সুনামগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্য বিয়ে পন্ড

 
 

343432232

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর  (১৪) বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। গতকাল সোমবার এ বাল্য বিয়ে হওয়ার কথা ছিল্। কিন্তু ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মো. মামুন খন্দকার স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ঠেকিয়ে দেন এ বিয়ে।

স্থানীয় লোকজন ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীর (১৪) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের এক যুবকের (২৮) বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা গতকাল সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ওই ছাত্রীটির বাড়িতে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

ওইদিন বেলা ২টার দিকে বরসহ ১৫/২০জন লোক কনের বাড়িতে উপস্থিত হন। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে এই বাল্যবিয়ের আয়োজনের খবরটি জানতে পারেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খন্দকার। তিনি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিয়ে বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরীকে নির্দেশ দেন।

জয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান সঙ্গে সঙ্গে ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাজউদ্দিন ও জয়শ্রী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মানিক তালুকদারকে সরেজমিনে ওই ছাত্রীটির বাড়িতে গিয়ে এই বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে বলেন। এ সময় তিনি বর ও কনে এই দুই পক্ষের অভিভাবকদেরকে বাল্যবিয়ের কুফল ও রাষ্ট্রীয় আইনে এই বিয়ের কোনো স্বীকৃতি নেই এমনটি বুঝিয়ে বলার পর উভয়পক্ষের লোকজন এই বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে সম্মত হন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খন্দকার বলেন, বাল্যবিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ধরনের বিয়েতে রাষ্ট্রীয় আইনে কোনো স্বীকৃতি নেই। আমি বাল্যবিয়ের খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিয়ে বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। জয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি এই বাল্যবিয়েটি বন্ধ হয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছেন।