নির্বাচনে সংঘাত সহিংসতা : কিছু কথা কিছু ব্যাথা

 
 

56

শামসীর হারুনুর রশীদ::

এক. এ লেখাটি লিখতে বসেছি মূলত নির্বাচনী সংহিংসতায় অন্তত ৪০জন মানুষের প্রাণহানির ব্যাথায় একবিন্দু অশ্রু গড়িয়ে সমবেদনা জনাতে। হতভাগ্য মানুষগুলির প্রাণের মূল্য এত কম যে, তাদের প্রাণহানির দায়ভার নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন এমনকি যাদের হয়ে প্রাণ দিল কেউ নিতে চাইছেনা, তাহলে ভোট দিতে যাওয়া কি তাদের অপরাধ ছিল, যার কারণে প্রাণহানির দায়ভার এখনো কেউ নিচ্ছে না? আমরা যারা প্রাণে বেচে আছি, অথচ এই প্রাণহানির ঘটনার প্রতিবাদ করছি না বা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়সারা প্রতিবাদ দেশকে আরেক ধাপ গভির সংকটে নিয়ে যাচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে। মায়ের সাথে ভোট উৎসব দেখতে গিয়ে যে নিষ্পাপ শিশু প্রাণ দিল তারই বা দায়ভার কার? দুই ধাপের নির্বাচনে ৪০ জনের মত প্রাণহানির ঘটনায়ও নির্বাচন আয়োজকদের ভাবিত করেনি যেখানে, সেখানে আগামি ধাপের নির্বাচনে কার নির্দেশে ভোট দিতে যাবো এই আমরা? কাকে, কেন ভোট দিব? ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা কে দিবে? হায়, এ কেমন অদ্ভুত দেশে বাস করছি এই আমরা? এসব প্রশ্নের শুরাহা কখন, কার কাছ থেকে পাবো?
লেখাটি লিখতে গিয়ে আমার নজর আটকে গেল টেবিলে রাখা দৈনিক যুগান্তরের দু’টি নিউজের উপর। ৪ এপ্রিল সোমবার জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় তিন কলামের একটি শিরোনাম “অনিয়ম প্রাণহানির ঘটনা তদন্তে উদ্যোগ নেই” আর এক কলামের লেবেলে বলা হয় “ইউপি নির্বাচনে থাকা না থাকা- সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক” প্রথম শিরোনামে কাজী জেবেল একটি সন্ধানী রিপোর্ট তোলে ধরেছেন। রিপোর্টিতে তিনি উল্লেখ করেন, “ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কোন ‘অনিয়ম’ খুজেঁ পাচ্ছেন না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই ধাপে নির্বাচনী সহিংসতায় অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানি, ব্যাপক সহিংসতা ও কারচুপি হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে এগুলো তদন্তে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপই যথোপযুক্ত বলে মনে করছে কমিশন। এমনকি পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে প্রাণহানির ঘটনাকেও যৌক্তিক বলছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠলেও পদত্যাগের কথা চিন্তা করছেন না কমিশনাররা। কমিশনের দাবি, প্রথম পর্যায়ে ৭২৫টি ইউপিতে ৭৫ শতাংশ ও দ্বিতীয় ধাপে ৬৩৯টিতে ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রথম ধাপে ৬ হাজার ৯৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত কারণে ৬৫টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। যা মোট কেন্দ্রের মাত্র দশমিক ৯৩ শতাংশ। অপরদিকে দ্বিতীয় ধাপে ৬ হাজার ৮৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টির ভোট বন্ধ করা হয়েছে। যা মোট কেন্দ্রের দশমিক ৫০ শতাংশ। ভোটের হার বৃদ্ধি ও কেন্দ্র বন্ধের সংখ্যা নগন্য হওয়াই প্রমাণ করে নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে।
সংহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ইসি তদন্ত করবে কিনা এমন প্রশ্নে দৈনিক যুগান্তরকে ইসি শাহ নেওয়াজ বলেছেন, এমন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে কোন আলোচনা হয়নি।” আর দ্বিতীয় খবরটিতে বলা হয়- “ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, প্রাণহানি ও সহিংসতার পর তা বর্জনের কথা ভাবছে বিএনপির হাই কমান্ড নির্বাচনে থাকা না থাকা নিয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন খালেদা জিয়া।” (দৈনিক যুগান্তর- ৪ এপ্রিল)
শেষ খরব পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন থেকে দলটি সরে না দাড়ালেও দুই ধাপের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা, হামলা ও নির্যাতন নেমে এসেছে বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। সংসদীয় বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও অভিযোগ কম আসছে না। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ওপর জনগণের আস্থা বলতে কিছু আর থাকছে না। নির্বাচন বিশষজ্ঞরাও বলছেন, আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচন সুষ্ঠ করতে কমিশনের অগাধ ক্ষমতা থাকলেও তারা তা প্রয়োগ করছেন না। যে কোন অনিয়ম ও সহিংস ঘটনা ঘটলে ইসি তা তদন্ত করে দেখতে পারে। এমনকি এই নির্বাচন বন্ধ বা বাতিল ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু কোন অদৃশ্য ইশারায় নির্বাচন কমিশন তার ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকছে। এ প্রশ্নটি বারবার সামনে আসা খুব স্বাভাবিক। এদিকে ব্যর্থতার দায়ে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবি তুলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ। কিন্তু তাতে কোন পাত্তাই দিচ্ছেন না নির্বাচন কমিশনাররা। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দৈনিকে তাদের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, যার সার নির্যাস হল- কমিশন মনে করছে ইতিপূর্বে সব ইউপি নির্বাচনেও সহিংসতা ও সংর্ঘষ হয়েছে কম-বেশি। এবারের নির্বাচনেও সহিংসতা হচ্ছে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন করায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এগুলোর দায় ওইসব রাজনৈতিক দলের। নির্বাচন কমিশনের নয়, তাই সংঘাত সহিংসতার ঘটনায় কমিশনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি তোলাই অযৌক্তিক বলে মনে করছেন তারা। (তথ্য সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব- ৬ এপ্রিল)

