রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সাধনে চরমোনাইর পীর ফজলুল করীম রহ. ॥ ডাঃ রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ॥

 
 

Fazlul Karimজন্ম ও পরিচিতি : হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.)। তাঁর মূল নাম মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহ.)। ভক্ত আশেকানদের হৃদয়ে এবং সারাদেশের মানুষের কাছে তিনি চরমোনাই (রহ.) পীর নামে পরিচিতি লাভ করেন। মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) এর পূর্ব পুরুষদের সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়, তাহল- বাগদাদে আব্বাসীয় রাজত্বকালের শেষ দিকে সৈয়দ আলী আকবার সাহেব ও সৈয়দ আলী আসগর সাহেব নামক দু’ ভাই বাগদাদ হতে বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগমন করেন। এর মধ্যে সৈয়দ আলী আকবার সাহেব বরিশাল শহরের নিকটস্থ পশুরীকাঠি গ্রামে স্থানীয় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বিবাহ করে এ দেশের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান।

বংশানুক্রমে সৈয়দ আমজাদ আলী সাহেব (রহ.) এর ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন কুতুবুল আলম মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মাদ এছহাক (রহ.)। তিনি উজানীর কারী ইব্রাহিম সাহেব (রহ.) এর হাতে বাইয়াত হয়ে মুজাহাদা ও রিয়াযতের মাধ্যমে ইলমে মারেফতে পূর্ণতা অর্জন করেন এবং খেলাফত ও ইজাযত প্রাপ্ত হন। তাঁর ঔরসে এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহ.) ১৯৩৫ সালে বরিশাল জেলার সদর উপজেলার অন্তর্গত চরমোনাই গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ফজলুল করীম (রহ.) এর পিতৃকুলের মধ্যে পিতা, পিতামহ যেমন ছিলেন বিখ্যাত ওলি ও দরবেশ, তেমনি তাঁর মাতৃকুলের মধ্যেও মামা এবং নানা ছিলেন কামেল বুযুর্গ। তাঁর নানা ছিলেন মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ আবদুল জাব্বার (রহ.)। যিনি দেওবন্দ মাদরাসা হতে দাওরায়ে হাদীছ সমাপ্তকারী তৎকালীন যুগের বিখ্যাত আলিম ছিলেন। তিনিই উজানীর ক্বারী ইব্রাহীম সাহেব (রহ.) এর সর্বপ্রথম খলিফা ছিলেন। আর ক্বারী ইব্রাহিম সাহেব (রহ.) ছিলেন রশিদ আহমদ গংগুহী (রহ.) এর সুযোগ্য খলিফা।

শিক্ষা জীবন ঃ সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহ.) মাত্র ৫ বছর বয়সে নিজ গ্রাম চরমোনাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৪৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চতুর্থ শ্রেণী পাস করার পর তিনি চরমোনাই আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে ফাজিল পাস করেন। অতঃপর ১৯৫৬ সালে তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকার লালবাগ জামেয়া কুরআনিয়া মাদরাসায় ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সাথে প্রথম স্থান নিয়ে দাওরায়ে হাদীছ পাস করেন। হযরত পীর সাহেব (রহ.) লালবাগ মাদরাসার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস মুজাহিদে আজম মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.), মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.), শায়খুল হাদীস আল্লামা হযরত মাওলানা আযীযুল হক সাহেব (রহ.) প্রমুখ যুগশ্রেষ্ঠ বুযুর্গ আলেমদের ছাত্র ছিলেন।
