সোহরাওয়ার্দীতে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে চায় বিএনপি

 
 

৭৫৬৭৮৮৯৮

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসমাবেশ করার ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বৃহৎ এ কর্মসূচি সফল করতে ঘাম ঝরাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। ১২ নভেম্বরের এ জনসমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ভাঙবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, প্রথমে ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতে চেয়েছিল বিএনপি। তবে সিপিএ সম্মেলনের কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৯ নভেম্বরের পর সমাবেশ করার পরামর্শ দেয়। এরপর ১১ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের ঘোষণা দেয় বিএনপি। তবে যুবলীগের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেদিন সোহরাওয়ার্দীতে অনুষ্ঠান থাকায় ১২ নভেম্বর সমাবেশের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সমাবেশের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়ে বুধবার বিকেলে সমাবেশস্থল পরিদর্শনও করেন দলের নেতারা। এ সময় দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী সাংবাদিকদের জানান, মৌখিক অনুমতি পেয়েই সমাবেশস্থল পরিদর্শনে এসেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। সমাবেশ হবে এটা নিশ্চিত।

লিখিত অনুমতি না পাওয়ায় সমাবেশের নিশ্চয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনি সমাবেশের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতেই সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছিল বিএনপি। এরপরই বুধবার থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথক যৌথসভা করেছে বিএনপি। সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও জানান রুহুল কবির রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

সূত্র জানায়, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা ছাড়াও সারাদেশ থেকেই নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেবেন। অতীতে সোহরাওয়ার্দীতে যেসব সমাবেশ বিএনপি করেছে, ১২ নভেম্বর নেতাকর্মীদের উপস্থিতি অতিতের সেসব রেকর্ড ভাঙতে জোর তৎপরতা চলছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সকল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, সরকারের দুঃশাসন, নিপীড়ন ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অনির্বাচিত সরকারকে ‘না’ বলতে তারা উদগ্রীব।

তিনি আরও বলেন, ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দীতে ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে জনতার যে জোয়ার সৃষ্টি হবে তা ঠেকানোর সাধ্য কারও নেই। দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভা হবে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাগম। ওইদিন নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১২ নভেম্বরের সমাবেশ সাংগঠনিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাবেশের অনুমতি পেলে প্রায় দুই বছর পর রাজধানীতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভা হবে এটি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের দুই বছরপূর্তিতে এ সমাবেশ হয়। এরপর ওই বছরের (২০১৬) ১৪ এপ্রিল (১ বৈশাখ) দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে অংশ নেন খালেদা জিয়া। এরপর নানা ইস্যুতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করতে চাইলেও অনুমতি পায়নি বিএনপি।