রহমতের সপ্তম দিন শেষ : কুরআন চর্চার উৎকৃষ্ট সময় রমজান

 
 

*মাওলানা মাহমুদুল হাসান*
1111.psdআজ শেষ হলো ৭ রমজান । এ মাসের ফজিলত ও মাহাত্ম্যের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, এ মাসেরই পবিত্র এক ণে সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী সায়্যিদুল আম্বিয়া হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা আহমদে মুজতবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাজিলের সূচনা হয়। এ মাসের প্রধান পরিচিতি হিসেবে পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারায় এরশাদ হয়েছে-‘রমজান সেই মাস যে মাসে নাজিল হয়েছে কুরআন। অপরদিকে সুরায়ে কদর এ ঘোষণা করা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি কদরের রাতে।
পবিত্র কুরআন নাজিল হওয়ার সময়কাল এবং রমজান ও কুরআনের সঙ্গে তাকওয়াও মুত্তাকির সম্পর্ক বিবেচনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রমজান ও কুরআনের মাঝে একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। রমজান মাসকে পবিত্র কুরআন চর্চার বসন্তকাল বলে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। প্রতি রমজানে হজরত জিব্রাইল (আ.) এসে হজরত রাসুলে করিম (সা.)-কে কুরআন যতটুকু নাজিল হয়েছে ততটুকু শোনাতেন। হজরত রাসুলে করিম (সা.)ও নিজে বেশি করে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। হজরত সাহাবায়ে কেরামের জীবনে রমজানে অধিক হারে কুরআন তেলাওয়াতের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। পরবর্তী যুগের উলামা-মাশায়েখ ও আকাবিরিন আছলাফ রমজানের রাতের বেলা তারাবিহ জামাতে কুরআন খতম ও তেলাওয়াত এবং তাহাজ্জুদের মাঝে তেলাওয়াতসহ দিন-রাতের বিভিন্ন সময় কুরআন তেলাওয়াত করতেন।
সূরায়ে বাকারার ১২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি যাদেরকে কিতাব (কুরআন) দিয়েছি তাদের মধ্যে যারা যথাযথভাবে কুরআন তেলাওয়াত করে, তাঁরাই এতে বিশ্বাস করে। আর যাঁরা কুরআন প্রত্যাখ্যান করে তাঁরাই তিগ্রস্ত।
পবিত্র কুরআন আল্লাহ তায়ালার প থেকে নাজিল হওয়া সর্বশেষ সহিহ আসমানি গ্রন্থ। মহান এই ধর্মগ্রন্থ যথাযথ নীতি, নিরপেতা, আগ্রহ ও মনোযোগসহ তেলাওয়াত করলে যে-কোনো মানুষের হৃদয়ে হেদায়তের আলোকবর্তিকা জ্বলে উঠার পূর্ণ সম্ভাবনা থাকে। তাই আত্মভোলা মুসলমানদের উচিত, এই রমজানে আবারো পবিত্র কুরআনের সঙ্গে তাদের যোগসূত্রটিকে দৃঢ় ও পুনঃস্থাপন করা। এজন্য প্রথম করণীয় হচ্ছে, সহিহ শুদ্ধভাবে কুরআন তেলওয়াত করতে শেখা ও তেলওয়াত করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, স্পষ্ট ও শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ করো।
মাহে রমজানকে আমরা কুরআন শিা প্রশিণের মোম সময় হিসেবে ধরে নিতে পারি। বয়স্ক যাঁরা তাদের জন্য উচিত, রমজান মাসে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কিরআত প্রশিণকেন্দ্রে অংশ গ্রহণ করে অন্তত যতটুকু কুরআন শিা করা ফরজ, ততটুকু প্রশিণ নেওয়া। কারণ কুরআন জানা না থাকলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। পবিত্র কুরআনের প্রতি উম্মতে মুসলিমার শ্রদ্ধা প্রকাশের দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, কুরআনের অর্থ মর্ম ও বক্তব্য অনুধাবন করার চেষ্টা করা। যাঁর যাঁর সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী এ েেত্র পদপে গ্রহণ বাঞ্ছনীয়। তৃতীয়ত, কুরআনের আদেশ-নিষেধ মেনে জীবন পরিচালনা করা। কুরআনের বিধানমতো ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্র জীবন পরিচালনা করা সকল ঈমানদার মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। একজন মুসলমানের জন্য কুরআন অনুযায়ী জীবন গঠনের চেষ্টা ছাড়া অন্য কোনো উপায় খোলা নেই।
উম্মুল মুমিনিনিন হজরত আয়শা সিদ্দিকা (রাজি.)-কে নবীয়ে করিম (সা.)-এর চরিত্র বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন, তাঁর চরিত্র ছিল হুবহু কুরআনের মতো। অর্থাৎ, তিনি ছিলেন কুরআনের চলমান রূপ। মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা ও কুরআনের অব্যাহত চর্চা আমাদের মাঝে তাকওয়াকে জাগ্রত করে তুলতে পরিপূরক ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের সকলেরই উচিত, হক আদায় করে রোজা রাখার পাশাপাশি পবিত্র কুরআনুল করিমের গভীর চর্চায় আত্মনিয়োগ করা। আল্লাহ তায়ালা কুরআনের আলোকে আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত গড়ে তুলার তওফিক দিন। আ-মিন