বিবাহ ও সন্তানাদি: পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) ১৯৫৭ সালে লালবাগ মাদরাসায় দাওরায় হাদীছে অধ্যয়নরত অবস্থায় পিতা মাতার সিদ্ধান্তে ১৯ বছর বয়সে চরমোনাই নিবাসি (মরহুম) জনাব নূর আহমদ শিকদার সাহেবের কন্যা নূর জাহান হোসনেয়ারা তাহমিনা বেগমের সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের মাত্র তিন বছর পরই এ স্ত্রী ইন্তেকাল করেন। এর তিন বছর পরই পীর সাহেব (রহ.) দ্বিতীয় বিবাহ করেন। ভোলার মরহুম লুৎফুর রহমান তালুকদার সাহেবের কন্যা আলমতাজ বেগমের সাথে এ বিবাহ সম্পন্ন হয়। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে ২ পুত্র সন্তান ও দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে ২ মেয়ে ও ৭জন পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।
খেলাফত লাভ ঃ হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহ.) ছাত্র জীবনেই স্বীয় পিতা ও শাইখ হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ এছহাক (রহ.) এর নিকট তরীকতের বাইয়াত গ্রহণ করেন। জাহেরী ইলমের পাশাপাশি তিনি বাতেনী ইলমও অর্জন করেন। আত্মশুদ্ধি ও ইসলাহে নফস-এ-মনোনিবেশ করেন। পিতার সুহ্বাতে থেকে কঠোর মুজাহাদা ও রিয়াযতের মাধ্যমে ইলমে মা’রিফাতের উচ্চ শিখরে আরোহন এবং কামালাত অর্জন করার পর স্বীয় মুর্শিদ হতে খেলাফত ও ইযাজত লাভ করেন এবং হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)ও তাঁকে খেলাফত দান করেন। তাঁর বিনয়, নম্রতা ও কোমল ছোয়ায় কঠিন হৃদয়ের বিপদগামী অনেক মানুষ খুঁজে পেয়েছে শান্তিময় পথ।

চরিত্র ঃ পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) এর ব্যক্তিত্ব ও সমুন্নত চরিত্রের গুণ সমূহ আলোচনা করে শেষ করা কঠিন। তাঁর চরিত্রের অন্যতম ভূষণ ছিল তাক্বওয়া, এশকে এলাহী ও নবীপ্রেম। তিনি মারেফত ও তাসাওয়াউফের উচ্চ স্তরের বুযুর্গ ছিলেন। সাথে সাথে তিনি শরীয়তের কঠোর পাবন্দ ছিলেন। তাঁর চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব এত আকর্ষণীয় ছিল যে, তাঁর সান্নিধ্যে কেউ এলে সে বিমুগ্ধ ও বিমোহিত না হয়ে পারত না। পীর সাহেব (রহ.) কখনও বুজুর্গী দেখানোর চেষ্টা করতেন না। তিনি সব সময় নিজেকে নগণ্য হিসাবে উপস্থাপন করতেন। চরমোনাই মাহফিল শুরুর প্রথমেই তিনি বলতেন, “নিয়তকে সহী করে মাহফিলে বসার জন্য এবং দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার জন্য, যাতে মাহফিলের সকলকে আল্লাহপাক দ্বীনের বুঝ দান করেন।” পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) বলতেন, কোরআন হাদীস অনুযায়ী, পীরের নির্দেশনা মেনে কাজ করলে মঞ্জিলে মকসুদে পৌঁছানো সম্ভাব হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছেন, সে উদ্দেশ্য সফল হবে। তরিকত কি, এ বিষয় আপনাদেরকে বুঝতে হবে। তরিকত আল্লাহর নিকট থেকে আমানত স্বরূপ। কামিল পীরের কথা মুরীদের জন্য আমানত স্বরূপ। তিনি বলতেন, হক্কানী পীরের দরবার আশেক-মাশুকের প্রেমের খেলা। আপনারা আমার নিকট কষ্ট সহ্য করে এসে যদি, তরিকার কাজকর্ম না করেন, তাহলে এই আসা-যাওয়া কোন কাজে আসবেনা। সন্তানের জন্য পিতামাতা যেমন লজ্জিত হয়ে থাকেন, মুরীদের অনৈতিক কর্মকা-ের জন্য পীর বা মুর্শিদ আল্লাহর দরবারেও লজ্জিত হয়ে থাকেন। পীর সাহেব (রহ.) মাঝে মাঝে মুরিদদের আমলের ত্রুটি দেখলে, তিনি অত্যান্ত রাগান্বিত হয়ে বলতেন, “আল্লাহওয়ালা না হলে, মুরিদ বাড়িয়ে কি লাভ? আমার এত মুরিদের দরকার নেই। যারা ঠিকমত আমল করবেনা তারা চরমোনাই’র মুরিদ নয়।” হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) বলতেন, সত্যিকারের পীর পাওয়া দুরহ ব্যাপার। পীর মুরদি বর্তমানে ব্যবসা শুরু হয়ে গেছে এবং এক ধরনের নকল পীরের আবির্ভাব হচ্ছে। বর্তমানে ঈমান ধরে রাখা বড়ই কঠিন। আমাদের প্রিয় নবী করিম (সঃ) হক পথে চলছেন, কুরাইশদের শত অত্যাচার বাধা বিপত্তির মধ্যেও ধৈর্য্য ধারন করে চলতেন, আমরা যদি প্রিয় নবী (সাঃ)’র উম্মত হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের সবাইকে হক পথে চলতে হবে, ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।

