জাফলংয়ের মহাসড়ক কাদা জলে একাকার

 
 

gowainghat (1)দু’একদিন আগেও যেন পর্যটন কেন্দ্র জাফলং ছিলো ধুলোর রাজ্য। বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত থেমে থেমে আশা সেই এক পশলা মেঘ সেই ধুলোর রাজ্যের পুরো চিত্রই পাল্টে দিয়েছে। এই এলাকার মহা সড়কে এখন কাদা জলে একাকার। এই সড়ক দিয়ে যানবাহন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ জনের চলা ফেরা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

গেল কয়েকদিন সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে জাফলংয়ের তামাবিল শুল্ক ষ্টেশন এলাকা থেকে শুরু করে মামার বাজার বল্লাঘাট পিকনিক স্পট পর্যন্ত সর্বত্রই যেন ধুলোর ছড়াছড়ি। যান বাহন চলাচলের ক্ষেত্রে দিনের বেলাতেই হেড লাইট জালিয়ে চলতে হয়। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের তো শেষই নেই। এমতাবস্থায় বুধবার ভোর রাত থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও সকালে তুমুল বৃষ্টির কারনে ধুলো কমে আশার পাশাপাশি সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক এখন কাদাজলে একাকার । ধুলোর রাজ্যে এক পশলা মেঘের কারণে জাফলংয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক সহ স্থানীয় জনমনে যেমন প্রশান্তি ফিরে এসেছে ঠিকই। কিন্তু রাস্তায় কাদা-জলের কারণে যানবাহন সহ সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পরেছে। অপার সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি প্রকৃতি কন্যা জাফলং। দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ও খনিজ সম্পদ পাথরের ভান্ডার জাফলং। দেশ বিদেশের সব জায়গায়ই রয়েছে এর অনেক খ্যাতি ও পরিচিতি।

তাছাড়াও খনিজ সম্পদ পাথরের বিশাল ভান্ডার রয়েছে জাফলংয়ে। দেশের বড় বড় রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, ইমারত সহ যত স্থাপনা তৈরী হয়ে থাকে এর সিংহভাগ চাহিদাই পুরন হয় জাফলং এর পাথর দিয়ে। আর এসব পাথর পরিবহন ও ক্রয় বিক্রয়ের সুবাদে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের যাতায়ত এবং জাফলংয়ের নৈস্বর্গিক সোন্দর্য্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশী হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে পর্যটন কেন্দ্র জাফলং। সরকারও এখান থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায় করেন প্রতিবছর। কিন্তু এরপরও এই অপার স্যেন্দর্য্যর যাতায়তের রাস্তাটি বেহাল অবস্থা পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে রাষ্ট্রের অনুদার ও আন্তরিক মনোভাবের পরিচয় বহন করে। জাফলংয়ের তামাবিল শূল্ক ষ্টেশন-বল্লাঘাট এলাকা এখন ধুলোর রাজ্য পরিনিত হয়েছে। যার দরুন এই সকল রাস্তা দিয়ে যাতায়তের ক্ষেত্রে পর্যটকসহ স্থানীয় এলাকবাসীর সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কে ধুলো বালির উৎস হিসেবে সরজমিন জাফলং পর্যটন এলাকা পরিদর্শন কালে আরও দেখা গেছে, তামাবিল শূল্ক ষ্টেশনের আশপাশ এলাকায় মহাসড়কের পাশে অপরিকল্পিত ভাবে ডাম্পিং স্থাপন করে ভারত থেকে এলসির মাধ্যেমে আমদানীকৃত পাথর রাখা হয়। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন ক্রাশার মিলে পাথরগুলো সরবরাহ করা হয়। এতে করে পাথর লোড-আনলোড করার সময় গুড়া বা ডাস্ট এর সৃষ্টি হয়। আবার ১নং আপ এলাকায় মহাসড়কের দুপাশে স্থাপিত ছোট ছোট ক্রাশার মেশিন গুলো থেকে পাথর ভাঙ্গার সময় ডাস্ট উড়ে এসে রাস্তায় পড়ছে। মামার বাজার ও বল্লাঘাট এলাকাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। ধুলা-বালি সৃষ্টি রোধে ক্রাশার মেশিন গুলোতে পাথর ভাঙ্গার সময় পানি ব্যবহার করার কথা থাকলেও এ নিয়ম মানছেনা কেউ। এইসব ক্রাশার মিলের ডাষ্ট ও রাস্তার ধোলোর কারনেই জন সাধারনকে পোহাতে হয় চরম ভুগান্তি। ফলে প্রতিনিয়তই এসব এলাকায় যাতায়তকারী মানুষজন এবং মিলগুলোতে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীরা শাস কষ্ট, হাপানী, কাশি এবং সিলোকোসিস’র মতো ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন গুচ্ছগ্রাম সীমান্ত যুব সংঘের সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, শীত মৌসুমে এই এলাকায় থাকে ধুলোর ছড়াছড়ি। অপরদিকে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দে ভরা মহা সড়কে কাদা জলে একাকার থাকে। আমাদের এ দূর্ভোগের শেষ নেই। তাই তিনি সহ স্থানীয় এলাকাবাসি সিলেট তামাবিল মহা সড়কের মামার বাজার বল্লাঘাট এলাকার খানাখন্দে ভরা রাস্তা সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।