সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করুন: পুলিশকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

 
 

5454

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: পুলিশ বাহিনিকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইনের রক্ষকের ভূমিকায় থাকতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুলিশকে আরও পেশাদার ও জনবান্ধব হয়ে কাজ করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি জোর দিতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৪তম শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজে যোগদানের পর তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

৩৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৪১ জন কর্মকর্তা পুলিশ অফিসার হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন। এর মধ্যে ২৬ জন নারী রয়েছেন। নতুন এ পুলিশ কর্মকর্তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে দেশমাতৃকাকে ভালোবেসে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’ স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশ বাহিনির বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করে পূর্বসূরিদের অনুসরণ করতে নতুন পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজারবাগ থেকে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে পুলিশ বাহিনি। মুক্তিযুদ্ধে সারদা পুলিশ একাডেমিরও বিশেষ ভূমিকা আছে। এখানে ২৪ জন কর্মকর্তা শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে জীবন দেয়া সব পুলিশের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের মাগফেরাত কামনা করছি।’

স্বাধীনতার পর পুলিশ বাহিনিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম দক্ষ করে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছিলেন। আর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সর্বপ্রথম দরকার আইন-শৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা। এজন্য আমরা সর্বোতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে। আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে সে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

এসময় তিনি পুলিশের উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা জানান, পুলিশ যেন আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে পারে এজন্য তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। তাদের পদ-পদবিও উন্নীত করা হয়েছে। পুলিশের কল্যাণে সরকারের আরও অনেক কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় পুলিশকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশকে আরও উন্নত, পেশাদার ও জনবান্ধব করার প্রক্রিয়া চলছে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহা-পরিদর্শক কেএম শহীদুল হক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।