দাওয়াতের তরীকা ঃ হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ হতে অনৈসলামিক কাজ দূর করে সমাজের মধ্যে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ নিষেধ করার লক্ষ্যে এসলাহে নফস বা আত্মশুদ্ধির জন্য এক পর্যায় ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। এ কমিটির ব্যাবস্থাপনায় প্রতি বছর অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুনে চরমোনাইতে দুটি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ফাল্গুনের মাহফিলে প্রায় ৭০ লক্ষেরও বেশি লোকের সমাগম হয়। বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষকদের মতে, চরমোনাই মাহফিল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ইসলামী জনসমাবেশ। শুধু লোক সংখ্যার দিক দিয়েই নয়, হেদায়েতের দিক দিয়েও এর আলাদা বৈশিষ্ট্য, স্বতন্ত্র ও প্রভাব রয়েছে। উদ্দেশ্য আল্লাহর পথভোলা বান্দাদেরকে আল্লাহর দ্বীনের দিকে আহবান করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও পরলৌকিক মুক্তি লাভের জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং মানুষের নিকট আল্লাহর দ্বীন পৌছে দেয়া।
হযরত পীর সাহেব (রহ.) বছরের ৩৬৫ দিনই মাদরাসা, কুরআন শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি, দাওয়াত ও তাবলীগ, হাদীসের দরস, ছাত্র ও মুরীদদের তারবিয়্যাত, আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রোগ্রাম ও ওয়াজ মাহফিল ইত্যাদিতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতেন।

নফসকে দমন ও আল্লাহ ভিতী : হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) এর কাছে হাদিয়া হিসাবে খাবার সহ কোন কিছু আসলে অনেক সময় খাবার মনে চাহিলেও সাথে সাথে তা একজন অসহায়কে দান করে দিয়ে নিজের আত্মাকে সান্তনা দিয়ে বলতেন, “হে আমার দুর্বল রূহু, তুমি কিছু দিন ছবর কর, এই কষ্ট শেষ হবে এবং তখন এমন নেয়ামত তোমার নসীবে জুটিতে পারে, যাহার কোন শেষ নেই।” পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) সারারাত্রি জাগ্রত থাকিয়া ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তাঁর কন্যা এক রাতে বলিলেন, বাবা আজ কিছু বিশ্রাম কর, “তিনি উত্তরে বলিলেন, ‘মা’ আল্লাহর হুকুম যাহাতে লঙ্ঘিত না হয়, তোমার বাবা তজ্জন্ন সজাগ থাকে, আমি ইহাও ভয় করি যে, আল্লাহ তা’আলা না করুন, রাতে যখন আল্লাহর খাস রহমত নাজেল হয় তখন আমি যেন নিদ্রিত থেকে খাস রহমত হতে বঞ্চিত না হই। তাই সারাটা রাত ইবাদতের মাধ্যমে কাটাই। নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন, জালিমের বিরুদ্ধে ছিলেন বজ্র কঠিন ও মজলুমের প্রতি সাহানুভূতিশীল। তিনি ছিলেন, দুনিয়া ত্যাগী ও যশ-খ্যাতির মোহমুক্ত। তিনি সব সময় বলতেন, দুনিয়ার সমস্ত মানুষও যদি আমাকে সম্মান করে, ফুলের মালা দেয় আর কবরে যাওয়ার পর যদি আল্লাহ আমাকে মাফ না করে, আজাব শুরু করে দেন, তবে কি হবে এই সম্মানের। আর দুনিয়ার সমস্ত মানুষও যদি আমাকে জুতা মারে, ঝাড়–পিটা করে আর কবরে যাওয়ার পর আমার মাওলায় যদি আমাকে মাফ করে দেন, তবে মানুষের অসম্মান অপমানে আমার কি আসে-যায়।

