথমটির চেয়ে ২০০ কিলোমিটার বেশি উচ্চতায় পৌঁছেছিল এবং ছয় মিনিট বেশি সময় আকাশে ছিল। রকেটটির মডেল ছিলো হওসং-১৪। গত ৩ জুলাইও একই মডেলের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর জাপানের কাছে সমুদ্রে পতিত হয় বলে জানানো হয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মহড়া চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বিবৃতিতে বলা হয় “দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্রসীমায় পূর্ব উপকূলে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপন করা হয়”।

উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল জো ডানফোর্ড এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল লি সান জিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

বেশ কয়েকটি পরীক্ষা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা উত্তর কোরিয়া এখনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে পারমাণবিক বোমা যুক্ত করার মত সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে না।

অনেকেই আবার মনে করেন, যে ভাবে পিয়ংইয়ং এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন পারমাণবিক ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে।

এ নিয়ে চলতি বছর উত্তর কোরিয়া ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল। আগের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সকালবেলা নিক্ষেপ করা হলেও এবারের আইসিবিএমের পরীক্ষা চালানো হয় শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪১ মিনিটে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় জাগাং প্রদেশ থেকে এটি নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। এর আগে কখনোই এই প্রদেশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেনি উত্তর কোরিয়া।