সিলেটে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার নামে লটারি-বাণিজ্য?

 
 

IMG_3554সিলেটপ্রেস ডেস্ক ::২০ টাকার লটারি। আর তাতেই থাকছে গাড়ি, মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভি, মোবাইলসহ অর্ধশত পুরষ্কার। শুধু একদিন নয় এ লটারি চলবে মাস ব্যাপি। যদি লাইগা যায় এ মনোভাব থেকে সাধারণ ও নিন্ম আয়ের মানুষ হুমির খেয়ে এসব লটারি ক্রয় করছেন। আর এতেই ভাগ্য যাচাইয়ের নামে আয়ের বেশীর ভাগ অংশ বিলিয়ে দিচ্ছেন।
গত ২৮ জুলই সিলেট সদর উপজেলার লাক্কাতুরা মাঠে তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটির (গ্রাসরটস) উদ্যেগে এ মাস ব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়। আর এ মেলাতেই চলছে লটারি বাণিজ্য। সিলেট সদর উপজেলার লাক্কাতুরা এলাকার জনসাধারণ চা-শ্রমিকদের সংখ্যায় বেশী । এই নিন্ম আয়ের জনবসতির পাশেই এ ধরণের লাকি কূপন র‌্যাফেল ড্র আয়োজন করায় ভাগ্য যাচাই করতে গিয়ে নিস্ব হচ্ছেন বাসিন্দারা।
জানা গেছে, প্রতিদিন এসব বাম্পার পুরষ্কারের লোভ দেখিয়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে প্রায় 00000110101010(1)৫ লাখ লটারি কূপন। শুধু মেলা প্রাঙ্গনে নয় এসব লটারি রিকশায় করে বিক্রি করা হচ্ছে সিলেটের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও প্রধান সড়ক গুলোতে। নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে লাকি কূপন বুথ। এছাড়াও প্রায় দুই শতাধিক রিকশা ও অটোরিকশা সিএনজিতে মাইক বেঁধে লটারি কূপন নিয়ে ছুটছে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলাতেও। আর তা থেকে আয় হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। রাত ১০টায় স্থানীয় ক্যাবল অপারেটর এসসিএস এর মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করা হচ্ছে এ র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠান।
IMG_3552মেলা পরিচালনা কর্তৃপক্ষ এই লটারি কিংবা র‌্যাফেল ড্র প্রশাসনের যথাযথ অনুমতি নিয়ে পরিচালনা করছে দাবী করলেও প্রশাসন বলছে মেলায় কোন প্রকার জুয়া খেলা/ র‌্যাফেল ড্র বা যা জুয়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরিচালনা নিষিদ্ধ। প্রশাসনের অনুমতি পত্রে স্পষ্ট ভাবে র‌্যাফেল ড্র বা জুয়া হিসেবে গণ্য এসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলেও ‘দৈনিক প্রভাত সুরমা’ র‌্যাফেল ড্র নামের এ বাণিজ্য মতাসীন দলের বেশ নেতার ছত্রছায়ায় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব লটারি কূপন নিয়ন্ত্রন করছেন এম এম মঈন খাঁন বাবলু । এ মেলায় তিনি পরিচালনা পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন।
এর পূর্বেও সিলেট নগরীর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মেলা আয়োজন করে অংশীদারদের সাথে প্রতারণা করণে আলোচিত ও সমালোচিত এম এম মোনায়েম খাঁন বাবুল।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সিলেট মহানগর এলাকায় কোন মেলার আয়োজন করতে হলে পুলিশ কমিশনার এর অনুমোদন দেয়। মেলায় র‌্যাফেল ড্র চলবে কিনা সেটাও যারা অনুমোদিন দিবেন তাঁরা দেখবেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, মেলার অনুমোদন দিয়েছে নগর বিশেষ শাখা (এসবি) কর্তৃপক্ষ। তিনি নগর বিশেষ শাখার প্রতিনিধির সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের নগর বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম বলেন, মেলার অনুমতি পত্রে স্পষ্ট লেখা রয়েছে কোন প্রকার জুয়া খেলা/ র‌্যাফেল ড্র আয়োজন নিষিদ্ধ। তাহলে কিভাবে এ র‌্যাফেল ড্র আয়োজন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি, সিলেট বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মতর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
সিলেট বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সোসাইটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মারিয়ানা চৌধুরী মাম্মি জানান, মেলায় লোক সমাগমের জন্যই এ র‌্যাফেল ড্র এর আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনের যথাযথ অনুমোদন নিয়েই র‌্যাফেল ড্র পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ড্র অনুষ্ঠান সরাসরি ক্যাবল অপারেটর সার্ভিসের মাধ্যমে টিভিতে প্রচার করা হচ্ছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া অনুমতি পত্রে কোন র‌্যাফেল ড্র আয়োজনের নিষিদ্ধ উল্লেখ করা হয়েছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসন আসলে অবৈধ জুয়া কিংবা র‌্যাফেল ড্র বলতে তীর খেলাকে বুঝাতে চেয়েছেন। আমারা তীর খেলার আয়োজন করছি না