রাজনৈতিক জীবন : ১৯৯৯ সালে বেশ কয়েকটি ইসলামী দল নিয়ে গঠিত হয় ইসলামী ঐক্যজোট। এই জোটের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)। এতে সিনিয়র নায়েবে আমীর নির্বাচিত হন পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.)। ১৯৯৪ সালে যোগ্যতা ও দক্ষতার গুণে পীর সাহেব (রহ.) কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয় এবং ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) কে পার্লামেন্টারী বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। ২০০১ সালে নির্বাচনের পূর্বে পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) চার দলীয় জোটের সাথে একত্রে নির্বাচন করার লক্ষ্যে তাদের নিকট ৮ দফা পেশ করলেন। যে গুলো ছিল ইসলাম দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর অথচ চার দলীয় জোট ৮ দফা মেনে নির্বাচনী ঐক্য করতে রাজি হয়নি। পীর সাহেব (রহ.) ইসলামের স্বার্থবিহীন ও নারী নেতৃত্বের অধীনে চার দলীয় জোটে না গিয়ে বরং ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে কঠিন বাধার মুখে কাজ শুরু করে ঘোষণা দিলেন সাহাবাদের আদর্শের ভিত্তিতে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা চাই। তিনি বলেন, সারা বিশ্ব থেকে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার জন্য সমস্ত তাগুতী ও কুফরী শক্তি এক হয়ে চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। এ সময় কোন মুসলামন ঘরে বসে থাকতে পারে না। জিহাদ বাদ দিয়ে ইবাদতের নামে বসে থাকা সুন্নত নয়। শুধু ক্ষমতা থেকে নয়, দেশ থেকে কাদিয়ানী ও মুরতাদদের সহযোগিদেরকে উৎখাত করতে হবে। ইসলামের জন্য ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর ন্যায় প্রয়োজনে আমি শহীদ হতে প্রস্তুত। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা স্পেনের পরিণতি বরণ করতে চাইনা। শুধু প্রতিবাদ করলে চলবে না, জিহাদের অঙ্গীকার করতে হবে। কুফরী শাসন ব্যবস্থায় শান্তি আসবে না। কুরআন, হাদিস, ইজমা, ক্বিয়াস যারা মেনে চলে তারাই ইসলামী মৌলবাদী। মৌলবাদের ধুয়া তুলে, ইসলামের বিজয় কখনো ঠেকানো যাবে না। ইসলামকে ভালবাসলে আওয়ামীলীগ ছাড়তে হবে। যারা নারী নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে তারা ইসলামের পথে নেই। কাদিয়ানী ও মওদুদী ফিতনা হতে দেশকে বাঁচাতে হবে। মওদূদী জামায়াতে ইসলামী মূলত ইসলামের দুশমন। চারদলীয় জোটের সাথে শরীক না হওয়ায় তারা ক্ষমতায় আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে পীর সাহেব (রহ.) এর ওপর নেমে আসে প্রাণ নাশের হুমকি। বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে পীর সাহেব (রহ.) এর ৪ ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারী করানো হয়। হাফেজ্জী হুজুরের নির্বাচনের সময় অর্থের প্রলোভন দেয়া হলে, ঘৃণা ভরে তা প্রত্যাখ্যান করার পর চরমোনাই মাদরাসার মঞ্জুরী বন্ধেরও হুমকী দেয়া হয় কিন্তু পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) কে কোন কিছুতেই দমাতে পারেনি।

রাজনৈাতিক জীবনের ঘাত ও প্রতিঘাত ঃ প্রথম দিনেই রক্ত ঝরল। ১৩ মার্চ ১৯৮৭ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রথম সম্মেলনে পুলিশ কর্তৃক টিয়ার সেল, বুলেটের মহাজঙ্গ, রক্তে রঞ্জিত হলো শত শত নেতাকর্মী। এবং রুশদী বিরোধী আন্দোলনে অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন। ১৯৮৮ সালে পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) এর সৌদি ভিসা বাতিল করে দেন সরকার। ১৯৮৯ সালে রায়পুরে আটরশীর কর্মীর দ্বারা চরমোনাই মুরিদদের উপর হামলায় আরো আহত হন অনেক। ১৯৯৮ সালে শিবপুরে পীর সাহেবের মাহফিলে শিবির কর্মীদের হামলায় ৫০ জন কর্মী আহত হন।