দুই. নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে বিতর্কিত করে তোলার সুযোগ দেয়া বর্তমান সরকারের যেন একরকম ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারীর বিতর্কিত ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের নতুন করে ক্ষমতা কব্জা করার পর প্রথমে পৌর নির্বাচন এবং সর্বশেষে এখন চলছে ইউপি নির্বাচন। অতি সম্প্রতি দুই ধাপে কয়েকটি ইউনিয়নের নির্বাচনে ৪০ জনের মত মানুষ নিহত হওয়ায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ওপর পুরো বিশ্ব হতবাক। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, সরকার নির্বাচনী লক্ষ নিয়ে তার পরিকল্পনার সামান্যতম রদবদল করেনি। ফলে এক নজিরবিহীন নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে শাসকদল আওয়ামীলীগ অকল্পনীয় বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে দেশের সর্বস্থরে দলীয়শাসন ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে যতই সমালোচনা চলুক, নির্বাচনী ফলাফলকে কেউ সমর্থন করুক বা নাই করুক তাতে সরকারী দলকে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি বা নিবৃত্ত হবে না। কারো ভুলে যাওয়ার কথা নয় যে, জাতীয় সংসদের নির্বাচনে স্মরণকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনেই শাসক দলের প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস সৃষ্টির মধ্য দিয়ে যে অস্বাভাবিক জয়যাত্রা শুরু হয়, তা এখন সামান্য পরিবর্তিত আকারে অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সামান্য পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে রয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার জায়গায় একটা নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে সরকারদলীয় প্রার্থীদের সিংহভাগের বিজয় নিশ্চিত করা। এছাড়াও আছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শাসক দলের অন্যায় হস্তক্ষেপ, ভোটকেন্দ্র দখল, মাত্রাছাড়া জোরজবর দস্তিতে জিতেয় যাওয়া। ফলে কোন কোন দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন বর্জন বা নির্বাচন থেকে সরে যাওযার কথাও পত্র পত্রিকার খবরে দেখা গেছে। যদিও বাস্তবে এখনো তা ঘটেনি।

