শরতের কাঁশফুল খোপায় গোঁজার ফুল : আল-আমিন

 
 

0000বর্ষা বিদায় নিলেও শরতের প্রকৃতি বৃষ্টির পানিতে ধোয়া কিশোরীর মতো স্বচ্ছ। নীলাকাশ জুড়ে অলস মেঘের অবাধ বিচরণ আর খণ্ড খণ্ড মেঘ বালিকাদের নিজের ইচ্ছেমতো নিরুদ্দেশে যাত্রা এক অপূর্ব সৌন্দর্য্য বহন করে। শরতেই হঠাৎ রোদের ঝলকানি তারপর মেঘের ছায়া। এই রোদ এই বৃষ্টি যেন প্রকৃতির এক ভালোবাসার রঙ ছিটানো মেঘ আর রোদের লুকোচুরি। নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা কাঁশফুল তরুণীর খোলা চুলের মতো দখিনা বাতাসে ঢেউ খেলা আর বিলের জলজ ফুলের প্রস্ফুটিত রূপ প্রিয়তমার মনের মাধুরী মিশানো সৌরভ শরৎ ঋতুর বার্তা জানান দিয়ে যায়। এই শরতের ভোর বেলায় দূর্বা ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু শৈশবের সেই বালিকা প্রিয়তমার কথাটি মনে করিয়ে দিতে ভুল করে না। আর ভাদ্র মাসের তালের মন মাতানো ঘ্রান নতুন ধানের তৈরি পিঠা, তালের রসের পায়েসের কথা বন্দনা করতে ভুল হয় না কৃষকের। শিউলি ফুটা ভোরে অন্তরজুড়ে স্নিগ্ধতার প্রলেপ বিছিয়ে রাখে শরৎ। এসময় কৃষকের ধানক্ষেত ফসলে সবুজ সমারোহে থাকে পূর্ণ।

এই শরৎ আনন্দের ঋতু। ঋতুর কথা আসলেই শরতের কথা আসে। শরৎপূর্ণতার ঋতু। প্রাচুর্য্যরে ঋতু। এই পাচুর্য্যের ঋতু শরৎকে নিয়ে সাহিত্য রচনা করেছেন কবি সাহিত্যিকরা। শরৎ ঋতুকে রূপবৈচিত্রের সাথে তুলনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। একমাত্র ঋতু শরৎ কুয়াশা ছিড়ে শিউলি ফুলের ভিড়ে খণ্ড খণ্ড মেঘ হয়ে দূর থেকে কাঁশফুলের সাথে মিশি যায়। ডাহুকের ডাকে আর ঝির ঝির পানিতে শামুকের লুকোচুরি খেলা মনে করিয়ে দেয় শৈশবের দিনগুলো। তাই শরতের নীলাকাশে মেঘমালার সন্তরন আর ফুটন্ত কাশফুলের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন-
আজি কী তোমায় মধুর রতি
হে রিনু শারদ প্রভাতে
হে সীতা বঙ্গ শ্যামল অঙ্গ
ঝলিছে অমল শোভাতে

আর এই শরতের আশ্বিনে ফুটে ওঠা সাদা সাজানো কাঁশফুল হাওয়ায় ঢেউ খেলায় মেতে ওঠে। আর শান্ত ছোট নদীর স্থির জলরাশি, পদ্মা-শাপলা ফুলের প্রেমে ভেসে যায় বিলের দিকে। রাতের শিশিরে ঝড়ে পড়া শিউলি, মেঘমালা, নদীতে পাল তোলা নৌকা এসবের মাঝেই শরৎ কে খুঁজে পাওয়া যায়। শরতের ঢেউ খেলা কাঁশফুল প্রিয়তমার খোঁপায় গোঁজে দেওয়া আর জীবনানন্দ দাসের-
তেমনই দেখেছি তারে অন্ধকারে বলেছে সে,
এতোদিন কোথায় ছিলেন?
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে চাওয়া নাটোরের
বনলতা সেন….। এর মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখি না।
শেষ করার আগে বলার ইচ্ছাটুকু বলেই শেষ করি।
ওগো, ওগো প্রিয়তমা মোর,
এই ভরদুপুরে উদাস মনে কি চেয়ে দেখ দখিন দিকে।
ও বুঝেছি, ঐ কাঁশফুল যাহা তোমায় খোপায় দিব গোঁজে।
সম শুভ্র ধবল রাশ আর খন্ড খন্ড মেঘ।
তোমার ভালবাসা সেজেছে আজ শরতের নীলাকাশ।

লেখক -শিক্ষার্থী