২০০১ সালে চরমোনাই মাহফিলে বোমা হামলা করা হয়। মহান আল্লাহর রহমতে ধোয়া বের হওয়া অবস্থায় অবিস্ফোরিত বেশ কয়েকটি বোমা নেতাকর্মীদের সহায়তায় পুলিশ উদ্ধার করে। ফতোয়া বিরোধী আন্দোলনে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে এবং পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। মালিবাগে মসজিদ রক্ষা করতে গিয়ে ৪ জন মুজাহিদ শহীদ হন। ভন্ড দেওয়ানবাগী বিরোধী আন্দোলনে সরকারের প্রশ্রয় ১৫ মুজাহিদকে শহীদ করা হয়। ২০০০ সালের ৯ই জুন পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সমাবেশে শতাধিক সশগ্র দেওয়ানবাগীর অনুসারী ও শিবির কর্মীরা হামলা চালিয়ে ৫০ জন নেতা কর্মীকে গুরুতর আহত করে।

জামায়াতে ইসলামীকে সংশোধনের চেষ্টা : হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) নিজ উদ্দ্যোগে জামায়াত প্রধান অধ্যাপক গোলাম আজমের বাসায় একাধিকবার গিয়ে দেশের পরিস্থিতি, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি, মওদূদী সাহেবের মতবাদ ও আমাদের করণীয় ইত্যাদি সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা করেন। প্রতিবার বৈঠকে কোন সিদ্ধান্তে উপনিত হতে না পেরে পরবর্তী বৈঠকের দিন তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করে অনুষ্ঠান শেষ করেন অধ্যাপক গোলাম আজম। জামায়াত ইসলামী কোন সংশোধনীর পথ গ্রহণ না করে একক ভাবে ইসলামের নাম নিয়ে রাজনীতি করতে থাকে। এর পরপরই পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) ঢাকার পল্টনের মহাসমাবেশে কঠোর ভাষায় ঘোষণা দেন, “জামায়াতে ইসলামী কোন সঠিক ইসলামী দল নয়। এটা যদি কোরআন হাদীসের আলোকে প্রমাণ করতে না পারি তাহলে ঐ বৈঠকে তওবা করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেব এবং যদি প্রমাণ করতে পারি যে জামায়াত ইসলামী দলটি সঠিক ইসলামী দল নয়, তাহলে জামাতের সকল নেতা কর্মীরা তওবা করে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনে যোগ দেবে।” উক্ত চ্যালেঞ্জের জবাবে জামায়াত ইসলামীর তৎকালীন আমীর অধ্যাপক গোলাম আজম বলেছিলেন যে, মোমবাতি যদি সূর্য্যরে সাথে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করে তাতে সূর্য্যরে কি আসে যায় (নাউযুবিল্লাহ) এবং মাওলানা নিজামী বলেছিলেন, চরমোনাইর পীর এমন কোন আলেম নন, যিনি কোরআনের ব্যাখ্যা করতে পারেন। গোলাম আজম উক্ত বিবৃতি দ্বারা বোঝাতে চান তারা সূর্য্যতুল্য এবং চরমোনাই পীরের দলকে মোমবাতির সাথে তুলনা করে তুচ্ছ্য তাচ্ছিল্ল করলেন। মূলতঃ বাতেলরা তাদের নিজেদের বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেদেরকেই আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে ও আন্দোলনের কাজের গতি বাড়তে বাড়তে ইসলামী আন্দোলনের অনেক অঙ্গ সংগঠনের উৎপত্তি হয়। এর মাধ্যে (১) ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (২) ইসলামী আইনজীবী পরিষদ (৩) ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ (৪) ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন (৫) ইসলামী কৃষক আন্দোলন (৬) জাতীয় শিক্ষক ফোরাম অন্যতম। এছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষাবোর্ড সহ অনেক শিশু ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। পীর সাহেব (রহ.) গভীর ভাবে লক্ষ্য করেছেন যে, মুসলমানরা তাদের সন্তানদেরকে মক্তবে না পঠিয়ে এনজিও স্কুলে পঠিয়ে দেয়, যার কারণে তাদের কাছে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে জাতি সমাজ ও ধর্ম আজ চরম দুর্দশাগ্রস্থ।
তখন ১৯৮৯ সালে গঠন করলেন বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড এবং ঘোষণা করলেন ৬৮ হাজার গ্রামে ৬৮ হাজার মক্তব বা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হবে ইনশাআল্লাহ বর্তমানে প্রায় তিন হাজার মাদরাসা ও ইসলামী কিন্ডার গার্ডেন ও হেফজ খানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠান গুলোতে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) শিক্ষার্থী ইসলামী শিক্ষায় রত আছে এবং জেলা পর্যায় ৫০টি বহুমূখী মাদরাসা ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
