রক্তে ভেজা ইমরান তুমি রবে চিরঅম্লান–আবুল মোহাম্মদ

 
 

sylhet-1আবুল মোহাম্মদ :: ইমরান তোমার মানবিকতাটুকু রবে চির অম্লান। তুমি আজীবন মানুষের হৃদয় গহ্বরে আশার আলো হয়ে জ্বলবে। তুমি সাহসী, তুমি মানবিক, তুমি আঁধার কালো মেঘের বুকে একখানা সোনালী সূর্য্য। এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে যখন নিরাপদ দূরে থেকে খাদিজার উপর হায়েনার ভয়াল থাবার দৃশ্য দেখে শুধু আফসোসের ভূমিকায় ছিলেন ঠিক তখন মনুষত্যের অনুপম দুষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইমরান।

নিষ্টুর ঘাতক যখন মধ্যযুগীয় বর্বরতায় বিষবাষ্প ছড়িয়ে খাদিজাকে হিংস্র পশুর মতো ক্ষত বিক্ষত করে দিচ্ছিলো ঠিক তখন তোমার দরদী হাতের পরশে খাদিজা যেন আশার পথে পা বাড়িয়ে ছিলো। ইমরানের মমত্ববোধ খাদিজার রক্তে রঞ্জিত হয়ে গিয়েছিলো। অসাধারণ প্রচেষ্ঠা আর দ্রুততার সাথে খাদিজাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন ইমরান। সাথে সাথে শুরু হয়েছিলো খাদিজকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকদের প্রাণান্তর প্রচেষ্ঠা। খাদিজার রক্তে ভেজে গিয়েছিলো ইমরানের পরনের জামা কাপড়। দৃশ্যটি দেখে যেন মনে হয়েছিলো রক্তের সাগরে ডুব দিয়েছিলেন ইমরান। খাদিজাকে বাঁচাতে ইমরানের এগিয়ে আসার প্রশংসনীয় প্রচেষ্ঠায় সংকটাপন্ন খাদিজা চিকিৎসার আওতায় এসে যান। ওসমানী হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শুরু করে ছিলেন খাদিজার চিকিৎসা। কিন্তু খাদিজার শারিরীক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে চলে যাচ্ছিলো। এ সময় চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলেন খাদিজাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার ভোরে খাদিজাকে নিয়ে যাওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। শুরু হয় জটিল অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করে খাদিজাকে বাঁচানোর চেষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন। চিকিৎসকরা খাদিজার জীবন রক্ষার বিষয়ে ৫ ভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু খাদিজার অগণিত সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খিরা আরো বেশি আশা করছেন খোদা যেন সুস্থ করে তুলেন খাদিজাকে। আমরা সকলের আশা আবারো খাদিজা কলেজে যাবেন, বান্ধবীদের নিয়ে জীবনের গল্পগুলো নিয়ে প্রাণবন্ত্র আড্ডায় মেতে উঠবেন। আবারো তার মা বাবার মুখে হাসি ফুটে উঠবে। সর্বোপরি একটি সুসংবাদে সারা বিশ্বের দরদী মানুষেরা যেন উচ্চারণ করতে পারেন আলহামদুলিল্লাহ। আজকের এই মূহুর্তে এই কামনা।