এলিয়েন খুঁজতে ‘কেমিক্যাল’ ল্যাপটপ

 
 

৩৬৭৮

পৃথিবীর বাইরের গ্রহগুলোতে প্রাণের অস্তিত্বের অনুসন্ধানে সহায়তা করতে নতুন এক ডিভাইস এনেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘কেমিক্যাল ল্যাপটপ’ নামের এই ডিভাইসটি হচ্ছে একটি পরিবহনযোগ্য রাসায়নিক ল্যাব যা নাসার ভবিষ্যৎ রোভারগুলোতে যুক্ত করা হবে।নাসার ভাষ্যমতে, জীবের অস্তিত্ব আছে এমন অণু সন্ধান করাই কেমিক্যাল ল্যাপটপের একমাত্র উদ্দেশ্য। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, আমিষ আর কোষঝিল্লির প্রধান উপাদান অ্যামাইনো এসিড আর ফ্যাটি এসিড খোঁজার জন্য বানানো হয়েছে এটি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভার্জ জানিয়েছে, মঙ্গল আর পৃথিবীর বাইরের অন্যান্য স্থানে পাওয়া নমুনাকে বিশ্লেষণের আগে পানিতে দ্রবীভূত করতে হবে। এই কেমিক্যাল ল্যাপটপটি অনেকটা এসপ্রেসো মেশিনের মতো, যা নমুনাগুলো উত্তপ্ত করে পানিতে দ্রবীভূত করে। সেখানে রঞ্জক পদার্থ আর অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থগুলো, কোনো নমুনায় জীবের অণু পাওয়া গেলে তা শনাক্ত করতে পারবে। শুধু অ্যামাইনো এসিড আর ফ্যাটি এসিড শনাক্তই নয়, সেইসঙ্গে তা কোনো জীব থেকে এসেছে কি না তাও নির্ণয় করা যাবে এতে।

নির্দিষ্ট এক অ্যামাইনো এসিড বাম বা ডানদিকধারী হয়ে থাকে। দুই ক্ষেত্রে শারিরীক গঠন সম্পূর্ণ এক হলেও, একটি আরেকটির আয়নার প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকে। পৃথিবীতে জীবের দেহে প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি বামদিকধারী হয়। তবে, এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমও হতে পারে। তবে, সম্ভাব্য বিষয়টি হচ্ছে, জীবের ক্ষেত্রে দুটির মিশ্রণ থাকার সম্ভাবনা নেই। তাই, যদি ভিনগ্রহের অ্যামাইনো এসিডে দুইয়ের মিশ্রণ পাওয়া যায়, তবে তা জীবের নয় বলে ধরা যাবে। কেমিক্যাল ল্যাপটপে কিছু রঞ্জক পদার্থ রয়েছে যা শুধু বাম বা ডানদিকধারী এসিড নিয়ে কাজ করতে পারবে। এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন গবেষকরা।এক বিবৃতিতে নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির জেসিকা ক্রিমার বলেন, “অন্য গ্রহে জীবের অস্তিত্ব আছে কিনা তার জন্য এটি সবচেয়ে ভালো প্রমাণ হবে।”