আরাফার ময়দানে পীর সাহেব (রহ.) প্রধান অতিথি ও ভাষণঃ আরাফার ময়দানে গোটা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ওলামা মাশায়েখের এক বিশাল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রাবেতায়ে আলম আল ইসলামী এ সম্মেলেনে পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) কে প্রধান অথিতির সম্মান দেয়া হয় এবং সেখানে তিনি প্রধান অতিথির মূল্যবান ভাষণ প্রদান করেন। যা ইতিহাসের পাতায় ¯¦র্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রধান অথিতির ভাষণে পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) বলেছিলেন–
প্রিয় মুসলিম ভাইগণ: সমগ্র বিশ্বে ১২০ কোটি মুসলমান থাকা সত্ত্বেও সর্বত্র অমুসলিম কর্তৃক মুসলমানগণ নির্যাতিত নিপীড়িত। অমুসলমানরা মুসলমানদের নাম গন্ধটুকু পর্যন্ত পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে চায়। এর কারণ আমরা মহান আল্লাহর গোলামী ও রাসূল (সা:) এর সুন্নতকে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে বাদ দিয়েছি অথচ তা পলনের জন্য সাহাবায়ে কেরামের (রাঃ) জীবন আলেখ্য পথের দিশারী হিসাবে আমাদের সামনে বিদ্যমান। প্রিয় বন্ধুগণ, লক্ষ লক্ষ সাহাবায়ে কেরামের (রাঃ) যিন্দেগীর দিকে আমরা যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, তারা জীবন দিতে রাজি ছিলেন তবুও মহান আল্লাহর হুকুমের বাহিরে কোন কাজ করতেন না এবং কেউ করাতেও পারতোনা। কলেমার দাওয়াতের ক্ষেত্রে তারা ছিলেন নিরলস, সৎ কাজের আদেশ প্রদান ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করতে ছিলেন অটল-অনড়, দুনিয়ার ক্ষমতা, মানসম্মান, ধন-দৌলত ও বিলাসিতা তাদেরকে স্পর্শ করতে পারেনি কখনোই। তাদের ঈমানী শক্তি সীরত, সূরাত, মুয়ামালাত, মুয়াশারাত ইত্যাদি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ (সংক্ষিপ্ত)।

দেশ বিদেশে ওলামা মশায়েখের দৃষ্টিতে হযরত পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.)
১।চরমোনাইর শাইখ (রহ.) একজন সত্যিকার আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ ও মুজাহিদ। আল্লাহর দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে তিনি সর্বদা নিয়োজিত ছিলেন। শাইখ আব্দুর রহমান আল হুযায়ফী (দা:বা:), পেশ ইমাম ও খতিব, মসজিদে নববী শরীফ মদীনা মুনওয়ারা।
২। চরমোনাই রুহনিয়াত ও জিহাদের অভূতপূর্ব সমন্বয় মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রহ.) রশীদ আহমদ গংগুহী (রহ.) ও মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) এর দরবারকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। ফকিহে মিল্লাত আল্লামা আব্দুল গাফ্ফার সাহেব (দা:বা:) ভারত।
৩। পীর সাহেব চরমোনাইকে আল্লাহ তায়ালা আরশে আযীমে কবুল করে নিয়েছেন তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আল্লামা উবায়দুল হক (রহ.) সাবেক খতিব বায়তুল মুকাররম জামে মসজিদ, ঢাকা।
৪। তার মত নির্ভেজাল ভাল মানুষ এ সময় আর পাওয়া যাবে না। শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক সাহেব (রহ.)
৫। চরমোনাই’র পীর সাহেব নারী নেতৃত্ব সমার্থন না করে দেওবন্দীদের মর্যাদা রক্ষা করেছেন। ফখীহুল মিল্লাত আল্লামা মুফতী আব্দুর রহমান, মহাপরিচালক, বসুন্ধরা ইসলামিক রিচার্স সেন্টার, ঢাকা।
৬। সর্বদা হক্ব কথা উচ্চকন্ঠে প্রকাশকারী একমাত্র ব্যক্তির উপরেও আজ শিবির কর্তৃক হামলা। আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা.বা.)
