রংপুরে ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে হামলা-সংঘর্ষ, নিহত ১

 
 

768768

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে রংপুরের তারাগঞ্জে বাড়িঘরে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশসহ অর্ধশতাধিক। আহতদের পাঁচজন গুলিবিদ্ধ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার পাগলাপীর ঠাকুরবাড়ি গ্রামে স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম হামিদুল ইসলাম বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত ঠাকুরবাড়ি গ্রামের এক ব্যক্তি নিজের ফেসবুক আইডিতে মহানবী (সা.) কে নিয়ে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিলে এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। এনিয়ে পাগলাপীর ও মমিনপুর হাড়িয়াল কুঠিসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর আশপাশের ৬-৭টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ওই ব্যক্তির গ্রামের বাড়িতে হামলা চালাতে আসলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে হামিদুল ইসলাম সেখানে মারা যান। আহত অন্যদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রায় ৩০টি বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।

বিক্ষুব্ধ লোকজন রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেও এখনো পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। সন্ধ্যায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে বিক্ষুব্ধ লোকজন।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/অপারেশন) মোকতারুল ইসলাম জানান, পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।