দুই পা ছাড়াই এভারেস্টের চূড়া জয়

 
 

৮৭৭৮৭৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: একটি কথা রয়েছে লক্ষ্য যদি থাকে অটুট স্বপ্নপূরণ হবেই একদিন না একদিন। হ্যাঁ সেই লক্ষ্য পূরণে স্বপ্নকে বাস্তব রুপ দিতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন চীনা নাগরিক শিয়া বোউ। ৪০ বছর আগে এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে গিয়ে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয়ে দুটো পা-ই হারাতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু তারপরও স্বপ্নপূরণে পিছপা হননি তিনি। সোমবার সকালে ৬৯ বছর বয়সী এই চীনা নাগরিক ২৯, হাজার ২৯ ফুট উচ্চতা অতিক্রম করে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন।

রেকর্ড গড়েছেন তিনি, কারণ এর আগে দুই পা নেই এমন কেউ নেপালের দিক থেকে এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে পারেননি। ২০০৬ সালে দুই পা হারানো আরেক পর্বতারোহী নিউজিল্যান্ডের মার্ক ইঙ্গলিস এভারেস্টে উঠেছিলেন তিব্বতের দিক থেকে। যেটাকে অপেক্ষাকৃত সহজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১৯৭৫ সাল থেকে শিয়া বোউ এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। গত বছর নেপালের সরকার যখন দুই পা কাটা এবং অন্ধদের জন্য এভারেস্টে ওঠা নিষিদ্ধ করে দেয়, তখন চরম হতাশায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি।

তবে এ বছর মার্চ মাসে নেপালের সুপ্রিমকোর্ট সরকারের ওই নিষেধাজ্ঞা বেআইনি ঘোষণা করলে এপ্রিল মাসে তিনি পঞ্চমবারের মতো এভারেস্ট অভিযান শুরু করেন।

অভিযান শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, এভারেস্টের চূড়ায় ওঠা আমার স্বপ্ন। আমাকে এ স্বপ্নপূরণ করতেই হবে। ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ, আমার দুর্ভাগ্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। শেষপর্যন্ত সোমবার সকালে তিনি তার স্বপ্নপূরণে সক্ষম হন।

শিয়া বোউ ১৯৭৫ সালে তার প্রথম অভিযানে এভারেস্টের চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে ফ্রস্ট বাইটে (ঠাণ্ডা) প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সেই অসুস্থতার জেরে পায়ে ক্যান্সার হওয়ায় ১৯৯৬ সালে হাঁটুর নিচ থেকে তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়।

এরপর ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে তিনি আবার অভিযানের জন্য নেপালে আসেন, কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং দুর্ঘটনার জন্য নেপাল সরকার দুবারই পর্বতারোহণ বন্ধ রেখেছিল। ২০১৬ সালেও মাত্র ২০০ মিটার ওঠার পর খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাকে ফিরে আসতে হয়েছিল। এক বছর বাদে আবার তিনি আসেন এবং এভারেস্ট জয় করেন।