৭। চরমোনাইর পীর সাহেবের সাথে আমার সম্পর্ক ঐ রকম যেমন রাসুলে কারীম (সা.) এ সাথে ছিল হযরত আবু বকরের (রা.) সম্পর্ক। হরযত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী আল কোরাইশী, পীর সাহেব ফুরফুরা।
৮। চরমোনাই পীর সাহেবকে নেতৃত্বে বসিয়ে নারী নেতৃত্বের অবসান ঘটাতে হবে। মুফতী ফজলুল হক আমীনী (রহ.), মুহতামিম, লালবাগ মাদরাসা।
৯। বছরের তিনশ ঘাট দিন ইসলামের দাওয়াতে উল্কার মত ছুটে বেড়ানো এ মানুষটি মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়া পর্যন্ত আর দম নেয়নি। মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, সাংবাদিক ও ইসলামী চিন্তাবিদ, সহকারী সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাব।
১০। চরমোনাইর পীর হক্কানী পীর এবং দেওয়ানবাগী ভন্ড পীর, খতিবে আজম আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী।
১১। চরমোনাই মাহফিলের কার্যক্রম দেখে আমার আমীরুল মুমিনীন সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরেলভী (রহ.) এর কথা মনে পড়ে যায়। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (দা.বা.)।
১২। চরমোনই পীর সাহেব (রহ.) ছিলেন রুহানিয়াত ও জিহাদের সমান্বিত ধারার অগ্রপথিক। মাওলানা কবি রুহুল আমীন খান, নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাব।
ইন্তেকাল ও দাফন: পীর সাহেব চরমোনাই (রহ.) এর গোটা জীবনটাই ছিল কাশক, কারামত ও এলাহামে পরিপূর্ণ, তার জীবনের ঘটে যাওয়া কারামতের মধ্যে ইন্তেকালও ছিল জীবনের অন্যান্য এক কারামত। কারণ চরমোনাই দরবারের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আগ্রহায়ণ মাহফিল ১, ২, ৩ অগ্রাহায়ণ হয়ে আসছিল সুদীর্ঘ ৭০ বছর পূর্ব থেকেই। কিন্তু ২০০৫ সালের অগ্রহায়ণ মাহফিলের পূর্বে হঠাৎ পীর সাহেব (রহ.) ঘোষণা করলেন যে আগামী বছর আগ্রাহায়ণের মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে ১২, ১৩, ১৪ অগ্রহায়ণ। পরবর্তী বছর ১২ অগ্রহায়ণের মাহফিলের একদিন পূর্বে অর্থ্যাৎ ২৫ নভেম্বর ২০০৫ইং মোতাবেক ১১ অগ্রহায়ণ জিকিররত অবস্থায় মুচকি হাসি দিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই ইন্তেকাল করলেন। তখন সকালে ছিল প্রখর রোদে আকাশ ভরা; কিন্তু ইন্তেকালের সময় থেকে দাফন পর্যন্ত পরিস্কার আসমান কালো মেঘে ছেয়ে যায়। বর্ষণ করে তার অশ্রুর বৃষ্টি দাফনের পরপরই আবার রোদ্রে ভরে যায় আকাশ। মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ে পীর সাহেব চরমোনাইর (রহ.) এর ইন্তেকালের খবর দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করে, ছাত্র-জনতা রওয়ানা হন চরমোনাই অভিমুখে। ২৬ নভেম্বর ১২ অগ্রহায়ণ দেশের সকল মত, পথের ওলামা মাশায়েখের সাথে এসে মিলিত হন- সাবেক প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, এমপি, আমলা, রাজনিতীবিদ, কূটনৈতিক, সাংবাদিক সহ সর্বস্তরের জনগণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুমান যে প্রায় ২০ লক্ষাধিক লোক এ মহান সাধক কামেল বুজুর্গের নামাজে জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। মনে হয় যেন দেশবাসীকে তারিখ অনুযায়ী দাওয়াত দিয়ে শেষ দেখা করে বিদায় নিয়ে মাশুকের কাছে চলে গেলেন।#
লেখক-কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক-ইসলামী যুব আন্দোলন (সিলেট বিভাগ), সেক্রেটারী-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিলেট মহানগর। মোবাঃ ০১৭৭৫ ৪৭৭১৮৯