তিন. ভোট হল, মত প্রকাশ করা, পছন্দ বা অপছন্দ প্রকাশ করা। ব্যক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে মত প্রদান করা। ইসলাম ধর্মেও ভোট ও জনমতের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যথাযথভাবে। ইসলামি হুকুমত আল্লাহর একটি নিয়ামত, মহান আল্লাহ জোর করে কোন জাতির ওপর এ নিয়ামত চাপিয়ে দেন না। অর্থাৎ জনগণ কর্তৃক ইসলাম গ্রহণ করা বা না কারার ওপর ইসলামের বিজয় নির্ভর করে থাকে। ইসলামে সৎ পাত্রে ভোট প্রদান কোন সমস্যা নেই। যে দেশে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সে দেশে অনৈসলামিক নেতৃত্বের পরিবর্তে মুসলিম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে ভোট অনুষ্টান ইসলাম বিরোধী হওয়ার প্রশ্নই আসে না। ইসলামের প্রাথমিক যুগে ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য চালু ছিল সরাসরি যুদ্ধ, কিন্তু আধুনিক কালে গণতান্ত্রিক উপায়ে, ইসলাম কায়েমের সুন্দর পদ্ধতি হচ্ছে নির্বাচন। তাই ভোট হচ্ছে আধুনিক যুগের এক ধরনের জিহাদ। নবীগণ মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন; তবে উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর সন্তোষ, খোলাফায়ে রাশেদার সকলেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। হযরত আলী রা.‘র পর যারা অনির্বাচিতভাবে ক্ষমতায় এসেছিলেন, সাহাবী হলেও তাদেরকে খলিফা বলা হয় নি। কিন্তু সাহাবী না হয়েও নির্বাচিত পন্থায় ক্ষমতায় আসায় হযরত ওমর বিন আব্দুল আযিয রহ. কে পঞ্চম খলিফা বলা হয়।
প্রার্থী নির্বাচন: ভোট দানের সময় খেয়াল রাখতে হবে কোন প্রার্থীকে বা দলকে ভোট দিলে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ হবে। যেভাবে আমরা গাড়ির ড্রাইভার নিয়োগের জন্য অবশ্যই কোন মাতাল, নেশাখোরকে নিয়োগ দিইনা। কারণ যিনি আমাদের নেতা হবেন তিনি যদি নেশাখোর ড্রাইভারের মত অসৎ আর্দশ বা অযোগ্য হন, তাহলে শুধু যে সে ক্ষতিগ্রস্থ হবে তা নয়; বরং ক্ষতিগ্রস্থ করবে পুরো সমাজ, রাষ্ট্র ও জতিসত্তাকে।

চার. দুনিয়ার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা ট্রের্ড ইউনিয়ন পরিচালনার ক্ষেত্রে ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যাকে তাকে চেয়ারম্যান-মেম্বার নির্বাচিত করা মানে নিজ হাতে নিজের ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডের ভবিষ্যৎ তার হাতে তুলে দেয়া। সে কারণে সাধারণ জনগণ ভোটের মাধ্যমেই পছন্দের মানুষটিকে তাদের প্রতিনিধি বা নেতা নির্বাচিত করেন। ভোটাভোটি কোন পুতুল খেলা নয় যে, ভোটের নামে যা ইচ্ছা তা করা হবে; বরং এটি একটি পবিত্র আমানত, আর এই আমানত তার কাছেই জমা রাখা দরকার, যে তার সঠিক মর্যাদা দিতে পারবে। যেহেতু ভোট বা নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কখনোই নিশ্চিত হতে পারে না। অযোগ্য, অর্থব, অসৎ, ঘোষখুর, সন্ত্রাসী, মদুড়ী, জোয়াড়ী, চোর, গণবিরোধী নেতা নামের কোন আগাছা-পরগাছা গায়ের জোরে পেশীশক্তি বলে অথবা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে জগদল পাথরের মতো জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়। জনগণের ইচ্ছা শক্তির বিরুদ্ধে ক্ষমাতাকে চিরস্থায়ী করে রাখার অপচেষ্টা স্থায়ী হয় না, ইতিহাস তাই বলে। আর এতে সাধারণ মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলনও ঘটেনা। নেতা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ জনগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার। জনগণের সাংবিধানিক সে মৌলিক অধিকার যদি কেড়ে নেয়া হয় তো জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। আর ক্ষোভ এক সময় ভয়ঙ্কর অনলে পরিণত হয়ে কখনো দুঃকজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করে।

