জুমার নামাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

 
 

213654

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: জুমার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন মজিদে সূরা আল জুমার ৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘হে মোমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বোঝো।’ এ আয়াতের মাধ্যমে জুমার নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। জুমার নামাজের তাগিদ শুধু পবিত্র কোরআনেই নয়, পবিত্র হাদিসেও এসেছে। হজরত তারেক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তিÑ এ চার ধরনের মানুষ ছাড়া সব মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য।’(আবু দাউদ : ১০৬৭; মুসতাদরেকে হাকেম : ১০৬২)।

কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়, তবে তার ব্যাপারে রয়েছে কঠের হুশিয়ারি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে, তার নাম মুনাফেক হিসেবে এমন দফতরে লিপিবদ্ধ হবে, যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তনও করা যাবে না।’ (তাফসিরে মাজহারি , ৯ম খ-, ২৮৩ পৃ.)।

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন এবং এটি দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন। ইবনে মাজাহে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর কাছে তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ আর মুসলিম শরিফের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যেসব দিনে সূর্য উদিত হয়েছে তন্মধ্যে সর্বোত্তম জুমার দিন। সে দিনেই আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সে দিনই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সে দিনই জান্নাত থেকে তাকে বের করা হয়েছে। যেদিন কেয়ামত হবে, সেদিনও হবে জুমার দিন।’

সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে জুমার দিনের ফজিলত অনেক বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে ফেরেশতারা মসজিদের প্রতিটি দরজায় দাঁড়িয়ে যান। তারা মসজিদে আগমনকারী মুসল্লিদের নাম পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। অতঃপর যখন ইমাম এসে যান, তখন তারা রেজিস্টার বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকেন। যে সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করে, সে একটি উট আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব লাভ করে। যে দুই নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি গরু আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়। যে তিন নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি দুম্বা দান করার সওয়াব পায়। যে চার নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি মুরগি দান করার সওয়াব লাভ করে। আর যে পাঁচ নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়।’ (বোখারি, মুসলিম, মুসনাদে শাফি : ৬২)।

হজরত সালমান (রা.) থেকে একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুন্দর করে গোসল করবে, অতঃপর তেল ব্যবহার করবে এবং সুগন্ধি নেবে, তার পর মসজিদে গমন করবে, দুই মুসল্লির মাঝে জোর করে জায়গা নেবে না, সে নামাজ আদায় করবে এবং ইমাম যখন খুতবা দেবেন, চুপ করে মনোযোগ সহকারে তার খুতবা শুনবে। দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ (মুসনাদে আবু দাউদ : ৪৭৯)।

জুমাবারের ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো, এ দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মোমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে একটা এমন সময় আছে, যে সময়ে কোনো মোমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন।’ (মুসলিম : ৮৫২; মুসনাদে আহমাদ : ৭১৫১)।

জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সে মহামূল্যবান সময় কোনটি? এ সম্পর্কে ৪৫টি মতামত পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত হলো, আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দোয়া কবুলের সময়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এ কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, হে দুনিয়ার মানুষ শোন! মহনবী (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের কাক্সিক্ষত সময়টা হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত।’ (ইবনে আবি শাইবা : ৫৪৬০; তিরমিজি : ৪৮৯)।