‘পরিচালক আমার বুকের দিকে তাকিয়েছিল’

 
 

৭৮৭৮৭৬৪৩৪

বিনোদন ডেস্ক :: হার্ভে ওয়েনস্টাইন আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে দিয়েছেন বারুদের স্তূপে। তার যৌন কুকীর্তি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন সিনে ইন্ডাস্ট্রির মুখোশ খুলছে। বাকি নেই হিন্দি সিনেমার দুনিয়াও। সম্প্রতি এ নিয়ে মুখ খুললেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী বিদ্যা বালান।

কেরিয়ারে নিজের যৌন হেনস্তার কথা বলতে গিয়ে বিদ্যা বলেন, ‘এরকম পরিস্থিতির শিকার তিনিও হয়েছিলেন। সে সময় একেবারে নতুন তিনি। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন অডিশনে। সেখানেই তিনি দেখেন, এক পরিচালক সবসময় তার বুকের দিকে তাকিয়ে আছে। স্বাভাবিকভাবেই একজন মেয়ের কাছে এই পরিস্থিতি রীতিমতো অস্বস্তিকর। কিন্তু বিদ্যা চুপ করে থাকেননি। মুখের উপর জানতে চেয়েছিলেন, কী দেখছেন? তাতেই হকচকিয়ে যান ওই ব্যক্তি। সেদিন বাবাকে অবশ্য ঘুণাক্ষরেও কিছু জানতে দেননি বিদ্যা। তাতে বাবা ভেঙে পড়তে পারতেন। কিন্তু সেদিনের ঘটনা আজও ভোলেননি ডার্টি পিকচার খ্যাত এই তারকা।’

আজ তাই সকলেই যখন যৌন হেনস্তা নিয়ে সরব, তখন তার জীবনে ঘটা একমাত্র ঘটনাটির কথাও তুলে এনেছেন বিদ্যা।

এর আগে বলিউডের একাধিক অভিনেত্রী যখন যৌন হেনস্তা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন, তখন বিদ্যা জানিয়েছিলেন, এই কমপ্রোমাইজের জায়গাটা নারীদের উপরই নির্ভর করে। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি বিদ্যা নারীদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন? পরে এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যা পুরো বিষয়টি খোলসা করেন।

তিনি জানান, নারীদের দোষ দিচ্ছেন না তিনি। কিন্তু এরকম কোনও ঘটনা ঘটলে কেউ যেন চুপ করে না থাকেন। প্রতিবাদে সরব হন। সে কথাই বলতে চেয়েছেন তিনি।

ইন্ডাস্ট্রিতে বলিষ্ঠ অভিনেত্রীই শুধু নন, সাহসী মানসিকতার নারী হিসেবেও তিনি পরিচিত। নিজের ঘটনার উদাহরণ টেনেই বিদ্যা বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই হেনস্তা একবারে গোড়াতেই বিনাশ করতে হয়। নয়তো লতায়-পাতায় তা বাড়তে থাকে। এবং অভিনেত্রীদের গ্রাস করে নেয়।

তিনি আরো জানান, প্রতি ইন্ডাস্ট্রিতে হার্ভে ওয়েনস্টাইনের মতো ব্যক্তিরা আছেন। বিদ্যার সাফ কথা, প্রত্যেক নারীরাই সিক্সথ সেন্স আছে। নারীরা ঠিক বুঝতে পারেন কোনটা খারাপ ইঙ্গিত, আর কোনটা নয়।

তিনি তার ব্যক্তিগত দর্শন ভাগ করে জানান, রুটি-রুজির জন্য তিনি নিজের মর্যাদা খোয়াতে পারবেন না। কিন্তু কোনও একজন নারী যখন কারও সঙ্গে কফি খেতে যাচ্ছেন, তখন নিশ্চয়ই তিনি চাইছেন বলেই যাচ্ছেন। এখন সেটা ভাল না খারাপ সেটা নারীরা নিশ্চয়ই অনুভূতি দিয়ে বুঝতে পারেন।