গ্রেনফেল টাওয়ারে নিহতদের দু’জন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি

 
 

123654687

সিলেটপ্রেস ডেস্ক :: যুক্তরাজ্যের পশ্চিম লন্ডনের ২৪ তলা ভবন গ্রেনফেল টাওয়ারে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে দু’জন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে সোমবার লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্ভিসের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) নাদীম কাদির ই-মেইল বার্তায় খবরটি দেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের এ দুই দ্বৈত নাগরিকের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন হুসনা বেগম (জন্ম: ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫) ও রাবেয়া বেগম (জন্ম: ১৫ নভেম্বর ১৯৫২)। তাদের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ না করলেও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা থাকতেন গ্রেনফেল টাওয়ারের ১৪২ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টে।

ধারণা করা হচ্ছে, এ দু’জনের সম্পর্ক ছিল মা ও মেয়ের। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির বাসিন্দাদের মধ্যে একটি বাংলাদেশি পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আগুন ধরার পর গ্রেনফেল টাওয়ারের ১৮ তলায় মা-বাবাকে ফেলে না এসে তাদের সঙ্গে মৃত্যুকে বেছে নিয়েছিলেন তিন ভাইবোন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের যুক্তরাজ্য সংস্করণ এই খবর দেয়। রাবেয়া ওই পরিবারের মা আর হুসনা তার মেয়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাবেয়ার স্বামী কমরু মিয়ার পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আকাইলকুড়া ইউনিয়নের কৈশাউড়া গ্রামে। তাদের অন্য দুই সন্তান আবদুল হানিফ আর আবদুল হামিদও অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। আগুনের ঘটনার দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ফোনে তিন ভাইবোন তাদের এক স্বজনকে জানান, অসুস্থ বাবা-মাকে ১৮ তলা থেকে নামানো সম্ভব নয়। মা-বাবাকে মৃত্যুমুখে রেখে নিজেরা বাঁচতে চাননি তারা। তাই চিরবিদায় নিয়ে নেন তারা।

গত ১৪ জুন ওই ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭৯ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি। তারা সবাই নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে লন্ডন পুলিশ। তবে গ্রেনফেল টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষে আরও লাশ মিললে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।