ঢাবি ভিসি নিয়োগ: আরেফিনসহ ৩ জনের নাম প্রস্তাব

 
 

56425

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) পদের জন্য তিন জনের নাম প্রস্তাব করেছে সিনেট। এরা হলেন- বর্তমান ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক মো. আবদুল আজিজ।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিনেটের একটি সূত্র।

এর আগে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার গ্র্যাজুয়েট ১৫ জন শিক্ষকের এক রিট আবেদন শুনানি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য ডাকা সিনেটের বিশেষ সভা স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট।

পরবর্তীতে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আজ শনিবারে ডাকা সিনেটের বিশেষ সভা করতে বাধা নেই বলে আদেশ দেন। একইসঙ্গে ৩০ জুলাই পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির নির্দেশ দেন চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

এখন সিনেটে মনোনীত তিনজনের নাম যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে। তার মধ্য থেকে একজনকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেবেন তিনি। ভোটাভুটি হলে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া তিনজনের নামের প্রস্তাব যেত রাষ্ট্রপতির কাছে।

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের বর্তমান মেয়াদ শেষের (২৪ অগাস্ট) আগে সিনেটে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কিন্তু কয়েকজন শিক্ষকসহ ১৫ জন রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট এই সভা আটকাতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে স্থগিতাদেশও পেয়েছিলেন। কিন্তু আপিল বিভাগের আদেশে সভার পথ খুলে যায়।

১০৫ সদস্যের সিনেটের অর্ধেকের মতো সদস্য শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ভবনে সভায় বসেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দুজন উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সরকার মনোনীত পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা, স্পিকার মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, আচার্য মনোনীত পাঁচজন শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত গবেষণা সংস্থার পাঁচজন প্রতিনিধি, অধিভুক্ত কলেজগুলোর পাঁচজন অধ্যক্ষ, ১০ জন শিক্ষক প্রতিনিধি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি, ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি ও পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকেন সিনেটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, বর্তমানে ৫০ জন সিনেট সদস্য নেই। সিন্ডিকেট মনোনীত গবেষণা সংস্থার পাঁচজন প্রতিনিধি, অধিভুক্ত কলেজগুলোর পাঁচজন অধ্যক্ষ ও ১০ জন শিক্ষক প্রতিনিধি, ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি ও পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি বর্তমান সিনেটে নেই।

এদিকে একে ‘খণ্ডিত সিনেট’ আখ্যায়িত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীল দলের সাদেকা হালিম, যিনি রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট হিসেবে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। সাদেকা হালিম বলেন, “এতে গণতান্ত্রিক চর্চার ব্যত্যয় ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া সিনেট অধিবেশনের বিরোধিতা করে আসছেন। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র প্রতিনিধি নির্ধারণ করে সিনেটে উপাচার্য প্যানেল মনোনয়নের দাবিতে শনিবার সিনেট ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুসারেই সিনেটে উপাচার্য প্যানেল মনোনয়নের অধিবেশন ডাকা হয়।

খণ্ডিত সিনেটের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের মতো আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, কিছু সদস্য চলে গেলেও সিনেট চলমান থাকে। “অর্থাৎ সিনেটের কোনো ক্যাটাগরি অসম্পূর্ণ থাকলেও পুরো সিনেট অকার্যর হবে, এমন নয়। সিনেট সব সময় কার্যকর থাকবে।”