ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার

 
 

0000সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: শেয়ারবাজারে নিয়ম ভেঙে বিনিয়োগ করাসহ বিভিন্ন অসঙ্গতির দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সাত ব্যাংককে জরিমানা করার খবর ছড়িয়ে পাড়ার পর সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। তবে এক কার্যদিবসের ব্যবধানেই মঙ্গলবার ব্যাংকিং খাত ঘুরে দাঁড়ানোয় শেয়ারবাজারের সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা ফিরে এসেছে।

এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে কিছুটা কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। সেই সঙ্গে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ারের দাম কমেছে। তা সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্য সূচকের পতন হয়নি।

এর আগে রোববার একটি সরকারি ও ৬টি বেসরকারি ব্যাংককে জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে নির্ধারিত সীমার বেশি বিনিয়োগ করেছে। সেই সঙ্গে বাড়তি বিনিয়োগের তথ্য গোপন করেছে।

গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সোমবার ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক দরপতন হয়।

ফলে গতকাল দাম বাড়ার তালিকায় একটি ব্যাংকও স্থান করে নিতে পারেনি। আর আর্থিক খাতের মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ে। তবে এক কার্যদিবস পর আজ (মঙ্গলবার) পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মাত্র ৪টি ব্যাংকের দরপতন হয়। বিপরীতে ২৩টি ব্যাংকের দাম বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সাত ব্যাংককে জরিমানা করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাদের নাম প্রকাশ করা হলে সোমবার বড় দরপতন হতো না।

তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন পদক্ষেপে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বরং তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা সার্বিক বাজারের জন্য ভালো।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক শাকিল রিজভী জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাত ব্যাংককে জরিমানা করা এবং শেয়ারের দাম টানা বৃদ্ধির কারণেই সোমবারের দরপতন হয়েছে। তবে এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাজারের অবস্থা ২০১০ সালের মতো হবে না। কারণ এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার কম।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর আর এক পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের সমালোচনা করে জাগো নিউজকে বলেন, তারা সাত ব্যাংককে জরিমানার তথ্য সংবাদ মাধ্যমকে দিল, অথচ তাদের নাম দিল না, এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ হয়েছে। বাংলাদেশ ওই ব্যাংক তাদের নাম প্রকাশ করলে সোমবার এত বড় দরপতন হতো না।

বাজার পর্যালোচনা দেখা যায়, মঙ্গলবার মূল্যসূচকের নিম্নমুখীতায় ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। তবে সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে সূচক। ফলে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ১৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

অপর দুটি মূল্যসূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৭ পয়েন্টে। তবে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৪৭ পয়েন্টে নেমেছে।

আজ ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম গতকালের তুলনায় কমেছে। অপরদিকে বেড়েছে ১০৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির দাম।

এদিন মোট ৭৬৫ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯৬৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসেবে মঙ্গলবার লেনদেন কমেছে ২০২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে আজ সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার। এদিন প্রতিষ্ঠানটির ৪৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার। আর ৩৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এক্সিম ব্যাংক।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- উত্তরা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, আমরা নেটওয়ার্ক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক।

এদিন অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৪৩ পয়েন্টে। সিএসইতে আজ ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৪৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে আগের দিনের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮২টির। অপরদিকে কমেছে ১৪০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির দাম।