পাঁচ.  সাধারণ মানুষ নির্বাচিত নেতা হিসেবে নিস্কলুষ চরিত্রের অধিকারী এমন একজন ভালো মানুষ চান, যিনি সুখে-দুঃখে সমাজের লাঞ্চিত-বঞ্চিত-অবহেলিত মানুষের পাশে দাড়াবেন। তাদের দুঃখ-কষ্টের ভাগিদার হবেন। কিন্তু অতিতের স্থানীয় বা জাতীয় নির্বাচনে ভোটের ফলাফল দেখে তারা প্রচন্ডভাবে আশাহত হয়েছেন। যাকে তারা পছন্দ করেন না বা নেতা হিসেবে চান না। এমনই একজন গণবিচ্ছিন্ন মানুষ ¯্রফে প্রহসনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ঘাড়ের ওপর চেপে বসেছে। এর মূল কারণ আমাদের কুলষিত রাজনীতি। তবে চাওয়ার সাথে পাওয়ার ইচ্ছেটা শক্তিশালী নয়, এও একটা কারণ। বরাবর লক্ষ করা গেছে, প্রার্থীকে সামনে পেলে নানা নীতিকথা দিয়ে তাকে একহাত কাছে নিতে ভোটারদের অনেকেই বিন্দুমাত্র কসুর করে না। অনেক নীতিবাক্য শোনান। কিন্তু ভোট দিতে গিয়ে ব্যালেটে সিল মারার সময় নিজের নীতিকথা বেমালুম ভুলে যান। তখন শুধুই মার্কা তালাশ করেন। প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে ঘায়েল করার মার্কা খুজে ফেরেন, দলের মার্কা, দলীয় চিন্তা তো আছেই। তাই প্রয়োজন ভালো নেতা পেতে হলে আগে নিজেকে ভালো ভোটার হতে হবে। নির্বাচনী মৌসুমে আরেকটি বিষয় লক্ষনীয় যে, নেতা নির্বাচনের সঙ্গে জাড়িয়ে যায় অর্থয়নের বিষয়টিও। যে কোন নির্বাচন এলেই সমাজের কিছু মানুষ নগদ টাকা নিয়ে বসে থাকেন। কালো টাকার মালিক, কালোবাজারী, সন্ত্রাসী, সুযোগ সন্ধানীরা তখন খুঁজে ফেরে কার পেছনে অর্থ খরচ করলে এবং তিনি নির্বাচিত হলে বৈধ-অবৈধ পথে কয়েকগুণ উসুল করে নেয়া যাবে। সব অপকর্ম টাকা এবং ঢাকা দিয়ে নিরাপদে থাকা যাবে। নির্বাচনে এ ধরনের কালো অর্থ বিনিয়োগ বন্ধ করা না গেলে সৎ নেতা নির্বাচন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিযন বা অন্য যে কোন সংস্থার দায়িত্ব রয়েছে স্ব স্ব ক্ষেত্রে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার। যাতে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার উপর জনসাধারণের আস্থা ফিরে আসে।

লেখক: মুহাদ্দিস ও প্রাবন্ধিক।