রাজধানীর কাকরাইলের মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা

 
 

768787

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: রাজধানীর কাকরাইলের নিজ বাসায় মা ও ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন- শামছুন্নাহার (৪৬) ও তার ছেলে শাওন (১৯)। নিহত দুজন ভবন মালিক আবদুল করিমের স্ত্রী ও সন্তান।

বুধবার সন্ধ্যায় রমনা মডেল থানাধীন কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাজমণি-ইশা খাঁ হোটেলের বিপরীত দিকের গলির ওই বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ঘটনার সময় ভিআইপি রোডের ৭৯/১, মায়াকানন নামের ৬ তলা ভবনের ৫ম তলায় ছিলেন গৃহকর্মী রাশিদা। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনা স্থলে যায়। এ সময় নিহত মায়ের গলাকাটা লাশ ভবনের ৫ম তলার বারান্দায় এবং ছুরিকাঘাতে নিহত সন্তানের রক্তাক্ত লাশ ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ভবন মালিক ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না। তিনি শ্যামপুর এলাকায় এবং সিনেমার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। নিহত শাওন ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দিয়েছেন বলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জেনেছি।’

আব্দুল করিমের বাসার গৃহকর্মী রাশিদা বেগম (৫০) জানান, বিকেলে ওই বাসায় কাজ করতে আসেন তিনি। এসেই রান্না ঘরে গিয়ে থালা-বাসন পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেন। কাজের এক পর্যায়ে কেউ-একজন রান্না ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয়। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করেন।

গত মাসে কাজে যোগ দেওয়া রাশিদা আরও বলেন, ‘খালাম্মাকে (বাড়িওয়ালি) ডাকলেও কোনো সাড়া পাই নাই। তবে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনতে পাই। এক পর্যায়ে চিৎকার শুনে দারোয়ান নোমান দরজা খুলে দেন। আর তখনই দৌড়ে বের হয়ে খালাম্মারে পড়ে থাকতে দেখি। তার সারা শরীরে রক্ত।’

দারোয়ান নোমান পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘ওপর থেকে একজন লোক নিচে এসে বলে, ওপরে যান, সেখানে মারামারি লাগছে। তখন দারোয়ান উপরে উঠে শামসুন্নাহার ও শাওনের লাশ দেখতে পান।’

ভবনের নিচ তলার একটি অফিসের কর্মচারী স্বপন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা নিচেই কাজ করছিল। কোনো ধরনের হৈ-হুল্লোড় শুনেননি। শুধু দারোয়ান বলেছিল, উপরে মারামারি লাগছে।

রমনা মডেল থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও বিভিন্ন দিক সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে আলামত সংগ্রহ শেষে মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাঈনুল।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, গলায় এবং বুকে ছুরিকাঘাত করে তাদের দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সময় বাড়ির মালিক বাসায় ছিলেন। এটিকে ডাকাতিও বলা যাবে না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবনের বেশ কয়েকজনকে রমনা থানায় নেয়া হয়েছে। তাদের সাসপেক্ট হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তিনি জানান, এই মুহূর্তে ওই ভবনটিতে গোয়েন্দা পুলিশ ও ক্রাইম সিন ইউনিট আলাতম সংগ্রহ ও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ডিএমপির ওই যুগ্ম কমিশনার।

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভবন মালিক আবদুল করিম কিছুদিন আগেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এর কারণে ইদানিং তাদের পরিবারে বনিবনা হচ্ছিল না। প্রায়শই ঝগড়াঝাটি হচ্ছিল। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিবারের কোনও সদস্যের হস্তক্ষেপ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।