দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ‘অবৈধ’: হাইকোর্ট

 
 

index

জাতীয় ডেস্ক: : ঘরোয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রবিবার (৩০ জুলাই) বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে দুই দফা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলের শুনানি গত ২৫ জুলাই শেষ হয়। পরে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুলাই দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।

আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রায় ঘোষণা শুরু করেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ রায়ে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে বিইআরসি’র পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিতাস গ্যাসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইশরাত জাহান। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন সুব্রত চৌধুরী ও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিইআরসি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম।

এ মূল্যবৃদ্ধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট আবেদন করেন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কনজুমার কমপ্লেইন হ্যান্ডলিং ন্যাশনাল কমিটির আহ্বায়ক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন।

এ আবেদনের শুনানি নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ১ জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেন।

পরবর্তীতে বিইআরসির পক্ষে আপিলে আবেদন করার পর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। পাশাপাশি আপিল বিভাগ রুল শুনানি করতে নির্দেশ দেন।

সে অনুসারে হাইকোর্টে রুল শুনানি শেষ হয়। বিইআরসি ঘোষণা অনুযায়ী, মার্চ থেকে প্রতি চুলা গ্যাসের দাম ৭৫০ টাকা, এটা জুনে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৯০০ টাকায়। আর মার্চ থেকে দুই চুলা গ্যাসের দাম ৮০০ টাকা, যা জুনে গিয়ে দাঁড়ায় ৯৫০ টাকায়।

অন্যদিকে মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি গ্যাসের দাম বাড়ে ৩৮ টাকা। যেটা জুনে বেড়ে ৪০ টাকা হয়। মার্চ থেকে গ্যাসের বাণিজ্যিক ইউনিট প্রতি খরচ ১৪.২০ টাকা, আর জুন থেকে এ ক্ষেত্রে খরচ বাড়ে ১৭.৪০ টাকায়।

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ৩৪ ধারায় বলা হয়েছে, কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ট্যারিফ কোনো অর্থবছরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না, যদি না জ্বালানি মূল্যের পরিবর্তনসহ অন্য কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটে।’

কিন্তু সরকার ২৩ তারিখের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ১ মার্চ ও ২ জুন থেকে দুই দফায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিরোধিতা করে শুরু থেকেই আন্দোলন করে আসছিল দেশের বামদলগুলোসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন।

পরিবেশবাদী ও বিশিষ্টজনদের ভাষ্য- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এখন দেশি-বিদেশি কোম্পানির আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়েই অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছে সরকার। বিদেশি কোম্পানির স্বার্থেই বাপেক্সকে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে।