হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠন : আরব লীগ

 
 

6545

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইরানের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে বলে দেশটির বিরুদ্ধে আরব লীগের ২২টি সদস্য দেশের কাছে রোববার ইরানের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছে রিয়াদ। একই সঙ্গে ইরানের মিত্র লেবাননের হিজবুল্লাহ সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর সিএনএন।

রোববার এক জরুরি বৈঠকে কায়রোতে আরব লীগের সদর দপ্তরে আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রিত হয়েছিলেন।

সৌদি আরবের ডাকা ওই জরুরি বৈঠকে উপস্থিত হননি লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিব্রান বাসিল। তবে লেবাননের তরফ থেকে একজন প্রতিনিধি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম আল জাফারিও ওই বৈঠকে উপস্থিত হননি। জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাগদাদের সবচেয়ে বড় সমর্থক ইরান। সব সময় তারা একে অন্যের পাশে থেকেছে। ইরানকে ওই বৈঠকে ডাকা হয়নি এবং এই বৈঠক মূলত তেহরানের বিরোধীতায় ডাকা হয়েছে বলেই হয়তো ইরাকের তরফ থেকে কেউ ওই বৈঠকে ছিলেন না।

বৈঠকে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিদ বিন আহমেদ আল খলিফা বলেন, সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের আমরা দায়ী করতে চাই। আমরা চাই যেসব দেশে হিজবুল্লাহ আছে বা হিজবুল্লাহ যেসব দেশের সরকারের অংশ, বিশেষ করে লেবাননের মত দেশ যেখানে সরকারের একটা বড় অংশই হিজবুল্লাহ সেখানে অবশ্যই সেসব দেশকে দায়ী করতে চাই আমরা।

এই সন্ত্রাসী সংগঠন পুরো লেবাননকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও অভিযোগ করেন আল খলিফা। লেবাবননে প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির মন্ত্রী পরিষদের একটি বড় অংশই হিজবুল্লাহ সংগঠনের।

বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বিবৃতি সম্পর্কে মন্তব্য করে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বেইরুতের প্রফেসর রামি খৌরি সিএনএনকে বলেন, লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন হচ্ছে হিজবুল্লাহ। সেখানে তারাই শ্রেষ্ঠ। তবে সব কিছু তাদের দখলেই এমনটা ঠিক না।

সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগে ইরানের ওপর নতুন করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর।

সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াদে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা নিয়ে সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে বাগবিতণ্ডা বিপজ্জনক মোড় নেয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ইরান এবং হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে সৌদি আরব। কিন্তু ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দাবী তারাই ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে ইরান এবং হিজবুল্লাহ এ ধরনের হামলার দায় অস্বীকার করেছে।